bangla news

নিঝুমদ্বীপে হরিণের বিপদ!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১২-০২-০২ ৬:০৯:২২ এএম

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের বিরাট একটা অংশজুড়ে রয়েছে প্রাণিকুলের সুন্দরতম সদস্য হরিণ। কিন্তু কখনো সচেতনতার অভাবে আবার কখনো অর্থের লোভে হরহামেশাই এদেরকে নির্বিচার নিধন ও শিকার করা হচ্ছে।

ঢাকা: বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের বিরাট একটা অংশজুড়ে রয়েছে প্রাণিকুলের সুন্দরতম সদস্য হরিণ। কিন্তু কখনো সচেতনতার অভাবে আবার কখনো অর্থের লোভে হরহামেশাই এদেরকে নির্বিচার নিধন ও শিকার করা হচ্ছে। শিকারি, পাচারকারী ও সাধারণ মানুষের সবাই এই শিকার আর নিধনযজ্ঞে জড়িয়ে পড়েছে।

চঞ্চল আর দৃষ্টিনন্দন এ প্রাণীটির সঙ্গে নোয়াখালীর হাতিয়া চরাঞ্চলের একশ্রেণীর মানুষের আচরণে হতবাক হয়ে পড়ছেন বিবেকবানরা। বিশেষ করে উপজেলার নিঝুমদ্বীপে চলছে অবাধে হরিণ নিধন।

হরিণগুলো নানান কায়দায় পাকড়াও করে তোদের সঙ্গে হিংস্র প্রনর মত আচরণ করা হচ্ছে। হরিণ শিকার বা  ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে প্রকাশ্যেই হরিণ ধরে তাকে লোহা লক্করের মত বেঁধে রিকাশায় করে নিয়ে যাওয়অর দৃশ্য এখানে খুবই সাধারণ এখন। এই অপরিণামদর্শী আচরণে হুমকির মুখে পড়ছে অ্র অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যও।

খাদ্য ও পানির অভাবে প্রায়ই উপজেলার বিভিন্ন বন থেকে লোকালয়ে চলে আসছে হরিণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয়রা এসব হরিণ শিকার করে খেয়ে ফেলছে। এর মধ্যে কিছু হরিণ আবার আটক করে স্থানীয় বনবিভাগের কর্মীদের খবর দেওয়া হয়।

পরে বনবিভাগের লোকজন হরিণগুলো উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করে। তবে এর মধ্যে যদি কোনো হরিণের চিকিৎসার দরকার হয়, তাহলে উপজেলা পশুসম্পদ হাসপাতালের চিকিৎসকদের মাধ্যমে প্রয়োজনমতো প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বনবিভাগের সংরক্ষিত বনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, লোকালয়ে আসা হরিণগুলো ধরার সময়, ধরে রিকশায় করে বা অন্য কোনোভাবে এক স্থান থেকে অন্য কোথাও নেওয়ার সময় এগুলো আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। পরে চিকিৎসা দেওয়া হলেও এসব হরিণ দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

বন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এভাবে বেশিদিন চলতে থাকলে সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন নিঝুমদ্বী থেকে হরিণ (বিশেষত চিত্রল প্রজাতির হরিণ) বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

হতিয়ার বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘কুকুরের আক্রমণ, আবাসন সংকট এবং খাদ্য ও মিঠা পানির অভাবে প্রতিবছর নিঝুমদ্বীপ, ঢালচর, কাজির বাজার, জাগলারসহ বিভিন্ন বন থেকে অনেক হরিণ লোকালয়ে চলে আসে। পরে স্থানীয় জনতার হাতে হরিণগুলো আটক হয়। অনেকে আবার হরিণ শিকার করে খেয়ে ফেলে।’

এদিকে, এরই ধারাবাহিকতায়, বুধবার দুপুরে লোকালয়ে চলে আসা চিত্রল প্রজাতির ৪টি হরিণ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করে বনবিভাগ।

বন প্রহরী আবুল হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে চরঈশ্বর বড় বাঁধের গোড়া, পৌরসভার খবির মিয়া, তমরুদ্দি বাজার ও আফাজিয়া বাজার থেকে ১টি করে মোট ৪টি হরিণ আটক করে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মকর্তারা ওই সব এলাকায় গিয়ে হরিণগুলো উদ্ধার করে।

উদ্ধারকৃত হরিণগুলোর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ের দাগ থাকায় উপজেলা পশুসম্পদ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে কাজির বাজারের বনে হরিণগুলো অবমুক্ত করা হয়।

তবে ধরার সময় ধস্তাধস্তিতে হরিণগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

এদিকে, প্রতিনিয়ত স্থানীয় লোকজন হরিণ উদ্ধারের নামে হরিণ শিকার করে আসছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব খবর বনবিভাগের লোকজনের কাছে যাচ্ছে না।

অবিলম্বে এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অচিরেই নিঝুমদ্বীপ থেকে হরিণ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

আর যদি তা হয়, তাহলে এর বিরুপ প্রভার পড়বে আমাদের ইকোলোজির (বাস্তুসংস্থান) ওপর।   

বাংলাদেশ সময়: ১৭০১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০১২

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জলবায়ু ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
db 2012-02-02 06:09:22