ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

জাতীয়

পাবনার প্যারা দেশের সেরা

আবুল কালাম আজাদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ২০, ২০১৫
পাবনার প্যারা দেশের সেরা ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

পাবনা: মিষ্টি পছন্দ করেন না এমন মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম। গুড়ের সন্দেশ, চিনির সন্দেশ তো আমরা খেয়েই থাকি, কিন্তু পাবনার প্যারা মিষ্টিটা যেন একটু বেশিই মজা।



মিষ্টির জগতে পাবনার তৈরি খাঁটি দুধের প্যারা মিষ্টি বিভিন্ন জেলা এমনকি দেশের বাইরেও কিনে নিয়ে যান মিষ্টি পছন্দকারীরা।
lokkhi
পাবনার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন ভান্ডার প্যারাডাইস, শ্যামল মিষ্টান্ন ভান্ডার, লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভান্ডার, বনলতা সুইটস, তৃপ্তি দই ঘর, বিশ্বাস সুইটস, আরাফাত সুইটসসহ বিভিন্ন দোকানে এই প্যারা বিক্রি করা হয়।

প্যারা মিষ্টি সম্পর্কে কথা বলতেই পাবনা শ্যামল মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারিগর আব্দুল মোমিন বাংলানিউজকে জানান, প্যারা মিষ্টিটা তৈরি হয় সম্পূর্ণ দুধ দিয়ে।   ১ চারে (এক কড়াই) ২০ লিটার দুধের সঙ্গে ৫ কেজি চিনি দিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে ক্ষির বানাতে হয়। তারপর ওই হালকা নরম ক্ষির দিয়ে প্যারা তৈরি করা হয়। ১ চারে ৭ কেজি প্যারা বানানো সম্ভব। প্যারা মিষ্টি তৈরিতে দুধ চিনি ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করা হয় না। খাঁটি দুধ দিয়ে তৈরি হয় বলেই প্যারার স্বাদ অন্য মিষ্টির চেয়ে একটু আলাদা ও সুস্বাদু। প্যারা মিষ্টি শুকনা হওয়ায় দূর-দূরান্তে বহনেও বেশ সুবিধা, আর এ জন্যই মানুষের কাছে এ মিষ্টি একটু বেশি পছন্দের।

প্যারা মিষ্টি সম্পর্কে পাবনার লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভান্ডারের কর্মচারী শংকর বাবু জানান, পাবনার মত প্যারা দেশের অন্য কোনো জেলায় পাওয়া যায় না। অনেকেই তাদের প্যারা সুস্বাদু বলেই কিনে নিয়ে যান। পাবনার প্যারা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। বিভিন্ন উৎসবের ( পহেলা বৈশাখ, ঈদ, পূজা, পরীক্ষার ফলাফল, নববর্ষ)  আগে পাবনার প্যারার চাহিদা বেড়ে যায়। প্রতি কেজি প্যারার দাম ২৫০ টাকা। তবে গ্রীষ্মকালের চাইতে শীতকালে এই মিষ্টির চাহিদা বেশি থাকে।

মিষ্টির জগতে দীর্ঘ দিনের পরিচিত মুখ লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী ভোলা নাথ ঘোষ জানান, তার দোকানে রাজভোগ, রসকন্দা, রসমালাই, কাটাভোগ, অবাক সন্দেশ, প্যারা মিষ্টি বিক্রি করা হলেও প্যারার চাহিদা একটু বেশি। বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন যখন পাবনাতে বেড়াতে আসেন ফেরার পথে তারা পাবনার প্যারা নিয়ে যাবেন আত্মীয়-পরিবার-পরিজনদের জন্য।

লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভান্ডারে নিয়মিত প্যারা কিনতে আসা পাবনার কিসমত আলী জানান, তার পরিবারে ছেলে-মেয়েরা অন্য মিষ্টি খেলেও প্যারা তাদের অনেক পছন্দের। তার মতে প্যারার স্বাদ অন্য মিষ্টির চাইতে আলাদা ও সুস্বাদু।

ঢাকায় বসবাসকারী পাবনার শাকিল আহমেদ বলেন, পাবনার মিষ্টির মধ্যে প্যারা আমাদের কাছে সবচেয়ে সেরা মিষ্টি। আমি ঢাকায় থাকি কিন্তু যখনই পাবনা আসি ফিরে যাওয়ার সময় আর কিছু না হোক প্যারা কিনে নিয়ে যাই। প্যারা কেনার আরো একটি সুবিধা হলো এই মিষ্টি সহজে বহন করা যায় ও দ্রুত নষ্ট হয় না, ফ্রিজে না রেখেও কয়েকদিন খাওয়া যায়। এ কারণেই আমরা বলি পাবনার প্যারা মিষ্টির সেরা।

বাংলাদেশ সময়: ০০২৮ ঘণ্টা, আগস্ট ২০, ২০১৫
আরএ 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ

Alexa