ঢাক: মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের মামলার রায় সোমবার ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
মামলা চলাকালে প্রসিকিউশন এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাক্ষী তাদের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকালীন গোলাম আযম মুক্তিযুদ্ধকে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কি সব কথা বলতেন সেগুলো উদ্ধৃত করেছেন।
তাদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকা থেকেই এই প্রতিবেদন।
৪ এপ্রিল: ১২ জন নেতার সমন্বয়ে গঠিত এক প্রতিনিধি দল `খ` অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন গোলাম আযম, খাজা খয়ের উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম, মওলানা নুরুজ্জামানসহ অন্যরা। তারা সমগ্র প্রদেশে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সামরিক আইন প্রশাসককে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস এবং জনগণের মন থেকে ভিত্তিহীন ভয় দূর করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় নাগরিক কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেন। পূর্ব পাকিস্তানি নেতৃবৃন্দ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ভারতের হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা এবং ভারতের বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণার প্রতিবাদও করেন তারা। দৈনিক পূর্বদেশের ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল সংখ্যায় সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এই খবর প্রকাশ করা হয়।
৬ এপ্রিল: সাবেক পররাষ্ট্র উজির হামিদুল হক চৌধুরী, প্রাদেশিক জামাতে এছলামীর সভাপতি অধ্যাপক গোলাম আযম, জমিয়তে উলামায়ে এছলামের প্রাদেশিক শাখার সভাপতি পীর মোহসীন উদ্দিন আহমদ ও স্থানীয় বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট এ. কে. সাদীসহ আরো কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা পৃথকভাবে টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন বলে দৈনিক আজাদ ও দৈনিক পাকিস্তানে ৭ এপ্রিলের সংখ্যায় সরকারি হ্যান্ডআউটের বরাত দিয়ে জানানো হয়। হ্যান্ড আউটে বলা হয় যে, ‘নেতৃবৃন্দ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ভারতের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ ও পাকিস্তানে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী প্রেরণের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁহারা বলেন যে, প্রদেশের দেশপ্রেমিক জনসাধারণ ভারতের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীতে সহায়তা করিবে। ’
৮ এপ্রিল: গোলাম আযম, মওলানা নুরুজ্জামান ও গোলাম সারওয়ার একটি যুক্ত বিবৃতি দেন। সেখানে তারা বলেন, `ভারত পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেছে। ভারতীয় বা পাকিস্তান বিরোধী এজেন্টদের বা অনুপ্রবেশকারীদের যেখানেই দেখা যাবে, সেখানেই পূর্ব পাকিস্তানের দেশ প্রেমিকরা তাদের নির্মূল করবে। `
৯ এপ্রিল: ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশটির লোক সভায় বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য দেওয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে গোলাম আযম বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তি পূর্ব পাকিস্তানিদের প্রতি যে সমর্থন ও সমবেদনা জানিয়েছেন, তাতে আমি বিস্মিত হয়েছি। ’
তিনি বলেন, `পূর্ব পাকিস্তানে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী পাঠিয়ে ভারত প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশপ্রেমের মূলে আঘাত হেনেছে। এ ধরনের অনুপ্রবেশ এ প্রদেশের মুসলমানদের কোনো কাজেই আসবে না। ’ ভারত সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী প্রেরণ করে কার্যত পূর্ব পাকিস্তানের দেশপ্রেমকে চ্যালেঞ্জ করছে। পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র জনগণকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘর্ষে নিয়োজিত করে পূর্ব পাকিস্তানকে দাসে পরিণত করতে চায়। ’ এটি ১১ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত হয়।
৯ এপ্রিল: শহরের জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য খাজা খয়ের উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে ১৪০ সদস্যবিশিষ্ট নাগরিক শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আরও ছিলেন, একিউএম শফিকুল ইসরাম, অধ্যাপক গোলাম আযম, মওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাসুম, আবদুল জব্বার খদ্দর, মাহমুদ আলী, এমএকে রফিকুল হোসেন, ইউসুফ আলী চৌধুরী, আবুল কাসেম, এম ফরিদ আহমদ, অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার, সৈয়দ আজিজুল হক, এসএম সোলায়মান, পীর মোহসীন উদ্দীন, শফিকুর রহমান রহমান, মেজর আসফারউদ্দীন, সৈয়দ মোহসেন আলী, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক চৌধুরী, সিরাজউদ্দিন, অ্যাডভোকেট আতাউল হক খান, অ্যাডভোকেট এটি সাদী, মকবুলুর রহমান, মোহাম্মদ আকিল, অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুস, `ইংগ পাকিস্তান` সম্পাদক নুরুজ্জামান, মফিজুল হক, অ্যাডভোকেট আবু সালেক, অ্যাডভোকেট আব্দুন নঈমসহ অন্যরা। ১০ ও ১১ এপ্রিল দৈনিক পাকিস্তান ও ১১ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম এ খবর প্রকাশ করে।
১২ এপ্রিল: জোহরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের করে শান্তি কমিটি। মিছিলে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান, ইয়াহিয়া কান, আইয়ুব খান, আল্লামা ইকবাল, ফাতেমা জিন্নাহসহ আরো কয়েকজনের ছবি বহন করা হয়। ফেস্টুনে লেখা ছিলো `পাক-চীন জিন্দাবাদ`, `দুষ্কৃতিকারী দূর হও-মুসলিম জাহান এক হও`, `ভারতকে খতম করো, পাকিস্তানকে রক্ষা করো`। মিছিলের নেতৃত্ব দেন গোলাম আযম, খাজা খয়ের উদ্দীন, শপিকুল ইসলাম, পীর মোহসেন উদ্দিন, সৈয়দ আজিজুল হক, মাহমুদ আলী, আবদুল জব্বার খদ্দর, এটি সাদী প্রমুখ।
`পাকিস্তান জিন্দাবাদ, কায়দে আজম জিন্দাবাদ, ইয়াহিয়া খান জিন্দবাদ, টিক্কা খান জিন্দাবাদ`, `পাকিস্তানের উৎস কি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু`, `আল্লাহ মেহেরবান, ধ্বংস কর হিন্দুস্তান`। মিছিলে এই সব স্লোগান দেওয়া হয়।
মিছিল শেষে গোলাম আযমের নেতৃত্বে পরিচালিত মোনাজাতে বলা হয়, `পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে সত্যিকারের মুসলিম সৈনিক হিসেবে দেশ রক্ষার যোগ্যতা অর্জনের জন্য আল্লাহর দরগাহে দোয়া করেন। সত্যিকারের মুসলমান ও পাকিস্তানি হিসেবে বেঁচে থাকার ও পাকিস্তানকে চিরদিন ইসলামের আবাসভূমি হিসেবে টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বশক্তিমানের নিকট দোয়া করেন। ` ১৩ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশ করে।
১৪ এপ্রিল: ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ‘নাগরিক শান্তি কমিটি’র নাম বদলে ‘পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি’ রাখা হয়। এই সভায় শান্তি কমিটির জেলা ও মহকুমা পর্যায়ের ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। ১৬ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক পাকিস্তানে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
১৬ এপ্রিল: নুরুল আমিনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি একটি প্রতিনিধি দল গভর্নর ভবনে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শান্তি কমিটির এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন গোলাম আযম, সৈয়দ খাজা খয়ের উদ্দীন, আবদুল জব্বার খদ্দর, অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার, নুরুজ্জামান, মেজর আফসার উদ্দীন সহ অন্যরা । ১৭ এপ্রিল দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক পাকিস্তানে এপিপির বরাত দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
১৮ এপ্রিল: লাহোরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে গোলাম আযম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, `দুষ্কৃতিকারীরা এখনো পূর্ব পাকিস্তানে তৎপর রয়েছে এবং তাদের মোকাবিলা করার জন্য জনগণকে অস্ত্র দেওয়া উচিত। পূর্ব পাকিস্তানে অধিকসংখ্যক অমুসলমানদের সহায়তায় শেখ মুজিবুর রহমানের হয়তো বিচ্ছিন্নতায় ইচ্ছা থাকতে পারে, তবে তিনি প্রকাশ্যে কখনো স্বাধীনতার জন্য চিৎকার করেননি। `
তিনি আরো বলেন, `বিচ্ছিন্নতার (বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন) জন্য শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন শুরু করেছিলেন তাদের তো গ্রেপ্তার করা হয়নি। সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে প্রায় সকল দুস্কৃতিকারীকে উৎখাত করেছে এবং বর্তমানে এমন কোনো শক্তি নাই যা সেনাবাহিনীর প্রাধান্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। দেশকে খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না। পূর্ব পাকিস্তানের সাম্প্রতিক গোলযোগ ১৮৫৭ সালে বাংলায় বিদ্রোহী আন্দোলনের চেয়ে দশগুণ বেশি শক্তিশালী ছিল। `
তিনি আরো বলেন, `বিরোধী ব্যক্তিরা এখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মোকাবিলা করার সাহস না পেয়ে বরং রাতের অন্ধকারে ধ্বংসাত্মক কাজে নিজেদের লিপ্ত রেখেছে। আমার দল পাকিস্তানের তৎপরতা দমনের যথাসাধ্য চেষ্টা করবে এবং এ কারণেই দুস্কৃতিকারীদের হাতে বহু জামায়াতকর্মী শহীদ হয়েছে। `
এর আগে ১৭ জুন লাহোর বিমানবন্দরে তিনি বলেন, `জনগণ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে পূর্ণ সাহায্য ও সহযোগিতা দানে ইচ্ছুক, কিন্তু জীবননাশের হুমকি দেওয়ায় তারা এ ব্যাপারে পূর্ণ সাহায্য দান করতে পারছে না। প্রকৃত অপরাধীকে ধরতে পারলেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ করায়ত্ত করা সম্ভব হতো। ` ২১ জুন দৈনিক সংগ্রামে এপিপি ও পিপিআইর বরাত দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
২২ জুন: গোলাম আযম সাক্ষাৎকার দেন দৈনিক সংগ্রামে। সেখানে বলেন, `পূর্ব পাকিস্তান ইসলাম ও পাকিস্তানের জন্য অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে। আরো কোরবানি দেয়ার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। ` ২২ জুন করাচীর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, `পূর্ব পাকিস্তানিরা সর্বদাই পশ্চিম পাকিস্তানি ভাইদের সাথে একত্রে বাস করবে। ’ এখানে তিনি আরো বলেন, `নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছয় দফা কর্মসূচীর উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। `
জনগণের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দুষ্কৃতিকারী ও রাষ্ট্রবিরোধীদের কার্যকরভাবে প্রতিহত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আবেদন জানান। পাকিস্তানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেন তিনি। ২৩ জুন দৈনিক সংগ্রামে গোলাম আযমের এই ভাষণ ফলাও করে প্রকাশ করা হয়।
৩ আগস্ট: দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গোলাম আযম বলেছেন, এই যুদ্ধ শুধু ধস্ত্রের নয়, আদর্শিক যুদ্ধ। আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই দেশকে বাঁচিয়ে রাখাল জন্য যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে।
১৪ আগস্ট: আজাদী দিবসে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এক সভায় গোলাম আযম বলেন, পাকিস্তানের দুশমনদের মহল্লায় মহল্লায় তন্ন তন্ন করে খুঁজে তাদের অস্তিত্ব বিলোপ করার জন্য দেশপ্রেমিক নাগরিক শান্তি কমিটির সাথে সহযোগিতা করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। দৈনিক সংগ্রামে এই খবর প্রকাশিত হয়।
১৬ আগস্ট: দৈনিক পাকিস্তানে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, সেনাবাহিনী ও শান্তি কমিটির মধ্যে যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে জামায়ত নেতা (গোলাম আযম) বলেন, বিচ্ছিন্নতবাদীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্যে শান্তি কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শান্তি কমিটি যদি দুনিয়াকে জানিয়ে না দিত যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ দেশকে অখণ্ড রাখতে চায় তবে পরিস্থিতি হয়তো অন্যদিকে মোড় নিত। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর, তাই দেশের মানুষকে বোঝানোর দায়িত্ব শান্তি কমিটির হাতে তুলে নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া ঘরে ঘরে যেসব দুশমন রয়েছে তাদের খুঁজে বের করার উপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
অপর দিকে দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ইসলামিক একাডেমী হলে জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সভায় অধ্যাপক গোলাম আযম বলেন, কোনো দেশ তার নিজের দেশের লোকদের দ্বার শাসিত হলেই আজাদ হবে, সাধারণ আজাদীর এই সংজ্ঞা ইসলাম স্বীকার করে না। বাংলাদেশ বাঙালিদের দ্বারা শাসিত হবে এ মতবাদ শেখ মুজিব বা শ্রী তাজউদ্দীনের।
২১ আগস্ট: এপিপির বরাত দিয়ে দৈনিক সংগ্রাম বলে, গতকাল (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার দ্বিতীয় অধিবেশনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজিনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। অধিবেশনে ভাষণ দেন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে প্রধান গোলাম আযম ও জেনারেল সেক্রেটারি আবদুল খালেক। জামায়াতের প্রধান মওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী এতে উপস্থিত ছিলেন।
লাহোর থেকে পিপিআই জানায়, ভারতীয় যুদ্ধবাজ ও তাদের চরদের যোগসাজশে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের দমন করার জন্য সরকার যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন মজলিসে শুরা তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
২৬ আগস্ট: দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গোলাম আযম পেশোয়ারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন,“পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের মীরজাফরী ও ভারতের দূরভিসন্ধি হতে সশস্ত্র বাহিনী দেশকে রক্ষা করেছে। দুষ্কৃতকারী ও অনুপ্রবেশকারীদের ধ্বংস করার কাজে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ সেনাবাহিনীকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে।
২ সেপ্টেম্বর: দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, অধ্যাপক আযম জানান যে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের খতম করার উদ্দেশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের সকল একমনা ও দেশপ্রেমিক জনগণ এক সাথে কাজ শরে যাচ্ছে। বিশেষ করে রেজাকাররা ভালো কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২ সেপ্টেম্বর: দৈনিক পাকিস্তানে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, গোলাম আযম বলেন, কোন ভাল মুসলমানই তথা কথিত `বাংলাদেশ আন্দোলনের` সমর্থক হতে পারে না। তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নির্মূল করার জন্য একমন ও দেশপ্রেমিক লোকেরা একত্রে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজাকাররা খুবই ভাল কাজ করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১৭ অক্টোবর: দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, অধ্যাপক গোলাম আযম জোর দিয়ে বলেন, দেশে একমাত্র বেসামরিক সরকারই স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারে। জামায়ায়ে ইসলামী গোটা দেশে বেসামরিক সরকার কায়েমের পথকে সুগম করার জন্যই শান্তি কমিটির মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২৪ নভেম্বর: দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার খবর থেকে জানা যায়, পূর্ব পাকিস্তানে শান্তি রক্ষার উদ্দেশ্যে সকল দেশপ্রেমিক, শান্তি কমিটির সদস্য এবং রেজাকারদের উন্নতমানের ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত করার জন্য অধ্যাপক গোলাম আযম দাবী জানান।
২ ডিসেম্বর: দৈনিক ইত্তেফাকের খবর থেকে জানা যায়, রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট বৈঠক করেন গোলাম আযম। এরপর সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি।
সেখানে গোলাম আযম বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলা করার জন্য জনগণ সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করিবেন। তথাকথিত মুক্তিবাহিনীকে শত্রুবাহিনী রূপে আখ্যায়িত করিয়া তিনি বলেন যে তাহাদিগকে মোকবিলা করার জন্য রাজাকাররাই যথেষ্ঠ। এ প্রসঙ্গে রাজাকারদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সময় ১৯৪৩ ঘন্টা, ১৪ জুলাই ২০১৩
জেএ /আরআর