ঢাকা, রবিবার, ৯ মাঘ ১৪২৮, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাহরাইন

কোটি টাকা নিয়ে প্রবাসীর উধাওয়ের অভিযোগ

মোসাদ্দেক হোসেন সাইফুল,বাহরাইন করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৪৯ ঘণ্টা, আগস্ট ৭, ২০১৫
কোটি টাকা নিয়ে প্রবাসীর উধাওয়ের অভিযোগ ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মানামা (বাহরাইন): বাহরাইনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়‍ার অভিযোগ উঠেছে খালেদ মাহমুদ অলীদ ওরফে অলীদ আহমেদ নামে এক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) দেশটির রাজধানী মানামার একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এ অভিযোগ করেন।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জসিম উদ্দীন আহমেদ।

তিনি বলেন, অলীদ বাহরাইনে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন মানুষকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে ‘বৃহত্তর সিলেট সোসাইটি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেন। প্রথমে কিছু সমাজসেবামূলক কাজ করে প্রবাসীদের তার প্রতি আকৃষ্ট করেন। এক পর্যায়ে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রবাসীদের কাছ থেকে কোটি টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।

‘ব্যবসায়িক ধার-দেনা ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছেন তিনি। এছাড়া ভিসা পরিবর্তন ও নবায়ন, পাসপোর্ট বানানো এবং নবায়নসহ বিভিন্নভাবে প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন অলীদ,’ অভিযোগ করেন জসিম আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, পাসপোর্ট অনুযায়ী অলীদের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বাগাউড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. ইউনুস। তার বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি, চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎ,সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, পাসপোর্ট আটকে টাকা আদায়, ছিনতাইসহ বিভিন্ন বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িতের অভিযোগ রয়েছে।

বাহরাইন কোস্ট গার্ডে কর্মরত আবদুল্লা শাহজাহান জানান, অলীদ তার ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে যে কোনো শ্রেণীর মানুষকে ভোলাতে সক্ষম। ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে অলীদ তার কাছ থেকে ১৬,০০০ দিনার (৩২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা) নিয়ে পালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে মানামাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি তাজউদ্দীন সিকান্দার বাংলানিউজকে বলেন, নতুন রাষ্ট্রদূত কে এম মুমিনুর রহমান যোগদানের পর অসংখ্য প্রবাসী অলীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেছেন। পরে তিনি বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।

‘এ বিষয়ে তার (অলীদ) সঙ্গে সাক্ষা‍ৎ করে বৈঠক করি এবং মানুষের পাওনা পরিশোধের কথা বলি। কিন্তু তিনি সে‌ কথা রক্ষা করেননি। এক পর্যায়ে তিনি গ্রেফতার হন। এরপর জামিনে মুক্তি পেলেও গত ২৯ জুলাই তিনি তার এক কর্মচারী রুহুল আমীনের পাসপোর্টের ছবি পরিবর্তন করে পালিয়ে যান। ’

দূতাবাসের কাছে অভিযোগ রয়েছে তিনি এর আগেও দুবাইয়ে একই ধরনের কাজ করে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। অতি দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় যেন আনা হয় এ বিষয়েও জোর দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী ছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৮ ঘণ্টা, আগস্ট ০৭, ২০১৫, আপডেট ২৩২৭
এমএ/আইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa