ঢাকা, শনিবার, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫ রজব ১৪৪৪

বিএনপি

বিএনপি’র শূন্য ঢাকে বাড়ি, সরকারেরও বাড়াবাড়ি

আসাদ জামান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫০৪ ঘণ্টা, নভেম্বর ১, ২০১৬
বিএনপি’র শূন্য ঢাকে বাড়ি, সরকারেরও বাড়াবাড়ি

ঢাকা: বড় বড় জাতীয় ইস্যুতে নীরব থাকলেও ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে বিএনপি। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এরই মধ্যে আবেদন করেছে দলটি।

দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করছে ঢাকা মহানগর বিএনপি।
 
এদিকে বিএনপির সমাবেশ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা নানা নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। ভাষণ-বক্তৃতায় তারা যে ভাষায় কথা বলছেন, তার মধ্যে সমাবেশ না করতে দেওয়ার ইঙ্গিত দেখছে বিএনপি।
 
বিশেষ করে আওয়ামী লীগের যু্গ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের বক্তব্য বিএনপিকে ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে হানিফ হুমকির সুরে বলেছেন, ‘সিপাহী বিপ্লবের নামে মাঠে নামলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’
 
সুতরাং ৭ নভেম্বর নিয়ে বিএনপির ‘অতিমাত্রায়’ প্রস্ততি ও তার চেয়ে বেশি মাত্রায় প্রচার-প্রচারণাকে ‘খালি ঢাকে বাড়ি’ এবং আওয়ামী লীগের কঠোর অবস্থানকে ‘বাড়াবাড়ি’ হিসেবে দেখছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, অন্যান্য জাতীয় দিবস-যেমন ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ গোটা জাতির কাছে একই মাত্রায়, একই চেতনায় উদ্ভাসিত হলেও ৭ নভেম্বর সেই সার্বজনীনতা পায়নি।
 
এই দিনটিকে বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে। আওয়ামী লীগ পালন করে ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে।   অন্য দিকে ৭ নভেম্বর এর অন্যতম পার্শ্ব চরিত্র জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এই দিনটিকে পালন করে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে।
 
এখন প্রশ্ন উঠছে, এত জাতীয় ইস্যু থাকতে ৭ নভেম্বর নিয়ে এত সরব কেন বিএনপি? এ ব্যাপারে বিএনপি নেতাদের ভাষ্য হলো- মূলত দু’টি কারণে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ নিয়ে তাদের এই তোড়জোর। প্রথমত এই ৭ নভেম্বরের ভেতর দিয়েই বিএনপির উত্থান এবং বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য আওয়ামী লীগের নির্বাসন।
 
সুতরাং দলের এই দুযোর্গকালে ৭ নভেম্বরকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে সোনালী অতীতকে স্মরণ করতে চায় বিএনপি। দ্বিতীয়ত দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা বিএনপি ৭ নভেম্বর উপলক্ষে একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে নেতা-কর্মীদের ফের মাঠে ফেরাতে চায়। এতে করে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চাঙ্গা ভাব যেমন ফিরে আসবে, তেমনি বিএনপির ব্যাপারে সরকারের মনোভাব কী?-তাও বোঝা যাবে।

তবে বিএনপির ভেতর থেকেই কেউ কেউ মনে করছেন, মাঠে নামার আগেই ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সমাবেশ না করতে দেওয়ার প্লাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও ভাবতে হবে। কারণ, বর্তমানে বিএনপির যে অংশটি দল পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, সে অংশটির বিরুদ্ধে সরকারের সঙ্গে লিয়াজোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বাংলানিউজকে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার তারা করবেই। আমরা ধীরে চললেও করবে। ফাস্ট চললেও করবে। তারপরও আমরা আশাবাদী আমাদের কর্মসূচি পালনে তারা সহযোগিতা করবে।
 
এদিকে সমাবেশের আগেই আওয়ামী লীগ নেতাদের নানা রকম নেতিবাচক বক্তব্যের কারণ খোঁজার চেষ্টা করছে বিএনপি। দলটির বেশিরভাগ নেতাই মনে করেন, আওয়ামী লীগ কোনো অবস্থাতেই বিএনপিকে জমাট বাঁধতে দেবে না। অতীতের মতই চাপে রাখার চেষ্টা করবে।  
 
আর সমাবেশ করতে দিলেও এমন এক সময় তারা অনুমতি দেবে, যখন পুরোপুরি প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এ কারণেই শুরু থেকে বিএনপির সমাবেশ নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের এই আচরণে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমাদের সঙ্গে তারা বরাবরই এমন আচরণ করে। এর মধ্যে দিয়েই আমাদের এগোতে হয়।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৫০৩ ঘণ্টা, অক্টোবর, ০১, ২০১৬
এজেড/আরআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa