ঢাকা, সোমবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৭ মে ২০২৪, ১৮ জিলকদ ১৪৪৫

ক্রিকেট

ছয় ফিফটিতে শ্রীলঙ্কার ৫৩১

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬২৫ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০২৪
ছয় ফিফটিতে শ্রীলঙ্কার ৫৩১

টানা তৃতীয় সেঞ্চুরির দুয়ারে থাকলেও তা পাননি কামিন্দু মেন্ডিস। অপর পাশে কোনো সঙ্গী না পেয়ে ৯২ রানে অপরাজিত থেকেই থামতে হলো তাকে।

তবে ঠিকই নাম লিখিয়েছেন বিরল এক কীর্তিতে। ক্যারিয়ারের প্রথম চার টেস্টেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। তার আগে এই ক্লাবে নাম করে নিয়েছেন কেবল অস্ট্রেলিয়ার হার্বি কলিন্স ও ভারতের সুনীল গাভাস্কার।

কামিন্দুর মতোই চট্টগ্রাম টেস্টে ফিফটির দেখা পেয়েছেন শ্রীলঙ্কার আরও পাঁচ ব্যাটার। প্রথম ইনিংসে সাড়ে ৫ সেশন ব্যাট করে ৫৩১ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারীরা। সেঞ্চুরি ছাড়া এটাই কোনো দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে ১৯৭৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫২৪ রান করেছিল ভারত। সর্বোচ্চ ৭০ রান আসে মহিন্দর অমরনাথের ব্যাট থেকে।

দ্বিতীয় দিনের সকালে আকাশ ছিল বেশ মেঘলা। পুরো প্রথম সেশনেই ছিল মেঘের আনাগোনা। যদিও শেষ অবধি বৃষ্টি আসেনি। কিন্তু ম্যাচের ধরন থেকে গেছে একই। দিনের প্রথম ঘণ্টায় লঙ্কানদের কোনো উইকেট তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।  

প্রথম সাত ওভার পেসারদের দিয়ে করানোর পর সপ্তম ওভারে গিয়ে স্পিনার আনেন অধিনায়ক শান্ত। একপ্রান্তে স্পিন, আরেকদিকে পেসার; কিছুক্ষণ এমন চেষ্টার পর দুই দিক থেকেই স্পিনার নিয়ে আসেন তিনি। এ দফায় সফল হন।  

উইকেট এনে দেন সাকিব আল হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথে ঝুলিয়ে দেন সাকিব। সামনের পায়ে এসে ডিফেন্স করার চেষ্টা করেন চান্দিমাল। তার ব্যাট ছুয়ে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাসের গ্লাভসে। ভেঙে যায় চান্দিমালের সঙ্গে ধনঞ্জয়ার ৮৯ রানের জুটি।  

এরপর উইকেটে আসেন কামিন্দু মেন্ডিস। তিনি ও ধনঞ্জয়া প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন, গড়েছিলেন বড় জুটি। লাঞ্চ বিরতি অবধি ৭৬ বলে ৩৬ রানের জুটি হয়ে গেছে তাদের। ১০৮ বলে ৭০ রান করে ধনঞ্জয়া ও ৪১ বলে ১৭ রানে অপরাজিত কামিন্দু।  

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই উইকেটের দেখা পেয়ে যায় বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন খালেদ আহমেদ। ৬ চার ও ২ ছক্কায় ১১১ বলে ৭০ রানে আউট হয়ে যান ধনঞ্জয়া।  

নিজের পরের ওভারেও উইকেট পেতে পারতেন খালেদ। কিন্তু এ দফায় ওই ক্যাচ মিসের কারণেই ভুগতে হয় বাংলাদেশকে। এবারের সুযোগ হাতছাড়া জন্ম দিয়েছে বেশ আলোচনারও। ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।  

সেটি শুরুতে যায় প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে। তার হাত থেকে ছুটে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো শাহাদাৎ হোসেন দীপুর হাত থেকেও ছুটে যায়। পরে তৃতীয় স্লিপে দাঁড়ানো জাকির ঝাঁপিয়ে অল্পের জন্য বল হাতে পাননি।

এরপর উইকেট পাওয়ার জন্য লম্বা অপেক্ষাই ছিল বাংলাদেশের। মাঝে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে কামিন্দু মেন্ডিসের ক্যাচ নেন লিটন। কিন্তু আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান কামিন্দু। এর মধ্যে প্রবাথ জয়াসুরিয়ার ক্যাচ ছাড়েন লিটন।  

বাংলাদেশকে এই সেশনে দ্বিতীয় উইকেটটি এনে দেন সাকিব। তার বলে এলবিডব্লিউ হন দুই দফায় জীবন পাওয়া প্রবাথ জয়াসুরিয়া। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। ৭৫ বল খেলে ২৮ রান করেন প্রবাথ। শেষ সেশনে  বাকি তিন উইকেট হারালেও ৫৫ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন সাকিব। এছাড়া হাসান মাহমুদ দুটি, খালেদ আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার একটি করে উইকেট।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২২ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০২৪
এএইচএস 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।