ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জলবায়ু ও পরিবেশ

২০২২ সাল সুন্দরবন দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ের প্রত্যয়

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৪৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২১
২০২২ সাল সুন্দরবন দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ের প্রত্যয় সুন্দরবন দিবসের আলোচনা সভা।

খুলনা: আগামী বছর ২০২২ সালেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে সুন্দরবন দিবস পালনের প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে সুন্দরবন দিবস উদযাপিত হয়েছে।

বিশ্ব ভালবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালোবাসুন- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সুন্দরবন দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ভার্চুয়াল এ আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মো. মইনুদ্দিন খান। মুখ্য আলোচক ছিলেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন।

সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন একাডেমির উপদেষ্টা এবং রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, বন বিভাগের ডিসিএফ জাহের ইকবাল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস-এর পরিচালক প্রফেসর এ কে ফজলুল হক,  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. দিলীপ দত্ত, সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক ফারুক আহমেদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, খুলনা প্রেস ক্লাব সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন, শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল মালেক রেজা, বাগেরহাট ফাউন্ডেশন আহাদ উদ্দিন হায়দার, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা, সাংবাদিক বাবুল দাস, উন্নয়নকর্মী শেখ জার্জিস উল্লাহ প্রমুখ।

বক্তারা তাদের আলোচনায় বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বনবিভাগ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সংগঠন এবং পরিবেশবাদীদের সমন্বয়ে যৌথ উদ্যোগ জরুরি। এ ছাড়া সুন্দরবন নিয়ে মৌলিক গবেষণা প্রয়োজন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সুন্দরবন সুরক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবন ব্যবস্থাপনা প্ল্যানকে যুগোপযোগী করতে হবে। ১০০ বছরের পুরানো প্ল্যান দিয়ে যথাযভথাবে সুন্দরবন সুরক্ষা হবে না। সুন্দরবনের আশপাশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। এ কার্যক্রমে সুন্দরবনে কী ক্ষতি হচ্ছে তার সমীক্ষাও প্রয়োজন। সুন্দরবনকে সার্বজনীন ভালবাসার বস্তুতে পরিণত করতে হবে। এজন্য  সুন্দরবন দিবসের সরকারি স্বীকৃতি দরকার। অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সুন্দরবনের সুরক্ষার বিষয়টি ভাবতে হবে। সুন্দরবন সম্পদ আহরণের আধার- এই দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিতে হবে। সুন্দরবন থেকে আমাদের রাজস্ব আহরণ এখন আর জরুরি নয়। এখন জরুরি সুন্দরবনকে রক্ষা করা। এজন্য জনগণের মধ্যে সুন্দরবনের মালিকানাবোধ তৈরি করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে খুলনায় অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন। নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্য পাওয়া সে সম্মেলনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন সেই সময়ের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ। ২০০১ সালের সেই সুন্দরবন সম্মেলনের পরের বছর থেকেই খুলনাসহ সুন্দরবন সন্নিহিত জেলাগুলোতে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সুন্দরবন দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২১
এমআরএম/কেএআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa