ঢাকা, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২২ মে ২০১৯
bangla news

প্রথম আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৬-২৬ ৩:০৩:১৫ এএম
ছবি: যুবায়ের রাকেশ

ছবি: যুবায়ের রাকেশ

বাংলা একাডেমীতে রোববার সকালে প্রথম আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ সাহিত্য সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু ‘দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন সাহিত্য’।

ঢাকা : বাংলা একাডেমীতে রোববার সকালে প্রথম আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিন দিনব্যাপী এ সাহিত্য সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু ‘দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন সাহিত্য’।

প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

জাতীয় অধ্যাপক কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন।

অনুষ্ঠানে তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুরাইয়া বেগম এনডিসি। সভাপতিত্ব করেন বাংলা

একাডেমীর সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী পাপিয়া সারোয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জন থর্প, নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন খায়রুল আনাম শাকিল।

এ উপলক্ষে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও চীনের কয়েকজন কবি সাহিত্যিক বাংলা একাডেমীতে উপস্থিত হয়েছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়নে কবি সাহিত্যিকরা পথ প্রদর্শন করে থাকেন। আমি এবার যে জাতীয় বাজেট পেশ করেছি তাতে শিল্প ও সাহিত্যকে উৎসাহিত করতে বাজেট বাড়ানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমীর এই সাহিত্য সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা বাংলা ও দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন অন্যান্য সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি অনুধাবন করতে পারব।’

১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমীতে একটি বিরাট আকারের সাহিত্য সম্মেলন হলেও এবারের সম্মেলনটিই প্রকৃত অর্থে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সাহিত্য হয়তো প্রকৃত সত্য বা বাস্তবের প্রতিফলন নয় কিন্তু সাহিত্যিকের সৃজনশীল কল্পনার মাধ্যমে তা নতুন বাস্তবের জন্ম দিয়ে চলে।

তিনি বলেন, ‘দেশের মৌল নীতিগুলো আমরা কবি সাহিত্যিকদের লেখা থেকেই শিখে থাকি।’

তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্য প্রাচীনকাল থেকেই সমৃদ্ধ ছিল। একাধিক দেশের কবি সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে বাংলা সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হবে বলে আমরা আশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘সাহিত্য মানুষের নতুন জন্ম দান করে, তাকে পরিপূর্ণ মানবিক সত্তায় রূপ দেয়। বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যের মধ্যে মূলত মানুষের জীবনের মর্মই ধ্বনিত হয়।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন বলেন, ‘বাংলাদেশ সংস্কৃতি ও সাহিত্য বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। আমরা
এর উন্নয়নের ব্যাপারে আশাবাদী।’

সমকালীন সাহিত্যের আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে আমরা জীবনের নতুন নতুন মাত্রার সন্ধান পাওয়া যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের রয়েছে গৌরবময় সাহিত্যের ইতিহাস। ‘চর্যাপদ’ এ যে মানবিক বার্তা বাঙালি কবিরা ঘোষণা করেছিলেন তা রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কারের মাধ্যমে বিশ্বসভায় ছড়িয়ে যায়।’

তিনি বলেন, সংস্কৃতিবান্ধব বর্তমান সরকারের সহায়তায় বাংলা একাডেমী এই সাহিত্য সম্মেলন মূলধারার বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাহিত্যের প্রতিও দৃষ্টি দিয়েছে যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সভাপতির বক্তব্যে কবির চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে সাহিত্য ও সংস্কৃতির কোনো সীমানা নেই। আমরা তাই
বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিকদের নিয়ে সুন্দর আগামী রচনা করতে বদ্ধ পরিকর।’

তিন আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিকতা সাহিত্যের মূল বৈশিষ্ট্য। আজকের পৃথিবীতে আমরা বিশ্ববোধ ব্যতীত মহৎ সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারব না। এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিকতার আলোকেই আমরা বাংলা ও দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন সাহিত্যের প্রকৃতি ও প্রবণতা সন্ধান করব।’

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘সাহিত্য মূলত জীবনবোধেরই প্রতিফলন। শৈশব থেকেই আমরা রূপকথার সংস্পর্শে বেড়ে উঠি। সাহিত্যের সঙ্গে আমাদের এই সংযোগ জীবনব্যাপী। বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবন বাস্তবতার সঙ্গে  সাহিত্য কীভাবে সম্পৃক্ত এই সাহিত্য সম্মেলনে আমরা তার উত্তর খুঁজে পাব।’

শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের রয়েছে হাজার বছরের গৌরবময় ইতিহাস। আমাদের মহান কবি রবীন্দ্রনাথ ‘সভ্যতার সংকট’ রচনায় মানবিক বিশ্ব নির্মাণের যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তা আসলে আমাদের অঞ্চলের মানুষের বিশ্ববোধেরই পরিচয়। বাংলা একাডেমী এ বিষয়টি মাথায় রেখে সমকালীন চোখে আলো ফেলার চেষ্টা করতে চেয়েছে চাকমা, মণিপুরি, জাপানি, চীনা, পাকিস্থান ইত্যাদি ভাষার সাহিত্যের অন্তর্মূলে।’

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন সাহিত্য বলতে আমরা এ অঞ্চলের সাহিত্যের সুদীর্ঘ ইতিহাস ও
তার ধারাবাহিকতাকেই বুঝি। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে এ অঞ্চলের দেশগুলো যেমন পৃথক সীমানার অধিকারী, তেমনি ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতিরও অধিকারী।’

তিনি বলেন, ‘ভাষা, ভূগোল ও সংস্কৃতির এই বৈচিত্র্য এই অঞ্চলের সাহিত্যেও প্রতিবিম্বিত। কিন্তু বৈচিত্র্যের মধ্যেও এই অঞ্চলের সাহিত্যের ঐক্য এখানকার সাহিত্যের অন্তর্গত মানবিক বিশ্বদৃষ্টির মধ্যে নিহিত। আর আমরা তা-ই সন্ধান করব এই সম্মেলনে।’

কবি নূরুল হুদা বলেন, ‘এই সাহিত্য সম্মেলন মূলত পরিবর্তিত পৃথিবীতে দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যের বর্তমান অবয়বকে শনাক্ত করার প্রয়াস।’

উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে ‘বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বর্তমান আন্তর্জাতিক তাৎপর্য’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নেদারল্যান্ডের গবেষক ড. পিটার কাস্টার্স।

বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক উইনস্টন ল্যাংলি, প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ জমির, মার্কিন লেখক জন থর্প এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফি আহমেদ।

দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘সমকালীন বাংলা সাহিত্য’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খোন্দকার আশরাফ হোসেন।

আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিয়াজ জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস-এর অধ্যাপক মোহীত উল আলম।

সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

তৃতীয় অধিবেশনে ‘উত্তর-পূর্ব ভারতের জীবনযাত্রায় সাহিত্যের প্রভাব’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের বিশিষ্ট গবেষক ড. সৌমেন সেন।
 
‘সমকালীন চাকমা সাহিত্য’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি সুগত চাকমা এবং ‘সমকালীন মণিপুরী সাহিত্য’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ. কে. শেরাম।

আলোচনায় অংশ নেন প্রভাংশু ত্রিপুরা, কমলেশ দাশগুপ্ত, চৌধুরী বাবুল বড়–য়া, মং স্যুং প্র্যু এবং লে লুং। সভাপতিত্ব করেন চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়।

তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে সাতটি সেশনে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশের বরেণ্য কবি সাহিত্যিকরা প্রবন্ধপাঠ, আলোচনা ও কবিতা পাঠ করবেন।

উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লালন গীতি পরিবেশন করেন শিল্পী ফরিদা পারভীন, পালা পরিবেশন করেন পালাকার ইসলাম উদ্দিন ও তার দল।

তিন দিনের অনুষ্ঠানসূচী হলো :

Schedule


বাংলাদেশ সময়: ১২৫৩ ঘণ্টা, জুন ২৬, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

শিল্প-সাহিত্য বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
db 2011-06-26 03:03:15