ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ রজব ১৪৪২

বঙ্গবন্ধু বিপিএল-২০১৯

বিফলে নাঈমের লড়াই, রংপুরকে হারিয়ে দিল চট্টগ্রাম

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২১০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
বিফলে নাঈমের লড়াই, রংপুরকে হারিয়ে দিল চট্টগ্রাম ছবি: শোয়েব মিথুন

ঝড়ো ব্যাটিংয়ে প্রায় একাই লড়েছিলেন মোহাম্মদ নাঈম। এই ওপেনারের লড়াইয়ে ভর করেই সম্মানজক সংগ্রহ পেয়েছিল রংপুর রেঞ্জার্স। কিন্তু নাঈমের ইনিংস বিফলে গেল। বরং চ্যাডউইক ওয়ালটনের ফিফটির ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটের বড় জয় তুলে নিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ফলে প্রথম জয়ের দেখা পেতে রংপুর রেঞ্জার্সের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের সপ্তম ম্যাচে শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নাঈমের ৭৮ রানের ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান তুলেছিল রংপুর। জবাবে ৬ উইকেট আর ১০ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম।

রংপুরের ছুড়ে দেওয়া ১৫৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামকে দারুণ শুরু এনে দেন দুই ওপেনার ওয়ালটন আর আভিস্কা ফার্নান্দো। দুজনের জুটিতে আসে ৬৮ রান। ২৩ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ রানের ইনিংস খেলে ফার্নান্দো বিদায় নিলেও দারুণ এক ফিফটি তুলে নেন ওয়ালটন।

দারুণ এক ফিফটি তুলে নেওয়ার পথে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়েন ওয়ালটন। আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর শিকার হওয়ার আগে ওয়ালটনের ব্যাট থেকে আসে ঠিক ৫০ রান। দারুণ এই ইনিংসটি ৪ চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো।

ছবি: শোয়েব মিথুনওয়ালটন যখন বিদায় নেন তখনও চট্টগ্রামের হাতে ছিল ৪৯ বল। এরপর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ৩০ রান করেন ইমরুল। ১৬ বলে ১৫ রান করে মাহমুদউল্লাহ বিদায় নিলেও অন্য প্রান্তে হাল ধরে রাখেন বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।  

এরপর নাসির হোসেন মাত্র ৩ রান করে বিদায় নিলেও বাকি পথটা অনায়াসেই পাড়ি দেন ইমরুল। এই বাঁহাতি শেষ পর্যন্ত ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩৩ বলের ইনিংসটি ৩ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো।

বল হাতে ৪ ওভারে ২৭ রানে ২ উইকেট তুলে নিয়েছেন রংপুরের লুইস গ্রেগরি। আর ১টি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন নবী ও টম অ্যাবেল।

ছবি: শোয়েব মিথুনএর আগে রংপুরের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ২৫ রান তোলেন মোহাম্মদ শাহজাদ ও নাঈম। তবে ব্যক্তিগত ৯ রানে কেসরিক উইলিয়ামসের বলে ফিরে যান আফগানিস্তান তারকা শাহজাদ। এরপর টম আবেল ও জহুরুল ইসলামরা সুবিধে করতে পারনেনি। দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী ১২ বলে ২১ রান করলেও উইলয়ামসের দ্বিতীয় শিকার হলে নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি।

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে অবশ্য উইকেটে অবিচল থাকেন নাঈম। ২৬ বলে তুলে নেন ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির সুযোগ থাকলেও ১৮তম ওভারে রুবেল হোসেনের বলে তুলে মারতে গিয়ে বিদায় নেন। শেষ পর্যন্ত বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ৫৪ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭৮ রান করেন।

ছবি: শোয়েব মিথুনচট্টগ্রাম বোলারদের মধ্যে কেসরিক উইলয়ামস ও রায়ান বার্ল দুটি করে উইকেট পান। এছাড়া রুবেল হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট দখল করেন।

এই নিয়ে ৩ ম্যাচে ২ জয় আর এক হারে চলতি আসরের পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে চট্টগ্রাম। আর দুই ম্যাচেই হেরে যাওয়া রংপুর আছে একদম তলানিতে।

দল হারলেও অনবদ্য ৭৮ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ  সেরা নির্বাচিত হয়েছেন রংপুরের মোহাম্মদ নাঈম।

বাংলাদেশ সময়: ১৭১০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
এমএইচএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa