bangla news

হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ, বিলিন কবিরাজি পেশা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৩-১২-০৭ ১০:০৮:০৪ এএম

দেশব্যাপী হুমকির মুখে ভেষজ উদ্ভিদ। নেই সংরক্ষণের কার্যকরী কোনো উদ্যোগ। কবিরাজি, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও অ্যালোপেথিক ওষুধ তৈরিতে ভেসজ উদ্ভিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ময়মনসিংহ: দেশব্যাপী হুমকির মুখে ভেষজ উদ্ভিদ। নেই সংরক্ষণের কার্যকরী কোনো উদ্যোগ। কবিরাজি, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও অ্যালোপেথিক ওষুধ তৈরিতে ভেসজ উদ্ভিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে সারা দেশের মতো এক সময়ের ভেষজ গাছ-গাছড়া সমৃদ্ধ ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে উজাড় হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান ও উপকারী সব ভেষজ উদ্ভিদ।
vesoj-2
নগরায়ণ, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা, অসচেতনতা আর যত্রতত্র গাছ কেটে বসতি স্থাপনের ফলে অযতœ-অবহেলায় মহামূল্যবান এসব ভেষজ উদ্ভিদ হয়ে যাচ্ছে বিলুপ্ত।

এসব কারণে কবিরাজি চিকিৎসাও এখন ক্লিনিক্যালি ডেথ। সংরক্ষণ করা গেলে দেশের ভেষজ উদ্ভিদের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে অভিমত উদ্ভিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীদের।

ময়মনসিংহে এক সময় ছিল ভেষজ উদ্ভিদের বিপুল ভাণ্ডার। জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে বসতবাড়ি, নদী, পুকুরপাড়সহ বিভিন্ন অনাবাদি জমিতে থানকুনি, অর্জুন, মেহগনি, কালো তুলসী, রাম তুলসী, মেহেদি, চন্দনসহ বিভিন্ন গাছ ও লতাপাতার দেখা মিলতো।

এছাড়া এখানকার বেশিরভাগ এলাকায় ছিল প্রচুর গাছপালা, বন-বাদাড়, ঝোপঝাড় ও লতাগুল্ম সমৃদ্ধ। এসব বন-বাদাড়, ঝোপঝাড়ে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নিতো ভেষজগুণ সমৃদ্ধ শত শত প্রজাতির উদ্ভিদ। যে কারণে স্বল্প ব্যয়ে সহজলভ্য কবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এ অঞ্চলে লাভ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
vesoj-3
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতি, ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার, নতুন স্থাপনা নির্মাণসহ নানা কারণে ঝোপঝাড় পরিস্কার, গাছপালা কাটা ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ফলে এ অঞ্চলের বন্য প্রাণীকূল যেমন বিলুপ্ত হয়েছে, তেমন উপকারী সব গাছ-গাছড়াও উজাড় হয়ে যাচ্ছে। বৃক্ষ, গুল্ম, বিরুৎ সবই হারিয়ে যাচ্ছে কোথাও দ্রুত, কোথাও ধীরে ধীরে। এর ফলে কবিরাজি চিকিৎসাও পড়েছে মহা সঙ্কটে।

এমনিতেই বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় কবিরাজি চিকিৎসা বিলীন হতে চলেছে। তার উপর ভেষজ উদ্ভিদের এ মহাসঙ্কট ভাবিয়ে তুলছে গ্রামাঞ্চলের কবিরাজদের। এ দুর্গতিকে অনেক কবিরাজ ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে কবিরাজি পেশা বদল করছেন। ঝুঁকে পড়ছেন অন্য পেশায়। ভেষজ উদ্ভিদের এমন আকাল গ্রামাঞ্চলের কবিরাজদের পেশা ত্যাগে বাধ্য করছে বলে একাধিক কবিরাজ মনে করেন।     

vesoj-4ভালুকা উপজেলার মেনজান গ্রামের আমজান আলী কবিরাজ ও ভরাডুবা গ্রামের ওয়াজেদ আলী কবিরাজ জানান, একসময় যেখানে সেখানে থানকুনি, বিলাই আছড়া, কাটানটে, ভাং, কালো ধুতরা, বনবেগুন, উলটকম্বল, রাম চন্ডাল, কালো তুলসী, রাম তুলসী, শতমূলী, অগ্নিশ্বর, রক্তচিতা, দুধরাজ, ফণিমনসা, ন্যাড়াসেজার, কালোমেঘ, বনধনে, লজ্জাবতী, বিষকাটালী, নীলকণ্ঠ, আকন্দ, সর্পগন্ধ্যা, বিশলা করণী, ঈশ্বরীমূল, পিপুল, বাসক, দাদমর্দন, একাঙ্গি, ভেরেন্ডা, তাল মাঘনা, যজ্ঞ ডুমুর, ভুই আমলা, স্বর্ণলতাসহ নানা জাতের গাছ-গাছড়া প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নিতো।

ফলে প্রয়োজনীয় গাছ-গাছড়ার জন্যও চিন্তাভাবনা করতে হতো না। কিন্তু এখন ৩/৪টি বাদে বাকি সব গাছ-গাছড়ার সন্ধান পাওয়া দুষ্কর।

vesoj-5জানা গেছে, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে ভেষজ উদ্ভিদ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আবাদ করা হলেও আমাদের দেশে এখনও ভেষজ উদ্ভিদ আবাদ তো দূরের কথা, যেসব স্থানে ভেষজ উদ্ভিদের অফুরন্ত ভাণ্ডার ছিল সে স্থানগুলো সংরক্ষণেরও ন্যূনতম উদ্যোগ নেই। এ উদ্যোগহীনতা কিংবা ব্যর্থতায় প্রতি বছর ভেষজ উদ্ভিদ আমদানিতে মোটা অংকের মাশুল গুণতে হচ্ছে।

উদ্ভিদ ও কৃষি বিশ্লেষক মহল মনে করেন, পরিচর্যা ও ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে বসতবাড়ির আঙিনায়, খোলা জায়গায়, পতিত জমিতে এমনকি রাস্তার দুধারে ভেষজ উদ্ভিদের চারা রোপণ করে এ মহামূল্যবান সম্পদ রক্ষা করা যেতে পারে। আর এটা সম্ভব হলেই বিশাল অঙ্কের রাজস্ব বেঁচে যাবে। ভেষজ উদ্ভিদের অফুরান ভাণ্ডার ময়মনসিংহ ফিরে পাবে সেই হীরের দ্যুতি ছড়ানো গৌরব। পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সোলেয়মান আলী ফকির বলেন, সংরক্ষণের উদ্যোগ যে নেই তা বলা যাবে না। সংরক্ষণ হচ্ছে। তবে এগুলো সংরক্ষণের ব্যাপারে আরও উদ্যোগী হওয়া দরকার।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৩

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2013-12-07 10:08:04