ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আওয়ামী লীগ

‘প্রার্থী না থাকলে তো বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হবেই’ 

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫১২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৭
‘প্রার্থী না থাকলে তো বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হবেই’  আওয়ামী লীগ নেতা ফারুখ খান। ফাইল ফটো

ঢাকা: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেছেন, গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ১৫৪ এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রার্থী না থাকলে তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেনই। আমরা তো জোর করে প্রার্থী ধরে আনতে পারবো না। 

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।  

একটি অনলাইন নিউজপোর্টাল আয়োজিত ‘নতুন বছর: কেমন হবে ভোট-রাজনীতি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় ফারুক খান বলেন, আমরা কাউকে ঘাড় ধরে নির্বাচনে দাঁড় করাতে পারি না।

রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কারণ সুষ্ঠুভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।  

‘রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ সঠিক না থাকলেই নির্বাচন সংঘাতময় হয়। নির্বাচনকে নির্বাচনের মতো মনে করলে সব নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। আমরা চাই প্রচলিত আইন মোতবেক সেনাবাহিনীকে নির্বাচনে মোতায়েন করা হোক। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে, অতীতেও হয়েছে। ’ 

আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহাবুবুর রহমান বলেন, দেশে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা সাধারণ মানুষের আশায় প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। প্রধান বিচাপতি যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে বিচার বিভাগের কাছে আমরা কি আশা করতে পারি। আইনের শাসনের কি অবস্থা তা আমরা বুঝতে পারি।  

সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আপনারা একেকজন ক্ষমতায় এসে ১০০ বছর থাকেন। জনগণ যতক্ষণ আপনাদের টেনে না নামায়। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসুন। তখন আপনি ক্ষমতায় থাকবেন। কেউ প্রশ্ন তুলবে না।  

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কথা বলতে গেলে আমাদের সঠিক গণতন্ত্রের কথা বলতে হবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঠিক করতে পারলে আমাদের দেশ আরো অনেক এগিয়ে যাবে। ’

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। বয়কট করার অধিকারও রয়েছে। তবে নির্বাচন প্রতিহত করা গণতান্ত্রিক অধিকার নয়। প্রতিহত করার নামে সন্ত্রাসী কায়দায় মানুষ হত্যাও কাম্য নয়। যা আমরা অতীতে দেখেছি।  

তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে যারা মুক্তিযুদ্ধে বিরোধী শক্তি তাদের সঙ্গে জোট করাও চলবে না। গণতন্ত্রের নামে আদালত কর্তৃক যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত দল নির্বাচনী মাঠে থাকবে আমরা আর সেটা দেখতে চাই না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সুষ্ঠু নির্বাচন আমাদের আশা জাগিয়েছে। কিন্তু সেই আশা আমাদের গুড়ে বালি হতে পারে। কারণ কাজী রকীব উদ্দিন আহমদ কমিশনও পাঁচটি সিটি করপোরেশন সুষ্ঠুভাবে করেছিল। কিন্ত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি কি হয়েছে তা সবাই দেখেছে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার, সাবেক কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমেদ, নারী সংগঠক খুশি কবির, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জে. (অব.) আব্দুর রশিদ, জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল আলম, ৭১ টেলিভিশনের পরিচালক বার্তা সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ শাহেদ, বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রমুখ।  

বাংলাদেশ সময়: ২১১২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৭
এসই/এসএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa