bangla news

রথমেলায় খাঁচাবন্দি পাখি!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৩-০৭-১৩ ১:০৭:৩৭ পিএম

মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ‘পাখিসব করে রব রাত্রি পোহাইল’, কিংবা আহসান হাবীবের ‘দুপুরে ঘুঘুর ডাকে আমের শাখায়/ আমাদের দু’নয়নে ঘুম দিয়ে যায়’ সেই ঘুম আর কলরব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবার রথের মেলায়। খাঁচাবন্দি করে বিক্রির জন্য মেলায় ওঠানো হচ্ছে বন্যপাখি।

সিলেট: মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ‘পাখিসব করে রব রাত্রি পোহাইল’, কিংবা আহসান হাবীবের ‘দুপুরে ঘুঘুর ডাকে আমের শাখায়/ আমাদের দু’নয়নে ঘুম দিয়ে যায়’ সেই ঘুম আর কলরব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবার রথের মেলায়। খাঁচাবন্দি করে বিক্রির জন্য মেলায় ওঠানো হচ্ছে বন্যপাখি।

সিলেটের রিকাবীবাজারের রথমেলায় চলছে পাখির অবাধ কেনাবেচা। পাখি ও পরিবেশদরদী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গিয়েও নিবৃত্ত করতে পারছেন না পাখি বিক্রেতাদের। প্রতিবছর এ মেলায় এভাবেই প্রকাশ্যে খাঁচায় বন্দি করে পাখি কেনাবেচা হয় বলে জানা গেছে।

তিনদিন ধরে পাখি বিক্রি চললেও এখন পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় বন বিভাগ। এ অব্যবস্থাপনায় নাখোশ পরিবেশ কর্মীরা। শেষপর্যন্ত তারাই হাজির হয়েছেন মেলায়। তারা বোঝালেন- পাখি খাঁচার নয় প্রকৃতির সম্পদ। কিন্তু অশুভ চক্র তেড়ে আসলো লাঠিসোঁটা নিয়ে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় আপাত সমাধানে কয়েকটি খাঁচার পাখি আকাশে ওড়ানো হয়েছে।

তবে পাখি কেনাবেচা বন্ধ করার জন্য বন বিভাগের শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী অধিকার বিষয়ক সংগঠন প্রাধিকার সভাপতি রাহুল দাস তালুকদার বলেন, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্পর্কে সমাজের সব পর্যায়ের মানুষকে সচেতন করা দরকার। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে দায়িত্বশীলদের আন্তরিক করতে না পারলে অবস্থা যে আরও ভয়াবহ হবে তা বলার অবকাশ রাখে না।’

রাহুল আক্ষেপ করে বলেন, ‘দেশে বন্যপ্রাণী ও পাখি সংরক্ষণের জন্য আইন ও বিধিবিধান থাকলেও সেগুলো পর্যাপ্ত লোকবল সংকট, তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবসহ নানা কারণে কার্যকর হচ্ছে না। ফলে দিন দিন দেশে বন্যপ্রাণী ও পাখি নিধনের ঘটনা বেড়েই চলছে, যা ভবিষ্যতে আমাদের পরিবেশের জন্য এক অশনি সংকেত বটে।‘

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ক সংগঠন গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটির সভাপতি অনিমেষ ঘোষ বলেন, ‘বন্যপাখি কোনোভাবেই খাঁচার পাখি হতে পারে না। আর খাঁচায় রাখা মানে এদের সংখ্যা প্রকৃতি থেকে কমিয়ে দেওয়া, যা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিবেশের জন্যে এক অশনি সংকেত।’

তিনি জানান, মেলায় এমন অনেক পাখি নিয়ে আসা হয়েছে যেগুলোর সংখ্যা প্রকৃতি থেকে নানা কারণে এমনিতেই কমে যাচ্ছে। এর মধ্যে কালিম পাখিও দেখা গেছে। এই পাখি মাটির বিভিন্ন পোকা খেয়ে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু এভাবে যদি আমরা ধরে ধরে এদের খাঁচায় রাখি তাহলে এরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

প্রাধিকারের যুগ্ম সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেটের মেলায় প্রতি বছর পাখি বিক্রি হয়। অথচ কেউ পাখি বিক্রি বন্ধে উদ্যোগ নেয় না। পাখি বন্দি করে রাখার অধিকার আমদের নেই। এ বিষয়ে সচেতন ও শিক্ষিত মানুষের এগিয়ে আসা উচিত।”

অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের দুর্বলতার কারণেই পাচারকারীরা বন থেকে প্রাণী ধরে এনে বিক্রি করার সুযোগ পায়।

এ ব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ব্যবস্থপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) মো. মাহমুদর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা লোক পাঠাবো। প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে তাদের বোঝাতে হবে। এরপর পুলিশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে মোবাইল কোর্ট চালানো হবে।’

কালিম, কোড়া, শালিক, মাছরাঙা, ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির পাখি প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছিলো সিলেট নগরের রিকাবীবাজারে রথের মেলায়। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ মেলায় পাখি বিক্রি বন্ধ করার মূল উদ্যোগ নেয় পরিবেশবাদী দু’টি সংগঠন। তাদের এ উদ্যোগের কারণে শুক্রবার ওই মেলায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ পাখি বিক্রি বন্ধ করে দেয়।

তবে অসাধু চক্রটি লুকিয়ে আবারও বিক্রি শুরুর পাঁয়তারা করবে বলে আশঙ্কা করেছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

বাংলাদেশ সময়: ২০০২ ঘণ্টা, জুলাই ১৩, ২০১৩
এসএ/সম্পাদনা: তানিম কবির ও অসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2013-07-13 13:07:37