ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ শাবান ১৪৪৫

এভিয়াট্যুর

টার্কিশ এয়ারের ভাওতাবাজি!

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭৩১ ঘণ্টা, মার্চ ১০, ২০১৫
টার্কিশ এয়ারের ভাওতাবাজি!

ঢাকা: ৪০০ মার্কিন ডলারে রিটার্ন টিকেট। এর বাইরে ট্যাক্সও দিতে হবে না।

ঢাকা থেকে যেতে পারবেন ইউরোপ-আমেরিকার ২০টি গন্তব্যে।

বাহ! আকাশপথে এর চেয়ে কম মূল্যে আর কে টিকেট দিতে পারবে!

এ ধরনের একটি অবিশ্বাস্য মূল্যে টিকেট বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে ইস্তাম্বুলভিত্তিক এয়ারলাইন্স টার্কিশ। রোববার দেশের জাতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে অর্ধেক পৃষ্ঠা জুড়ে দেওয়া হয়, এ বিজ্ঞাপনটি। লোভনীয় অফার দেখে ওইদিনই অনেকেই ঢাকার টার্কিশ এয়ারলাইন্সে মোবাইল ফোন ও সরাসরি যোগাযোগ করেন।   
 
তবে যোগাযোগ করে হতাশ হয়েছেন অনেকেই। ঢাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরে মোসাব্বির আহমেদ। সকালে পত্রিকায় ওই বিজ্ঞাপন দেখে খুবই উৎসাহী হয়ে ওঠেন। ফোন দেন টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা অফিসে। কিন্তু ওপাশ থেকে আসা উত্তরে সকালের সেই আগ্রহ-উৎসাহ মিলিয়ে গেল মুহূর্তেই।
      
ফোনের অন্যপ্রান্ত থেকে উত্তর আসে- ‘বিজ্ঞাপনটি ভুলে চলে গেছে। ’ উত্তর শুনে মোসাব্বির আহমেদের চক্ষু চড়কগাছ। বলেন কী! জাতীয় পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন ভুলে গেছে; এটা কীভাবে সম্ভব! বিস্ময়ে মোসাব্বির আহমেদ জানতে চাইলেন, টিকেট কি নেই, নাকি অন্য কোনো সমস্যা- এ সব প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন রেখে দেওয়া হলো।  

এখানেই শেষ নয়। এত সবের পরেও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে আরো। রাউন্ড ট্রিপের এই  (ট্যাক্সসহ) টিকেটের মূল্য নির্ধারিত হবে আবার টিকেট প্রাপ্তির ওপর এর। অর্থাৎ বিজ্ঞাপনে দেওয়া মূল্যটি যে আর ঠিক থাকছে না, তা স্পষ্ট। এ টিকেটে ভ্রমণের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই সময়ের মধ্যে ভ্রমণ করতে হবে।

বিষয়টি জানতে নিজেকে একজন যাত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাংলানিউজের পক্ষ থেকে ফোন দেওয়া হয় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের অফিসে। টার্কিশ এয়ারের দায়িত্বরত কর্মী জানান, তাদের টিকেট শেষ হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপনের একদিনের মধ্যেই টিকেট শেষ হয়ে গেছে! কীভাবে সম্ভব?

উত্তরে তিনি বলেন, মানুষের প্রচুর সাড়া ছিল। তাই, টিকেট শেষ।

এবার কণ্ঠটি একটু মোলায়েম করে জানতে চাইলাম, আসলে কতটি টিকেট ছেড়ে ছিলেন যে, সব টিকেট শেষ হয়ে গেল। তিনি বললেন, সত্যি বলতে একটি ফ্লাইটে এক/দুইটার বেশি টিকেট ছাড়া হয়নি। প্রতি ফ্লাইটে একটি টিকেটের জন্য পত্রিকায় অর্ধেক পাতা জুড়ে এত বড় বিজ্ঞাপন! - এই প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বললেন, এটি কর্তৃপক্ষের বিষয়। কথা আর বাড়ালেন না তিনি।   

বিজ্ঞাপনে লেখা হয়েছে- লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ডাবলিন, প্যারিস, ব্রাসেলস, আমস্টার্ডাম, জুরিখ, নেপলস, বার্সেলোনা, ফ্রাঙ্কফ্রুর্ট, ডুসেলড্রফ, লিসবন, কোপেনহেগেন, হেলসিংকি, সোফিয়া, বোস্টন, মন্ট্রিলসহ ইউরোপ ও আমেরিকার ২০টি রুটে যাওয়া যাবে। প্রত্যেক রুটের টিকেট মূল্যই ৪০০ মার্কিন ডলার।   

১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত টার্কিশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে ২৬১টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে। এর বহরে রয়েছে, ২৬৩টি উড়োজাহাজ। এয়ারলাইন্সটি ঢাকা থেকে সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

টার্কিশ এয়ারের এ ধরনের বিজ্ঞাপনের বিষয়ে বিমান চলাচল বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ নাম না প্রকাশের শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, মাঝে-মাঝেই এ ধরনের বিজ্ঞাপন দেখা যায় বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব বিজ্ঞাপন ভাওতাবাজি আর তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। এসবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যাত্রীদের সঙ্গে এটা প্রতারণার শামিল।

বাংলাদেশ সময়: ০৭৩৩ ঘণ্টা, মার্চ ১০, ২০১৫

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।