ঢাকা, রবিবার, ৭ বৈশাখ ১৪৩১, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১১ শাওয়াল ১৪৪৫

বইমেলা

স্বাচ্ছন্দ্যে বই কেনার দিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১১০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
স্বাচ্ছন্দ্যে বই কেনার দিন ছবি: ডিএইচ বাদল

ঢাকা: বইমেলার বিভিন্ন প্যাভিলিয়নের চারপাশে ঘুরে ধীরে-সুস্থে বই দেখছিলেন ব্যাংকার আসিফ আহমেদ। কথা বলে জানা গেল শুক্রবারও (২৩ ফেব্রুয়ারি) বইমেলায় এসেছিলেন তিনি।

কিন্তু ভিড়ের চাপে উল্টে-পাল্টে বই দেখার ফুরসত পাননি। শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তাই আবারও পছন্দের বইয়ের খোঁজে এসেছেন।

শুক্রবারের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে মেলা প্রাঙ্গণে ঘোরাফেরা বা বই কেনা কোনোটাতেই স্বস্তি ছিল না। শনিবার যথেষ্ট জনসমাগম থাকলেও ততটা ভিড় ছিল না। আর এদিন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে যারা বের হচ্ছিল তাদের একটা বড় অংশের হাতেই ছিল বইয়ের ব্যাগ।

মাওলা ব্রাদার্সের বিক্রয়কর্মী মো. সাইফুল্লাহ জানান, তরুণদের চেয়ে মধ্যবয়সী ক্রেতা পেয়েছেন বেশি। নতুন প্রকাশিত বইয়ের সঙ্গে এদিন বিক্রি হয়েছে পুরোনো বইগুলোও।

সন্ধ্যায় অন্যপ্রকাশের প্যাভিলিয়নের চারপাশজুড়ে ছিল পাঠকদের ভিড়। সেখানে পাঠকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। চলে যাওয়ার এক যুগ হতে চললেও এখনো বইমেলার অন্যতম বড় আকর্ষণ তার বই।

অন্যদিকে এবার হুমায়ূন আহমেদকে নিয়েই অন্যপ্রকাশে এসেছে আরেক জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের স্মৃতিচারণামূলক নতুন বই ‘কেমন ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ’। দেশের পাঠকপ্রিয় এ দুই লেখকের ছিল দীর্ঘদিনের পরিচয় ও আন্তরিক সম্পর্ক। পরস্পরের জীবনের বহু ঘটনার সাক্ষী তারা। এসবই উঠে এসেছে ইমদাদুল হক মিলনের বইটিতে।

মেলার শেষ ছুটির দিনে পাঠকের হাতে হাতে ছিল বই। হাসি ছিল প্রকাশকদের মুখে। ছোট-বড় সব প্রকাশনাতেই ছিল ব্যস্ততা। বিক্রয়কর্মীদের অনেকেই বসার সময়ও পাননি। তারা ভীষণ আশাবাদী বিক্রির এ ধারা বইমেলার শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

এদিন মেলার দ্বার খুলে বেলা ১১টায়। সকালে ছিল শিশুপ্রহর। দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশু চত্বরে আনন্দে কাটিয়েছে শিশুরা। দুপুরের সময়টা বাদ দিয়ে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা মেলায় ছিল মানুষের ঢল। শুক্রবার সকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে মেলা মাঠের অধিকাংশ জায়গাই ছিল কর্দমাক্ত। কোথাও কোথাও জমেছিল পানি। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

একাধিক পাঠক ও প্রকাশক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক বছরের মধ্যে এবার বইমেলার আয়োজন সবচেয়ে খারাপ। বৃষ্টি হলে পানি জমবে এটা স্বাভাবিক। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে উঁচু-নিচু জায়গা বালু দিয়ে ভরাট কিংবা চলার পথগুলোতে ইট বিছানো প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাংলা একাডেমি তা করেনি। এখনো অনেক স্টল খালি পড়ে আছে। এগুলো যাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তাদের জবাবদিহিতায় আনা উচিত।

সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ বলেন, বৃষ্টি একটু বাগড়া দিয়েছে বটে। কিন্তু বইপ্রেমীদের উৎসাহে তা কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারেনি। মেলার শেষভাগে যারা বই কিনতে এসেছেন তারা প্রিয় বইটি নিয়ে গেছেন। আজ বসন্তের বিকেলে মেলার এ চিত্রটি প্রকাশকদের মুখে হাসি ফোটাবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১০৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
এইচএমএস/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।