ঢাকা, শুক্রবার, ৮ চৈত্র ১৪২৫, ২২ মার্চ ২০১৯
bangla news

লেখক-পাঠক-নেতাদের পদচারণায় মুখরিত বইমেলা

ফিচার রিপোর্টার | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০২-১৯ ৯:৪১:০৩ পিএম
বইমেলায় পছন্দের বই খুঁজে নিচ্ছেন পাঠকরা | ছবি: ডিএইচ বাদল

বইমেলায় পছন্দের বই খুঁজে নিচ্ছেন পাঠকরা | ছবি: ডিএইচ বাদল

বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে: একুশে ফেব্রুয়ারির সঙ্গে মিশে আছে বাংলার সংগ্রাম, ইতিহাস ও ঐতিহ্য। তারই অংশ অমর একুশে গ্রন্থমেলা। আর সে মেলার ১৯তম দিনটি মুখরিত ছিল লেখক, বইপ্রেমী পাঠক আর রাজনৈতিক নেতাদের পদচারণায় মুখর।

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বইমেলায় আসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অবস্থিত আওয়ামী যুবলীগের যুব গবেষণা কেন্দ্র ‘যুব জাগরণ’ স্টলটি পরিদর্শন করেন। এদিন মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। 

আর প্রতিদিনে মতো মেলায় বইপ্রেমী পাঠকের আনাগোনা তো ছিলই। মাসব্যাপী বইমেলার মধ্যভাগ পেরিয়ে গেছে, দিনে দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সখ্যা বেড়েই চলেছে বইমেলায়।

মেলায় মঙ্গলবার নতুন বই এসেছে ১৪২টি। এদিন মূল মঞ্চে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন বড়ুয়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আলম তালুকদার, আসলাম সানী, লুৎফর রহমান রিটন, আমীরুল ইসলাম এবং আনজীর লিটন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।

প্রাবন্ধিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি বাতিঘর। সব জাতির জীবনে এমন আলোকবর্তিকা অর্জনের সৌভাগ্য হয় না। সে ক্ষেত্রে বাঙালি সৌভাগ্যবান জাতি। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে বিশ্বে এমন দেশই-বা কয়টি আছে? সুতরাং মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতিসত্তাকে উজ্জীবিত করেছে নতুনভাবে। শিল্প-সংস্কৃতির অন্যান্য শাখার মতো ছড়াসাহিত্য ঘটেছে এর উজ্জ্বল প্রতিফলন।

আলোচকরা বলেন, ছড়া কেবল শিশুতোষ বিষয় নয়। ছড়ার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয় জাতির আত্মা। বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যে এদেশের মহান মুক্তিসংগ্রাম উদ্ভাসিত হয়েছে অনন্য ব্যঞ্জনায়, আবার ছড়াই আমাদের মুক্তিসংগ্রামকে দিয়েছে বিপুল বেগ; কারণ ছড়ার সহজাত আবেগ সাধারণ মানুষকে স্পর্শ করে বিপুলভাবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রূপায়িত হয়েছে নানা মাত্রায়। লোকায়ত ধারা থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত এদেশের ছড়াসাহিত্যের মৌল মর্মে রয়েছে জনমানুষের মুক্তির চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্য তাই এক অভিন্ন অনুভবের নাম। 

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি রবীন্দ্র গোপ, মতিন বৈরাগী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রেজিনা ওয়ালী, এনামুল হক বাবু। সন্ধ্যায় এগনেস র‌্যাচেল প্যারিসের পরিচালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ ‘গীতিনাট্য’ পরিবেশন করেন এবং শাহাবুদ্দিন আহমেদ দোলনের পরিচালনায় ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুর ধারা সংগীতায়ন’র পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শারমিন সুলতানা, সুমন চন্দ্র দাস এবং মো. জাকির হোসেন। 

আগামীকাল বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘সওগাত পত্রিকার শতবর্ষ: ফিরে দেখা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন হাবিব আর রহমান, সোনিয়া নিশাত আমিন, আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ড. মুহাম্মদ সামাদ। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

বাংলাদেশ সময়: ২১২৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯
এইচএমএস/এমজেএফ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   বইমেলা
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14