ঢাকা, শনিবার, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯
bangla news

‘নজরুল বাংলা ও বাঙালির কথা গভীরভাবে ভেবেছিলেন’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৫-২৫ ১১:১৬:১৯ এএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮ (২৫ মে) বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমীর সেমিনার কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮ (২৫ মে) বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমীর সেমিনার কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

নজরুল-গবেষক ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু কায়সার ও বিশিষ্ট আবৃত্তিকার অধ্যাপক কাজী মদিনা। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করেন কবি আসাদ চৌধুরী।

স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে এ বছরটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। কাজী নজরুল ইসলাম ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মধ্যে দিয়ে বাংলা কবিতায় বিপ্লবী রূপান্তর ঘটান। এ কবিতার ৯০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমী আগামী ডিসেম্বর মাসে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে।

তিনি বলেন, নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার আঙ্গিক, শৈলী ও কাব্যভাষা তাঁকে স্বকীয়তা দান করেছে। তাই নজরুলকে তাঁর সমসাময়িক কবিরা স্বীকৃতি দিতে না চাইলেও রবীন্দ্রনাথ কিন্তু তা যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। নজরুলকে উৎসর্গিত রবীন্দ্রনাথের ‘বসন্ত’ নাটকই এর প্রমাণ। নজরুল বাংলা ও বাঙালির কথা গভীরভাবে ভেবেছিলেন। এর মূলে ছিল অসাম্প্রদায়িক বিজ্ঞানভিত্তিক মানবিক চেতনা।

অধ্যাপক কাজী মদিনা বলেন, বিশ শতকের সূচনালগ্নে সংঘটিত ভারতের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মে গভীর ও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্যই তাঁর সাহিত্যে জাতীয়তা ও সাম্যবাদ যুগপৎভাবে উপস্থিত। হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের কথা বললেও নজরুল নিজে ছিলেন সর্বহারার দলে।

তিনি আরো বলেন, নজরুল সর্বাগ্রে কৃষক-শ্রমিক-মজুর তথা সমাজের তৃণমূল শ্রেণীর মুক্তির কথা বলেছেন। সবার উপরে মানুষ ও মানুষের মাঝেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাই তিনি যুগস্রষ্টা কবি।

অধ্যাপক শান্তনু কায়সার বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে নবধারার সূচনা করেন। সাহিত্যসৃষ্টির সময় নজরুল ইসলাম প্রায়শ নিজের জীবনকে গৌণ বলে বিবেচনা করতেন। তাই তাঁর সাহিত্যে ধর্মানুষঙ্গ, পুরাণ, ইতিহাস ও কৃষ্টির নানাবিষয় লক্ষ করা যায়।

তিনি আরো বলেন, নজরুলের সাহিত্যে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতা, সাম্রাজ্যবাদ তথা ঊপনিবেশবাদ থেকে মুক্তির কথা বলা হয়েছে বারংবার। তাই নজরুল মানবতার কবি।

সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, নজরুলের জীবন ছিল বর্ণিল। কবি, গায়ক, সাংবাদিক ও সৈনিকরূপে জীবনের নানাপর্বে নজরুল ইসলাম বৈচিত্র্যপূর্ণ সাহিত্য রচনা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ শতকের সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য ২/৩টি কবিতার মধ্যে অন্যতম হলো কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। এ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম মাত্রাবৃত্ত ছন্দে শতাধিকবার ‘আমি’ সর্বনামটি ব্যবহার করেছেন। এমনকি বাংলা সাহিত্যের রূপান্তরের বিষয়টি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতায় লক্ষ করা যায়।

সঙ্গীতানুষ্ঠানে নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী সুজিত মোস্তফা, ফেরদৌস আরা, নাশিদ কামাল, লীনা তাপসী, শাহজাহান পাটোয়ারী, কিমিয়া জোয়ারদার প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময় ২০৫০ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

শিল্প-সাহিত্য বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2011-05-25 11:16:19