bangla news

বগুড়া বইমেলায় বইপ্রেমীদের ভিড়, শেষ হচ্ছে শনিবার

কাওছার উল্লাহ আরিফ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০২-২৮ ৪:৪৪:০৭ পিএম
বগুড়া বইমেলায় আসা দর্শনার্থী। ছবি: বাংলানিউজ

বগুড়া বইমেলায় আসা দর্শনার্থী। ছবি: বাংলানিউজ

বগুড়া: পাল্লা দিয়ে ফুরিয়ে যাচ্ছে সময়। এরইমধ্যে সপ্তমদিন পেরিয়ে অষ্টমদিনে পা দিলো বগুড়ার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বইমেলা। হাতে সময় আছে আর মাত্র একদিন। এরপরই বেজে উঠবে বিদায়ের ঘণ্টা।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শহরের শহীদ খোকন পার্কে আয়োজিত মেলায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেষ সময়ে এসে জমে উঠেছে মেলা। পাঠক ও দর্শকদের উপস্থিতি আগের থেকে বেড়েছে কয়েকগুণ। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে স্টলে স্টলে ছুটছেন সবাই। স্টল ঘুরে ঘুরে সবাই সংগ্রহ করছেন নিজের পছন্দের বইগুলো।

দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা বগুড়ায় প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে বইমেলার আয়োজন করে আসছে জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এ বইমেলার আয়োজন করেছে সংগঠনটি।

মেলায় আছলাম, শাহরিয়ার, টিপুসহ ক’জন বিক্রেতা বাংলানিউজকে জানান, বইমেলায় শিশুতোষ বিভিন্ন বই আছে বিক্রয় তালিকার শীর্ষে। এরমধ্যে ছড়া, কল্পকাহিনী, গল্পের বই, মুক্তিযুদ্ধ, ছোটদের বঙ্গবন্ধু, ভাষা আন্দোলন বিষয়ে বিভিন্ন বই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

 

বইমেলায় আসা স্কুল শিক্ষার্থী

তারা বলেন, সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মেলায় পাঠক থাকছেন। কিছু পাঠক আছেন যারা বাড়ি থেকে বইয়ের নাম তালিকা করে এনে দিচ্ছেন। আমরা চেষ্টা করছি পাঠকের হাতে তার পছন্দের বই তুলে দিতে।

এদিকে মেলায় এসে খালি হাতে ফিরছে না শিশুরা। নিজের পছন্দের জন্য একটি করে হলেও বই কিনছে ওরা।

এদিকে বগুড়া বইমেলায় আসা মেহজাবিন, তামিম, মেহেদী, ইসরাতসহ বিভিন্ন পাঠক বাংলানিউজকে বলছেন, বগুড়ায় বইমেলার আয়োজন হওয়ার অতিরিক্ত খরচ করে আর ঢাকায় যেতে হচ্ছে না। ঢাকার সব বই এখন এ বইমেলাতে পাওয়া যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মেলামঞ্চে নতুন বেশ কিছু বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কবি সিকতা কাজলের কাব্যগ্রন্থ ‘সাতমাথা সিরিজে’র মোড়ক উন্মোচন করেন শিক্ষাবিদ সামস উল আলম। রনি বর্মন সম্পাদিত বামিহাল সাহিত্যের ছোট কাগজের মোড়ক উন্মোচন করেন কবি শিবলী মোকতাদির। কবি সারমিন সীমার কাব্যগ্রন্থ ‘আয়নার ছায়া’র মোড়ক উন্মোচন করেন কবি খৈয়াম কাদের। আজিজার রহমান তাজ সম্পাদিত ১৪ কবির কবিতা নিয়ে মল্লিকা প্রকাশ থেকে প্রকাশিত মনের ফুল কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না। কবি ফাতেমা ইয়াসমিনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তুমি আসবে বলে’র মোড়ক উন্মোচন করেন কবি আজিজার রহমান তাজ। পল্লী কবি জসিম উদ্দীন পরিষদ থেকে মোড়ক উন্মোচন করা হয় দু’টি বইয়ের। অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম চৌধুরীর ‘ছোটদের গল্প পুতুলের কান্না’, কবি আব্দুর রশীদের ‘অনন্ত প্রেমের উপহার’ এবং বাংলাদেশ কবিতা ক্লাব থেকে প্রকাশ পাওয়া ‘পেলাম না এক প্যাকেট প্রেমের কবিতা’ তিনটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না।

এছাড়া মেলায় নির্ধারিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাহিত্য জিজ্ঞাসার সভাপতি কবি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, চর্চা সাংস্কৃতিক একাডেমির সভাপতি মাফুজুল ইসলাম রাজ, সংশপ্তক থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান সুজন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জোটের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সিদ্দিকী, সঞ্চালনা করেন জোটের দপ্তর সম্পাদক এইচ আলিম। অনুষ্ঠানে বগুড়ার বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, কবি সাহিত্যিক, নাট্যকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভার শেষে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুর সারগাম সঙ্গীত একাডেমী, স্বপন রাঙ্গা খেলাঘর আসর, সপ্তসুর সঙ্গীত একাডেমি, শেরপুর থিয়েটার এতে অংশ নেয়।

এদিকে বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের দপ্তর সম্পাদক এইচ আলিম বাংলানিউজকে জানান, বগুড়া বইমেলার সময় আর বাড়ছে না। নিয়ম মেনে শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) শেষ হচ্ছে বইমেলা।

তিনি বলেন, শেষ দিনে বইমেলায় পুন্ড্র সম্মাননা পদক প্রদান করা হবে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. এনামুল হককে। এছাড়া সাবেক এমপি আব্দুল মান্নানের নামে একটি পদকের নামকরণ করা হয়েছে। সমাজসেবা ও রাজনীতিতে বিশেষ অবদান রাখায় এই পদক দেওয়া হবে জেলা পরিষদের চেয়াম্যান ডা. মকবুল হোসেনকে। সমাপনী অনুষ্ঠানে এ পদক ও সম্মাননা দেওয়া হবে। এ ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি সংগঠনকে দেওয়া হবে সনদপত্র।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০
কেইউএ/এবি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   বইমেলা বগুড়া
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

শিল্প-সাহিত্য বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2020-02-28 16:44:07