bangla news

গোছালো মেলা, নেই ধুলোর যন্ত্রণা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০২-০৩ ১০:৫৭:২১ এএম

বন্ধের দিন মানেই যে কোনও মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ঢল নামা। অমর একুশে বইমেলাও এর ব্যতিক্রম নয়। রাত পোহালেই শুক্রবার, পরের দিন শনিবার। দু’দিনই সরকারি বন্ধের দিন। আর তাই হয়তো বৃহস্পতিবার সমাগম কিছুটা কম ছিল।

ঢাকা: বন্ধের দিন মানেই যে কোনও মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ঢল নামা। অমর একুশে বইমেলাও এর ব্যতিক্রম নয়। রাত পোহালেই শুক্রবার, পরের দিন শনিবার। দু’দিনই সরকারি বন্ধের দিন। আর তাই হয়তো বৃহস্পতিবার সমাগম কিছুটা কম ছিল।

তবে প্রথম দু’দিনের ধুলোর যন্ত্রণা বৃহস্পতিবার অর্থাৎ তৃতীয় দিনে ছিল না বললেই চলে। এ নিয়ে বিক্রেতা-পাঠক-দর্শনার্থীদের চোখে মুখেও ছিল সন্তুষ্টির ছাপ।

মেলার পরিবেশ এবার অনেক ভালো, গোছালোÑএমন মন্তব্য অনেকেই করেছেন।

তবে স্থান সম্প্রসারণ না হওয়ায় কিছুদিন পর মানুষের ভিড়ে বিরক্তি চলে আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

কথা হচ্ছিল কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে। এ সময় দেখা হয়ে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে।

মেলার পরিবেশের প্রশংসা করলেও কিছুদিনের মধ্যে হাঁটাচলা বিড়ম্বনার হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘এবারের পরিবেশটা বেশ ভালো ও গোছালো।’

তবে পরক্ষণেই বললেন, ‘মাত্র তো শুরু। এবার স্টল বেড়েছে, কিন্তু পরিসর বাড়ানো উচিত ছিল। ভিড়বাট্টা শুরু হলে আসাটাই দায় হবে।’

এর সমাধান হিসেবে স্বগোক্তি করলেন, ‘তখন রাত আটটার পরে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘হাঁটা চলার, ভালো ভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ যেন থাকে সেদিকটা দেখা দরকার ছিল। তা না হলে ভবিষ্যতে মানুষ হাঁটতে পারবে না। মেলার আনন্দ থাকবে না।’

সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু গোছানো হলে হবে না। স্টল বাড়ালেই হবে না। বইয়ের বিক্রিও বাড়াতে হবে। সবার মধ্যে পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বই কিনতে অনুপ্রাণিত হয়।’

অ্যাডর্ন পাবলিাশার্সের প্রকাশক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হোসেনও এবারের মেলাকে বেশ ‘গোছালো’ ও ‘সুন্দর হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘এবার মেলায় ব্যবস্থাপনাটা কিছু ভালো হয়েছে।’

জনপ্রিয় ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন বললেন, ‘আগের বছরগুলোর তুলনায় এবারের মেলা বেশ পরিচ্ছন্ন হয়েছে। শিশু-কিশোর কর্নার করা হয়েছে এবারই প্রথম। এটাও খুব ভালো একটা কাজ হয়েছে।’

এদিকে, বৃহস্পতিবার মেলায় ধুলোর যন্ত্রণা না থাকায় অনেক দর্শনার্থীকেই কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করতে দেখা যায়।

আজিমপুরের বাসিন্দা রেজাউল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান, সিলেট থেকে আসা জামিল আহমেদ, মোহাম্মদপুর থেকে আসা মাহজাবিনরা ‘ধুলোমুক্ত এ পরিবেশ যেন প্রতিদিন অব্যাহত থাকে, সে ব্যাপারে নজর রাখতে বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।’

মেলার প্রথম দিন উদ্বোধন করা জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘরটি বিকাল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকলেও দর্শনার্থী তেমন পাচ্ছে না।

 বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাদুঘরের ভেতরে হাতেগোনা কয়েকজন দর্শনার্থী চোখে পড়ল। জাদুঘরের কর্মকর্তারা তাদের প্রস্তুতিমূলক কাজও করতে দেখা গেল। আসবাবপত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থের গন্ধ এখনও বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

হাতেগোনা যে পাঁচ/ছয়জন দর্শনার্থীকে পাওয়া গেল তাদের দু’জন দু’টি পৃথক কলেজের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র রাকিব হাসান ও আল ইমরান প্রিয়। দু’জনেই টুকটাক কবিতা লেখেন বলে জানালেন।

জাদুঘর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাকিব বললেন, ‘অন্যরকম একটা গ্যালারি। অনেক কবি-লেখক আর তাদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে জানা যাবে।’

আর এক কথায় ‘ভালো জিনিস’ বলে মন্তব্য করলেন আল ইমরান প্রিয়।

জাদুঘরটিতে জুতো খুলে ঢুকতে হয়। আর তাই অনেককেই দরজার কাছে গিয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার মেলার মূলমঞ্চে ‘রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার একই মঞ্চে সকাল আটটায় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকাল চারটায় ‘রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানভাবনা: বিশ্ব পরিচয়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৫২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2011-02-03 10:57:21