[x]
[x]
ঢাকা, শনিবার, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
bangla news

সিরিজ বোমা হামলার ৮ বছর

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৩-০৮-১৬ ১০:২২:২০ এএম

শনিবার ভয়াল সেই ১৭ আগষ্ট। ২০০৫ সালে তৎকালীন জোট সরকারের সময় এ দিনে দেশের ৬৩ জেলায় (মুন্সীগঞ্জ বাদে) সিরিজ বোমা হামলা চালায় জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির জঙ্গিরা।

ঢাকা: শনিবার ভয়াল সেই ১৭ আগষ্ট। ২০০৫ সালে তৎকালীন জোট সরকারের সময় এ দিনে দেশের ৬৩ জেলায় (মুন্সীগঞ্জ বাদে) সিরিজ বোমা হামলা চালায় জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির জঙ্গিরা।

রাজধানীসহ সারাদেশে সকাল ১১টায় এ হামলা চালানো হয়। দেশের ৩শটি স্থানে মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে একযোগে ৫শ’ বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে দু’জন নিহত ও দু’শতাধিক লোক আহত হয়।

সিরিজ বোমা হামলার স্থান হিসাবে জঙ্গিরা হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, বাংলাদেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারি-আধা-সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বেছে নেয়।

হামলার স্থানসমূহে জেএমবির লিফলেট পাওয়া যায়। লিফলেটগুলোতে বাংলাদেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে বক্তব্য লেখা ছিল। বিচারকদের প্রতি একটি বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়। “তাতে বলা হয়, দ্রুত এদেশে ইসলামী হুকুম কায়েম করতে হবে। নতুবা কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে জেএমবি।

ইসলামী হুকুম কায়েমের বিষয়ে তাদের সঙ্গে দেশ-বিদেশের অনেক শক্তিশালী রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করেছে। অতএব যারা বিচারক আছেন তারা তাগুতি আইন বাদ দিয়ে ইসলামী আইনে বিচার করবেন। নতুবা আরও ভয়াবহ বিপদ আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে। এ সতর্কবাণীর (সিরিজ বোমা হামলা) পর আমরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তারপর আবার হামলা শুরু হবে।”

সিরিজ বোমা হামলায় সারাদেশের বিভিন্ন থানায় শতাধিক মামলা দায়ের করে পুলিশ।

এ হুমকির পর আবার শুরু হয় ধারাবাহিক হামলা। তারই জের ধরে ওই বছরই ৩ অক্টোবর চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের জেলা আদালতে বিচার কাজ চলাকালে বেলা ১২টায় আবার একযোগে বোমা হামলা চালানো হয়। এজলাসে ঢুকে বিচারককে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে মারা হয়। তিন জেলা আদালতে প্রতি জেলায় ৩টি করে মোট ৯টি বোমা ছোড়া হয়। এর মধ্যে ৫টি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বাকিগুলো অবিস্ফোরিত থাকে। এ ব্যাপারে চাঁদপুর ও চট্টগ্রামে দায়েরকৃত মামলায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এসব মামলায় শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, জাভেদ ইকবাল, আবু জহর, জাহেদুল ইসলাম সুমন, শাহাদাত হোসেন ও লাল্টুকে আসামি করা হয়। এর ১৫ দিন পর ১৯ অক্টোবর সিলেটের দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীকে হত্যা করতে বোমা হামলা চালায় জঙ্গীরা। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু বোমার আঘাতে মারাত্মক আহত হন।

এর মাসখানেক পরেই ১৫ নভেম্বর বহুল আলোচিত ঝালকাঠি শহরের অফিসার পাড়ায় জাজেস কোয়ার্টারের সামনে বিচারকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে শক্তিশালী বোমা দিয়ে হামলা চালানো হয়। বোমা বিস্ফোরণে ঝালকাঠি জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহমেদ চৌধুরী ও জগন্নাথ পাঁড়ে নিহত হন। অল্পের জন্য রক্ষা পান আরেক বিচারক আব্দুল আউয়াল। এ হামলার ঘটনায় ২টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

এরপর ৩০ নভেম্বর গাজীপুর ও চট্টগ্রাম আদালতে পৌনে এক ঘন্টার ব্যবধানে আত্মঘাতী জঙ্গিরা গায়ে বোমা বেঁধে হামলা চালায়। এতে ২ জঙ্গীসহ ৯ জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলা আদালতে আবারও চায়ের ফ্ল্যাক্সে করে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ৭ জন নিহত ও অর্ধশত আহত হয়।

এদিকে, বিভিন্ন হামলার সঙ্গে জড়িত জেএমবির আমির শায়খ আব্দুর রহমানকে ২০০৬ সালের ২ মার্চ সিলেটের পূর্ব শাপলাবাগ এলাকার সূর্য দীঘল বাড়ি থেকে, জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইকে ২০০৬ সালের ৬ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার চেচুয়া বাজারের রামপুরা গ্রাম থেকে, হুজি প্রধান মুফতি হান্নানকে ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর রাজধানীর মধ্য বাড্ডা থেকে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অপারেশনাল কমান্ডার মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের বানিয়াচালা মসজিদ থেকে, আব্দুল আউয়াল ওরফে আদিলকে ২০০৫ সালের ১৮ নবেম্বর ঠাকুরগাঁও থেকে, জেএমবির শূরা সদস্য আতাউর রহমান ওরফে সানিকে ২০০৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে, জেএমবির শূরা সদস্য হাফেজ রাকিব হাসান ওরফে মাহমুদকে ২০০৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে, জেএমবির সূরা সদস্য মোঃ সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে তৌহিদকে ২০০৬ সালের ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিডিএ এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া জেএমবির শূরা সদস্য ফারুক হোসেন ওরফে খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে সিরাজ ওরফে আমজাদকে ২০০৬ সালের ৪ এপ্রিল রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া-ডগাইর এলাকার আইডিয়াল পাড়ের ৮ নম্বর বাড়ি থেকে, জেএমবির সামরিক কমান্ডার মোঃ মোহতাসিম বিল্লাহ ওরফে বশিরকে ২০০৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে, জেএমবির বোমা বিশেষজ্ঞ জাহিদ হোসেন সুমন ওরফে বোমা মিজানকে ২০০৯ সালের রাজধানীর মিরপুর পীরেরবাগ এলাকা থেকে ও জেএমবির আইটি শাখার প্রধান বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার এমরানুল হক ওরফে রাজীব ওরফে মঈনুল ওরফে আবু তোবা ওরফে ইকবালকে রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এদের মধ্যে ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলাটি পরে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ঝালাকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২১ মার্চ মামুন, সুলতান হোসেন খান, শায়খ আব্দুর রহমান, আব্দুল আউয়াল, আতাউর রহমান সানি, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, শাকিল আহমেদ ওরফে মোল্লা ওমর (মৃত) ও মেহেদীসহ ৮ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

২০০৬ সালের ৩০ মে মামলার রায়ে শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আউয়াল, মাসুম, খালিদ, সাইফুল্লাহসহ মোট ৭ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ এদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

সিআইডির একটি সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত জেএমবির জঙ্গি কার্যক্রমের ঘটনায় সারাদেশে ৩২২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চার্জশিট হয়েছে ২৮৯টির। ১১৫টি মামলার বিচার কাজ শেষ হয়েছে। ২৫টি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। ৮টি মামলার তদন্ত কাজ চলছে।

এদিকে বিচার শেষ হওয়া ১১৫টি মামলার মধ্যে ৯৫টি মামলায় আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৫১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ১৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৮৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। রাজধানীর ৩৩টি স্পটে বোমা হামলার ঘটনায় ১৮টি মামলা দায়ের হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২০১৪ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০১৩
আইএ/ সম্পাদনা: কবির হোসেন, নিউজরুম এডিটর, এসএস

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14