bangla news

হাকালুকিতে পাখিশুমারি, গত বছরের চেয়ে বেড়েছে জলচর পাখি

ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০১-৩১ ২:৩৯:৪১ পিএম
হাকালুকিতে মহাবিপন্ন বেয়ারের-ভুতিহাঁস। ছবি- বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব

হাকালুকিতে মহাবিপন্ন বেয়ারের-ভুতিহাঁস। ছবি- বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব

মৌলভীবাজার: সিলেট-মৌলভীবাজার জুড়ে বিস্তৃত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি হাকালুকি হাওরে পাখিশুমারি করা হয়েছে। শুমারি অনুসারে গতবছরের তুলনায় এ বছর জলচর পাখির সংখ্যা বেড়েছে। পাওয়া গেছে ৫৩ প্রজাতির পাখি। 

গত ২৮ ও ২৯ জানুযারি দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশ’র যৌথ উদ্যোগে হাকালুকির ৪০টি বিলে এ পাখিশুমারি করা হয়। 

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও আইইউসিএন এর ড. পল থমসন, ইনাম আল হক, ওমর শাহাদাত, শাহেদ ফেরদৌস, শফিকুর রহমান, তারেক অণু প্রমুখ এ শুমারিতে অংশগ্রহণ করেন।

শুমারি নিয়ে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বাংলানিউজকে বলেন, অতি সম্প্রতি হাকালুকির হাওরের পাখি গণনায় সর্বমোট ৫৩ প্রজাতির ৪০ হাজার ১২৬ জলচর পাখি পাওয়া গেছে। এ সংখ্যা ২০১৯ সালের চেয়ে কিছুটা বেশি। গত বছর আমরা পেয়েছিলাম ৩৭ হাজার ৯৩১টি পাখি। তবে এর আগে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এ দুই বছরের চেয়ে পাখির সংখ্যা বেশি ছিল। ২০১৮ সালে পাখি পাওয়া গিয়েছিল ৪৫ হাজার ১০০টি। ২০১৭ সালে মিলেছিল ৫৮ হাজার ২৮১টি পাখি। 

‘পাখিসমৃদ্ধ বিলের মধ্যে প্রথম হলো চোকিয়া বিল। এ বিলে আমরা মোট ৫ হাজার ৪৩০টি পাখি পেয়েছই। দ্বিতীয় স্থানে আছে চ্যাতলা বিল। আমাদের গণনায় এই বিলে পাওয়া গেছে ৫ হাজার ১৪৭টি পাখি। এরপরপরই ফুটবিল ও বালিয়াজুরি বিলে যথাক্রমে ৪ হাজার ৯৮৩ ও ৩ হাজার ৩০৫টি জলচর পাখির বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে।’

টেলিস্কোপ কাঁধে নিয়ে হাকালুকির পাখিশুমারিতে অংশ নিচ্ছেন ড. পল থমসন।। ছবি- বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব

এ পাখি বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, অত্যন্ত আশার কথা হলো শুমারিতে হুমকির মুখে আছে এমন ৬ প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে। এগুলো হলো- ‘মহাবিপন্ন’ বেয়ারের-ভুতিহাঁস (Baer’s Pochard,  ‘সংকটাপন্ন’ পাতি-ভুতিহাঁস (Common pochard) ও ‘প্রায়-সংকটাপন্ন’ মরচেরঙ-ভুতিহাঁস (Ferruginous Duck), ফুলুরি-হাঁস (Falcated Duck), কালামাথা-কাস্তেচরা (Black-headed Ibis), উত্তুরে-টিটি (Vanellus vanellus) ও উদয়ী-গয়ার (Oriental Darter)।

হাকালুকির যে সব বিলে পাখিশুমারি হয়েছে সেগুলো হলো- হাওয়াবন্যা, কালাপানি, রঞ্চি, দুধাই, গড়কুড়ি, চোকিয়া, উজান-তরুল, ফুট, হিংগাউজুড়ি, নাগাঁও, লরিবাঈ, তল্লার বিল, কাংলি, কুড়ি, চেনাউড়া, পিংলা, পরোটি, আগদের বিল, চেতলা, নামা-তরুল, নাগাঁও-ধুলিয়া, মাইছলা-ডাক, চন্দর, মালাম, ফুয়ালা, পলোভাঙা, হাওড় খাল, কইর-কণা, মোয়াইজুড়ি, জল্লা, কুকুরডুবি, বালিজুড়ি, বালিকুড়ি, মাইছলা, গড়শিকোণা, চোলা, পদ্মা, কাটুয়া, তেকোণা, মেদা, বায়া, গজুয়া, হারামডিঙা, গোয়ালজুড়। 

শুমারিকালে হাওড়খাল বিলে বিষটোপ দিয়ে মারা পাখির সন্ধানও মেলে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব। পাখি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড হুমকি বলে উল্লেখ করেছে তারা। 

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩১, ২০২০
বিবিবি/এইচজে

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-01-31 14:39:41