ঢাকা: বাংলাদেশে আইএস এর খলিফা নিয়োগের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে আইএস-এ যোগ দেওয়া গুটিকয়েক বাংলাদেশি ফিরতে চাইলে গ্রেফতার এড়ানো অসম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

">
bangla news

দেশে আইএস খলিফা নেই, ফিরতে চাইলে গ্রেফতার এড়ানো অসম্ভব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | আপডেট: ২০১৯-০৪-২৩ ৬:২৯:৫২ পিএম
দেশে আইএস খলিফা নেই, ফিরতে চাইলে গ্রেফতার এড়ানো অসম্ভব
সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত 'মিট উইথ মনিরুল ইসলাম' শীর্ষক অনুষ্ঠান/ছবি: বাদল

ঢাকা: বাংলাদেশে আইএস এর খলিফা নিয়োগের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে আইএস-এ যোগ দেওয়া গুটিকয়েক বাংলাদেশি ফিরতে চাইলে গ্রেফতার এড়ানো অসম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত 'মিট উইথ মনিরুল ইসলাম' শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)।

সম্প্রতি আইএস এর একটি ভিডিওতে বাংলাদেশে খলিফা নিয়োগের বিষয় বলা হয়েছে। এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, এটা আইএস এর নিজস্ব দাবি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ কেউ আইএস-এ যোগ দিয়েছিলো, তাদের মধ্য থেকে হয়তো প্রবাসী খলিফা বানানো সম্ভব। তারা কিন্তু বলেনি খলিফা কোথায় আছে? বাংলাদেশে আইএস এর কোনো খলিফা নেই, ইরাক-সিরিয়াতে থাকতে পারে।

আইএস-এ যোগ দেওয়া বাংলাদেশিরা দেশে ঢুকে পড়লে অস্বস্তিকর হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অল্পকিছু লোক ২০১৪ সালের শেষ দিকে আইএস-এ যোগ দিয়েছে। সে হিসেবে ইতোমধ্যে তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ইরাক বা সিরিয়া থেকে দেশে ফিরতে চাইলে অবশ্যই তাকে বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে। প্লেনে দেশে ফিরতে হলে অবশ্যই তাদের পাসপোর্ট লাগবে। এখন এজন্য তাদের পাসপোর্টের আবেদন করতে হবে।

সিরিয়া থেকে সরাসরি বাংলাদেশে আসা যাবে না, তাকে অবশ্যই তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে আসতে হবে। ইরাক বা সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে যখন ট্রাভেল পাসের আবেদন পাচ্ছি সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে তাদের পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।

সেসব দেশ থেকে যারাই ফিরছে, তাদের ইমিগ্রেশনে একটা স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে আসতে হচ্ছে। এছাড়া সেখানে গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে। তাই আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের দেশে আসা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারাই আইএস-এ যোগ দিতে গেছেন, আমাদের ধারণা মতে তাদের কেউ ধরা পড়েছে, কেউ নিহত হয়েছে অথবা কেউ চিহ্নিত হয়েছেন। কেউ ফিরতে চাইলে আইনগত দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে দেশে অবস্থান করা কেউ থাকলেও দেশের কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

ইরাক বা সিরিয়াতে কতোজন বাংলাদেশি গেছে বা সেখানে মারা গেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশই তাদের দেশের কতোজন গেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক কমিউনিটির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে, কারো কোনো তথ্য পেলে আমরা জানতে পারি।

রোহিঙ্গাদের জঙ্গিবাদে জড়ানোর সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। তারা দীর্ঘদিন এদেশে থাকলে সোশ্যাল ডিজঅর্ডারসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যেতে পারে। তাদের দেশে পাঠাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। রোহিঙ্গারা তাদের বাড়ি হারিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে তারা এদেশে অবস্থান করলে উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠনগুলো তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে আমাদের দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থা রোহিঙ্গাদের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে রেখেছে। যতোদিন তারা এ দেশে রয়েছে, আমাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

ধর্মভিত্তিক জঙ্গিবাদের আমদানিকারকরা চিহ্নিত হয়েছে কিনা? এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথম দিকে যারা আফগানিস্তান গিয়েছিল তারাই দেশে ফিরে ধর্মীয় ও সহিংসতাভিত্তিক জঙ্গিবাদের সূচনা করেছে। প্রথমদিকের এসব আমদানিকারকদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে, কেউ মারা গেছে। তিন-চারজন হয়তো পলাতক রয়েছে তবে সবাই চিহ্নিত।

‘পরের ধাপে তামিম ও সারোয়ার জাহানদের গ্রুপের প্রায় সবাইকেই চিহ্নিত করে নিবৃত করা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে যাদের নেতা বানানো হয়েছে তাদের অনেকেই গ্রেফতার বা অভিযানকালে নিহত হয়েছেন। এ তত্ত্ব যারা আমদানি বা প্রয়োগ করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।’

কারাগারে জঙ্গিবাদ ছড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, এটি একটি গ্লোবাল সমস্যা। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশে কারাগারে জঙ্গিরা রেডিক্যালাইজড হচ্ছে। বাংলাদেশেও এমন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর অন্যতম কারণ মামলার দীর্ঘসূত্রিতায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা। তবে এই দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দু’টি সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছে। আরো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সেসব মামলাগুলো নিষ্পত্তি চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ক্র্যাবের সভাপতি আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক দীপু সারওয়ার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমানসহ ক্র্যাব নেতা ও সিটিটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

***বাংলাদেশে কিছু করার সামর্থ্য নেই উগ্রবাদীদের
বাংলাদেশ সময়: ১৮২২ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৩, ২০১৯
পিএম/এএ

Phone: +88 02 8432181, 8432182, IP Phone: +880 9612123131, Newsroom Mobile: +880 1729 076996, 01729 076999 Fax: +88 02 8432346
Email: news@banglanews24.com , editor@banglanews24.com
Marketing Department: 01722 241066 , E-mail: marketing@banglanews24.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কপিরাইট © 2019-06-20 12:30:12 | একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান