bangla news

হরিণগুলো খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে আসছে

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১২-০৩-২৫ ২:৪৯:৫৯ এএম

আবাসস্থলে খাদ্য ও মিঠা পানির সংকট, নির্বিচারে গাছ কাটা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভাল নেই ভোলার বনাঞ্চলের হরিণগুলো।

ভোলা : আবাসস্থলে খাদ্য ও মিঠা পানির সংকট, নির্বিচারে গাছ কাটা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভাল নেই ভোলার বনাঞ্চলের হরিণগুলো।

খাদ্যের সন্ধানে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে প্রায় প্রতিদিনই লোকালয়ে ছুটে আসছে হরিণের দল। হরিণ দেখে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করছে। ফলে প্রয়োজনীয় খাদ্য পাচ্ছে না সৌন্দর্যের প্রতীক ও বনের বাস্তুসংস্থানের অন্যতম ধারক হরিণ।

লোকালয়ে আসার কারণে হরিণদের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে এবং আর এ কারণে বনের মধ্যে হরিণের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বন বিভাগ সূত্র মতে, গত এক সপ্তাহে বন বিভাগ সাতটি হরিণ উদ্ধার করে। এদের মধ্যে একটি হরিণ মারা গেছে।

অন্যদিকে লোকালয়ে হরিণের আগমনকে কেন্দ্র করে চোরা শিকারিরাও তৎপর হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বন বিভাগ আরো জানায়, ভোলার কুকরী-মুকরী, ঢালচর, চর উড়িল, বদনার চর, সাকুচিয়া, হাজিরহাট ও চর পাতিলায় রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার চিত্রা প্রজাতির হরিণ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ থেকে দল বেধে হরিণ মনুপরা ও তজুমদ্দিনসহ বিভিন্ন স্থানে চলে আসছে। এরমধ্যে কিছু আসছে খাদ্যের সন্ধানে এবং কিছু মিঠা পানির সন্ধানে।

লোকালয়ে হরিণের আসার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে বন বিভাগ।

এর মধ্যে বনদস্যুরা বনের গাছ কেটে সাবাড় করছে, প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি না হওয়া, বনের তুলনায় হরিণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনগত প্রভাবই উল্লেখযোগ্য বলে তারা জানান।

তবে আশার কথা হল, লোকালয়ে হরিণ যাতে না আসে এবং অভয়ারণ্যে হরিণের খাদ্য ও মিঠা পানির সমস্যা দূর করতে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নিচ্ছে বনবিভাগ।

মনপুরা মহিলা কলেজের প্রভাষক মাহাবুবুল আলম শাহিন বলেন, ‘হঠাৎ করেই লোকালয়ে আসতে শুরু করেছে হরিণ। গভীর বনে গিয়েও যে হরিণের দেখা পাওয়া দুষ্কর, সে হরিণই এখন মানুষ দেখছে। তবে এদের দেখতে পেয়েই ধরার জন্য তাড়া করছে মানুষ। কিছু চোরা শিকারীরা আবার তৎপর হয়ে উঠেছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাল পেতে ও বন্দুক দিয়ে হরিণ শিকারে এক শ্রেণীর শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা পুলিশ ও বন বিভাগের চোখের আড়ালে জঙ্গল থেকে হরিণ ধরে মাংস ও চামড়া বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। এর সঙ্গে কিছু অসাধু জেলে জড়িত রয়েছে।

এ ব্যাপারে তজুমদ্দিন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘চোরা শিকারিরা যাতে হরিণ শিকার করতে না পারে সে দিকে পুলিশের কঠোর নজরদারি রয়েছে।’

এ ব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েকদিনে কয়টি হরিণ লোকালয়ে এসেছে তার সবগুলোই নিঝুম দ্বীপ থেকে আসা। সেখানে হরিণের আবাসস্থলের তুলনায় হরিণের সংখ্যা অনেকটা বেশি। তাই হরিণ বন ছাড়ছে।’

তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও এমটি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করছেন। ওই স্থান থেকে কিছু হরিণ অন্য বনে ছাড়লে এ সমস্যা কিছুটা কমবে।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব খোয়াখালীর বন বিভাগের। চোরা শিকারিরা যাতে হরিণ শিকার করতে না পারে সেদিকেও বন বিভাগ তৎপর রয়েছে।

বাংলাদেশ সময় : ১২৩৩ ঘণ্টা, মার্চ ২৫, ২০১২

প্রতিবেদন : ছোটন সাহা
সম্পাদনা : তানিয়া আফরিন, নিউজরুম এডিটর

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2012-03-25 02:49:59