ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮, ০৩ আগস্ট ২০২১, ২৩ জিলহজ ১৪৪২

বাংলানিউজ স্পেশাল

বুয়েট পরিক্রমা-৩

বুয়েটের সাফল্য বিশ্বব্যাপী, প্রাপ্তি অনেক

মনোয়ারুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯৫৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ১০, ২০১১
বুয়েটের সাফল্য বিশ্বব্যাপী, প্রাপ্তি অনেক

ঢাকা: বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশলীদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। দেশের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণেও ভূমিকা রেখেছেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা।



পদ্মা  সেতু, বঙ্গবন্ধু সেতু, রূপসা সেতু, চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণ, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভবন সিটি সেন্টার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, নগর ভবন, গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার, হাতিরঝিল প্রকল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, বিভিন্ন বাঁধ, সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, দেশের একমাত্র নভোথিয়েটার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও প্রকল্প বুয়েটের বড় বড় কীর্তির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

দেশের প্রথম লবণ পরিশোধনাগারের ডিজাইন করেছিলেন বুয়েটের প্রকৌশলীরা। বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা এবং প্রিপেইড এনার্জি মিটার বাংলাদেশি প্রকৌশলীদেরই উদ্ভাবন।

শিক্ষাজীবন থেকেই সর্বত্রই বুয়েটের শিক্ষার্থীদের সাফল্য অসাধারণ। একইসঙ্গে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে প্রতি বছর সাফল্য অর্জন করে যাচ্ছে বুয়েট।

রোবট প্রতিযোগিতায়ও বুয়েট তথা বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সাফল্য আশাব্যঞ্জক।

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস শিক্ষার্থীদের প্রধান আন্তর্জাতিক সংগঠন আইইইয়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বুয়েটের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সাফল্য পাচ্ছেন।

গ্র্যাজুয়েশনে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র দেশি-বিদেশি জার্নালে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।

বিদেশে এমআইটি, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা শ্যাম্পেন, সাউথ ক্যারোলিনা ইউনিভার্সিটিসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপের বিখ্যাত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রকৌশল স্নাতকরা যাচ্ছেন এবং সাফল্য অর্জন করছেন।

বুযেটের গর্বিত শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের কথা

বিদেশে দেশের মুখ উজ্জ্বলকারী প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খান (এফআরখান)। যখন বুয়েট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি আলাদা অনুষদ ছিল সে সময়ের ছাত্র তিনি।

১৪৫০ ফুট উঁচু এবং ১১০ তলাবিশিষ্ট সিয়ার্স টাওয়ার সোজা আকাশের বুকে তুলে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন তিনি। তিনি তার কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৩টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন যা বিশ্বে বিরল।

আমেরিকার লিহা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সম্মানে ‘এফআরখান চেয়ার’ চালু করা হয়েছে।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় গবেষক হিসেবে কাজ করছেন বুয়েট থেকে ১৯৬৯ সালে যন্ত্রকৌশলে স্নাতক করা এম কামরুজ্জামান। তার টার্বোলেন্ট ফ্লো থিওরির জন্য তিনি নাসার সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘নাসা অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পান।

প্রবাহী গতিবিদ্যার বিশ্ববিখ্যাত একজন গবেষক হলেন ফজলে হোসেন। বর্তমানে তিনি হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।

ফ্লুয়েড মেকানিজমে বুয়েটের প্রকৌশলীদের মধ্যে ফজলে হোসেন ও এম কামরুজ্জামানের অবদান দেশে ও দেশের বাইরে ছড়িয়ে আছে। ফজলে হোসেন সম্পর্কে বুয়েটের উপাচার্য বলেন, ‘তিনি ছিলেন ফ্লুয়েড মেকানিজম বিশ্বের শীর্ষ গুরুদের একজন। ’
 
১৯৭৪ সালে তড়িৎকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করা সাইফুর রহমান ভার্জিনিয়াটেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, খনি খননসহ ইত্যাদি বিষয়ে অনেক মৌলিক গবেষণা করেছেন ।

মোটর বিষয়ে বিশ্বব্যাপী অনেক বিখ্যাত গবেষণায় সুপরিচিত বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের ষাটের দশকের ছাত্র আজিজুর রহমান বর্তমানে কানাডায় গবেষণা করছেন। বাঙালিদের মধ্যে হাতেগোনা যে কয়েকজন আই ট্রিপলই ফেলো আছেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তার আবিষ্কৃত ম্যাগনেটিভ কয়েলের জন্য তিনি ‘কফম্যান অ্যাওয়ার্ড’ পান ২০০৭-এর মার্চে। তিনি প্রথম কানাডিয়ান নাগরিক যিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন।

বাংলাদেশি নারী প্রকৌশলীদের অর্জনও কম নয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে রোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে কাওসার জাহান পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত।

জামিলুর রেজা চৌধুরী, ১৯৬৩ সালে তিনি বুয়েট থেকে স্নাতক পাস করেন। একই বছর তিনি বুয়েটে শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার ৬০টির মতো গবেষণাপত্র রয়েছে ।

বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত পানি নিযে গবেষণায় বিখ্যাত।

বুয়েটের সাবেক ছাত্র এম এ জব্বার ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। তিনি বাংলাদেশের রোড নেটওয়ার্ক তৈরি করেন।

ড. হাসনাত বাংলাদেশের অনগ্রসর ও প্রতিকূল এলাকাগুলোয় সেতু নির্মাণ করেন।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের যে সব প্রকৌশলী দেশে-বিদেশে স্বমহিমায় নিজে উজ্জ্বল হয়েছেন এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন তাদের সংখ্যা কম নয়।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাফল্য বিশ্বব্যাপী। বুয়েটের অনেক ছাত্রই এখন বিভিন্ন দেশখ্যাত ও বিশ্বস্বীকৃত বিশেষজ্ঞ। আমরা দেশের সেবায় কাজ করে যাবো। বুয়েটের সাফল্য দেশেরই সাফল্য ।

বাংলাদেশ সময়: ০৮০৮ ঘন্টা, ১০ এপ্রিল ২০১১

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa