bangla news

‘আনোয়ার ভাইর দোকান’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | আপডেট: ২০১১-০২-২৬ ৬:০৪:৩৪ পিএম
‘আনোয়ার ভাইর দোকান’

ফেব্রুয়ারির প্রতিটি বিকালে বইমেলার সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের নিত্তনৈমিত্তিক ফোনালাপের উদাহরণ এটি। বিকাল পাঁচটা বাজতেই ভিড় জমে যায় বাংলা একাডেমীর সমন্বয় ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মুর্শিদ আনোয়ারের কক্ষে।

ঢাকা: -মুন্না ভাই আপনে কই?
- আনোয়ার ভাইর দোকানে।
- আর কে কে আছে?
- সাগর ভাই, তারেক ভাই, মুশতাক ভাই, মুরসালিন... অনেকেই আছে। আপনি কোথায়?
- আমি এই যে মেলার গেটে। এখনই আসছি, থাকেন।

ফেব্রুয়ারির প্রতিটি বিকালে বইমেলার সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের নিত্তনৈমিত্তিক ফোনালাপের উদাহরণ এটি। বিকাল পাঁচটা বাজতেই ভিড় জমে যায় বাংলা একাডেমীর সমন্বয় ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মুর্শিদ আনোয়ারের কক্ষে।

কক্ষে ঢুকতেই দেখা আনোয়ার ভাইয়ের দু’ঠোঁটের মায়ময় হাসি আর পেছনে কম্পিউটারে কম্পোজরত সালাম ভাইয়ের (আবদুস সালাম) স্বাগতসূচক হাত ওঠানোই ছিল নিত্যদিনের দৃশ্য। জমে ওঠে বইমেলা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার অন্যরকম এক আড্ডা। সাংবাদিকদের বিভিন্ন আক্রমণাত্মক প্রশ্নের মুখোমুখিও হন আনোয়ার ভাই। আর জবাবের ‘কৌশল’ যে তার ভালো জানা, তার বুঝিয়ে দেন।

আড্ডার ফাঁকে কলিং বেল টেপেন আনোয়ার ভাই। কখনও সাইদুর ভাই, কখনো বা তরিকুল ভাই আবার কখনো ছুটে আসেন স্বপন ভাই, বুলবুল ভাই। টেবিলের উপর রাখা টোস্ট বিস্কিটের শূন্য ঝুড়িটি তুলে ধরেন আনোয়ার ভাই। অর্থাৎ ‘বিস্কিটের টিন থেকে টোস্ট ঢালো’। আর নির্দেশ দেন ‘সবাইকে চা দাও’।

সাংবাদিকদের মুখ কিছুক্ষণের জন্য হলেও মগ্ন থাকে চায়ে চুমুক দেওয় আর বিস্কিট চিবানোয়। এক সময় বিস্কিট ফুরিয়ে যায়। এস এম মুন্না আবার হাঁক ছাড়েন- আনোয়ার ভাই , বিস্কিট তো শেষ। এরপর আবার কলিং বেল টেপা... আবার ঝুড়ি পূর্ণ হওয়া...। এভাবেই ঘণ্টাখানেক পার।

এরই মধ্যে বইয়ের তালিকা কম্পোজের কাজ সেরে নেন সালাম ভাই। প্রিন্ট করে তা বিলি করেন উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে। সাংবাদিকরা তা নিয়ে একে একে কেটে পড়েন।

শূন্যকক্ষে এক মনে শুরু হয় সালাম ভাইয়ের দিনের আলোচনা অনুষ্ঠানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি কম্পোজ। এরপর বইয়ের তালিকা, মোড়ক উন্মোচিত বইয়ের সংখ্যা আর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ই-বার্তায় পাঠিয়ে দেন সব সাংবাদিকের কাছে।

শুধু এ কাজ করেই শেষ নয়। সাগর ভাই, মুন্না ভাইরা তার কক্ষে বসে মাঝেমধ্যে ল্যাপটপে নিজেদের রিপোর্টও তৈরি করে নেন। সাজিদা পারুল তো সালাম ভাইয়ের কম্পিউটার দখল করে নিয়েছিলেন কয়েকদিন। আর প্রচ্ছদ স্ক্যান করে দেওয়ার ‘সহজ ঝক্কি’টি কাঁধে নেন সালাম ভাই। এর বাইরেও অফিসে ফিরে যাওয়া সাংবাদিকদের টেলিফোন বা মোবাইল ফোনে বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাব দিতে হয় আনোয়ার ভাইকে।

আর মাত্র দু’দিন- ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি। এসব কর্মযজ্ঞের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। আর এই বিদায় বেলায় শনিবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমীর পক্ষ থেকে আনোয়ার ভাই সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিলেন একাডেমীর একটি করে প্রকাশনা।

‘ঐতিহাসিক অভিধান’ নামের এ বইটি উপহার পেয়ে সাংবাদিকরা খুশি হলেও সবার মনেই বেজে উঠেছিল বিদায়-বিরহের সুর। আবার সেই ছুটি- এক বছরের। আর আগামী বছরই বা এবারের সবাই থাকবে কি-না সে প্রশ্ন তো আছেই।

বাংলাদেশ সময়: ২২২৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১১

Phone: +88 02 8432181, 8432182, IP Phone: +880 9612123131, Newsroom Mobile: +880 1729 076996, 01729 076999 Fax: +88 02 8432346
Email: news@banglanews24.com , editor@banglanews24.com
Marketing Department: 01722 241066 , E-mail: marketing@banglanews24.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কপিরাইট © 2019-08-18 19:25:09 | একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান