ঢাকা, রবিবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

স্মারকে-স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধুর চট্টগ্রাম

আল রাহমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০০৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০১৬
স্মারকে-স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধুর চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম: ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো প্রতিকৃতি ছিল না বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে। বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী, জন্মবার্ষিকীতে আমরা প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে পারছি না।

বিষয়টি আমাকে খুবই ভাবিয়ে তুলেছিল। আমি যখন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হলাম তখনি তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমদকে প্রস্তাব দিলাম। উনি ‍সানন্দে উদ্যোগ নিলেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি করা হলো। ’

সোমবার (১৫ আগস্ট) সকালে এভাবেই বাংলানিউজকে জানালেন জেলা কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির বাইরে আরেকটি দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব। ম্যুরালটি নির্মাণ করেছেন শিল্পী আবদুল্লাহ খালিদ। টেরাকোটায় নির্মিত ম্যুরালটির দৈর্ঘ্য ১৫ দশমিক ১ ফুট ও প্রস্থ আট ফুট। এই ম্যুরালটিতে একাত্তরে ৭ মার্চে ভাষণরত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, সূর্যের মাঝে বাংলাদেশের মানচিত্র, ৭ মার্চের প্রতীক হিসেবে সাতটি কবুতর ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ২০১৩ সালে এ ম্যুরালটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দূরদূরান্তের বঙ্গবন্ধুপ্রেমীরা জামালখানে আসেন ম্যুরালটি দেখতে।  

স্বাধীনতার পরপরই আগ্রাবাদের জিন্নাহ রোডটির নাম পরিবর্তন করে স্থানীয় লোকজন ‘শেখ মুজিব সড়ক’ নামকরণ করেন। এরপর ‘বঙ্গবন্ধু’র নামে চট্টগ্রামে প্রথম যে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় সেটি মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল ক্যাম্পাসের ‘বঙ্গবন্ধু ল টেম্পল’।

বঙ্গবন্ধুর নামে ফয়’স লেক এলাকায় চট্টগ্রামের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫ সালে উদ্বোধন হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) রয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসহ বঙ্গবন্ধু চত্বর। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।  

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে জাগরূক রাখতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কের নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউ’। শুধু তাই নয়, কুয়াইশ সংযোগস্থলে তৈরি হয় দেশের সবচেয়ে উঁচু বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালও। কুয়াইশ প্রান্তের ম্যুরালটির উচ্চতা ৪২ ফুট। অক্সিজেন প্রান্তের ম্যুরালটির উচ্চতা ২৬ ফুট। এ ছাড়া কালো মার্বেলের ওপর ধাতব অক্ষরের এবং ট্যারাকোটায় ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ’ লেখা সড়কের নামফলক দেওয়া হয়েছে। রাতের বেলা আকর্ষণীয় আলোক প্রক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে ম্যুরালে। যা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত প্রিয় স্থান। বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাসের জায়গা ছিল চট্টগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় সহচর ছিলেন চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী, এমএ আজিজ, এমএ হান্নান প্রমুখ। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ছয় দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন চট্টগ্রামে। তার পক্ষে স্বাধীন‍তার ঘোষণাপত্র পাঠ করার জন্যে বেছে নিয়েছিলেন চট্টগ্রামকে। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রামের মানুষ স্বাধীনতার পরপর অটোমেটিক জিন্নাহ সড়ককে শেখ মুজিব সড়কে নামকরণ করে ফেলেছিলেন। ৪৪ বছর এসে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৬০ ফুট প্রস্থের চার লেনের একটি সড়ক নির্মাণ করে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ নামকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সুউচ্চ ম্যুরালও স্থাপন করেছি।

এ প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম বাংলানিউজকে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিলেন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেন। কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল হচ্ছে, অনেক স্পেশাল ইকোনমিক জোন হচ্ছে, আউটার রিং রোড হচ্ছে, বে-টার্মিনাল হচ্ছে এককথায় উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে চট্টগ্রাম। তাই কৃতজ্ঞ চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে সিডিএ দেশে বঙ্গবন্ধুর সর্বোচ্চ ম্যুরালটি স্থাপনের।

নগরীর আগ্রাবাদে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) অর্থায়নে নির্মিত দেশের প্রথম ওয়াল্র্ড ট্রেড সেন্টারে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হল’।  

কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে গড়ে উঠবে ‘শেখ মুজিব মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’। ২০১১ সালে আনোয়ারার মেরিন একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় দেশের প্রথম ও একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীতে গড়া ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’। বাংলাদেশের সমান আরেকটি ভূখণ্ড ‘বঙ্গোপসাগর’র অতন্দ্র প্রহরী ‘বিএনএস বঙ্গবন্ধু’ যথন কর্ণফুলীর বুক চিরে আসা-যাওয়া করে তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দু’কূলের মানুষ।  

বাকলিয়ায় ৭ একর জমির ওপর বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। এ ছাড়া নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্মাণাধীন পার্কে বঙ্গবন্ধুর একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক।

বাংলাদেশ সময়: ১০০৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০১৬

এআর/আইএসএ/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

চট্টগ্রাম প্রতিদিন এর সর্বশেষ

Alexa