ঢাকা, বুধবার, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বঙ্গবন্ধু বিপিএল-২০১৯

ঘরের মাঠে মাশরাফিদের হারালো মাহমুদউল্লাহর চট্টগ্রাম

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৩৩২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯
ঘরের মাঠে মাশরাফিদের হারালো মাহমুদউল্লাহর চট্টগ্রাম ছবি: সোহেল সরওয়ার

বিপিএলের ১২তম ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স এবং ঢাকা প্লাটুন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের চট্টগ্রাম ১৬ রানে হারিয়েছে মাশরাফির ঢাকা প্লাটুনকে। পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জিতলো চট্টগ্রাম, টেবিলের এক নম্বরে তারা। এদিকে, ঢাকা প্লাটুন চার ম্যাচের দুটিতে জিতলেও অপর দুটিতে হারের স্বাদ পেয়েছে।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নেয় ঢাকা প্লাটুন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরা।

ঘরের মাঠে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস। ওপেনিংয়ে ঝড়ো ফিফটির দেখা পেয়েছেন সিমন্সও। এই তিনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ঢাকা প্লাটুনের সামনে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য ছুড়ে দেয় চট্টগ্রাম। জবাবে, ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারানো ঢাকা তোলে ২০৫ রান।

ছবি: সোহেল সরওয়ারবিপিএলের ইতিহাসে চট্টগ্রামের ইনিংস তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে গত আসরে রংপুর রাইডার্স ২৩৯ আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ২৩৭ রান সংগ্রহ করেছিল।

ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার সিমন্স ও আভিস্কা ফার্নান্দো। দুজনের ওপেনিং জুটিতে আসে ৫১ রান। ১৩ বলে ২৬ রানের ছোট ঝড়ো ইনিংস খেলে লঙ্কান ওপেনার বিদায় নিলেও দুর্দান্ত সব শট খেলে ফিফটি তুলে নেন সিমন্স। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়ে রান আউটের শিকার হওয়ার আগে এই ক্যারিবীয় ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ বলে ৫৭ রানের ইনিংস। ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস।

দুই ওপেনার বিদায় নিলেও রানের চাকা থামতে দেননি ইমরুল ও মাহমুদউল্লাহ। দুজনে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে গড়েন ৬২ রানের অনবদ্য এক জুটি। দলীয় ১৬৩ রানে সালাউদ্দিন শাকিলের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরার আগে মাত্র ২৪ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন ইমরুল। এই ইনিংস খেলার পথে ৫টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন এই বাঁহাতি।

ছবি: সোহেল সরওয়ারইমরুল বিদায় নিলে রানের ফোয়ারা ছুটানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের বোলারদের তুলোধুনা করে মাত্র ২৮ বলে ৫৯ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক। তার ইনিংসটি ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো। দলীয় ১৯১ রানে হাসান মাহমুদের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে মাহমুদউল্লাহ বিদায় নেওয়ার পর চ্যাডউইক ওয়ালটন ও নুরুল হাসানের ব্যাটে ২০০ ছাড়ানো সংগ্রহে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম। ১৮ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ওয়ালটন।

বল হাতে ২ উইকেট নিয়েছেন ঢাকার হাসান মাহমুদ। আর এক উইকেট সালাউদ্দিন শাকিলের। তবে রান খরচের দিক থেকে ঢাকার সব বোলারই ছিলেন অকৃপণ। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ৩ ওভারে ৪২ রান খরচ করে ছিলেন উইকেটশূন্য। ২ ওভারে ৩৩ রান খরচ করেছেন মেহেদি হাসান। আর ২ উইকেট তুলে নিতে ৪ ওভারে ৫৫ রান খরচ করেছেন হাসান মাহমুদ।

২২২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে তামিমহীন ঢাকার ওপেনার মুমিনুল হক ফিফটির দেখা পান। আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয় করেন ১ রান। মুমিনুল ৩৫ বলে তিনটি চার আর দুটি ছক্কায় করেন ৫২ রান। তিন নম্বরে নামা জাকের আলি ১৯ বলে ২৭ রান করে বিদায় নেন।

ছবি: সোহেল সরওয়ারলরি ইভান্স ১৭, আসিফ আলি ১৫, শহীদ আফ্রিদি ৯ রান করেন। দলপতি মাশরাফি ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। ৬ বলে একটি চার আর বিশাল তিনটি ছক্কায় করেন ২৩ রান। মেহেদি হাসান ২ রানে বিদায় নেন। থিসারা পেরেরা আজও ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে এই লঙ্কান ২৭ বলে তিন চার আর চারটি ছক্কায় করেন ৪৭ রান।

চট্টগ্রামের মুক্তার আলি তিনটি, কেরসিক উইলিয়ামস দুটি, নাসির হোসেন দুটি, মেহেদি হাসান রানা তিনটি করে উইকেট তুলে নেন।

বাংলাদেশ সময়: ২২২৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯
এমআরপি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa