bangla news

এখন শুধু ক্রেতার দিন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০২-২২ ১০:৪৬:৪৯ এএম

প্রবেশপথে নেই কোনও সারি, দীর্ঘ সারি। ভেতরে ছিমছাম ফাঁকা ফাঁকা পরিবেশ, যেন অনেক প্রশস্তই রাখা হয়েছে চলাচলের পথগুলো। এমনটিই তো চাই- স্বস্তিতে হেঁটে হেঁটে, বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে পছন্দের বইগুলো বেছে বেছে কেনার সুযোগ। মঙ্গলবার যেন এ সুযোগটিই হাতের নাগালে পেয়ে গেলেন প্রকৃত বইপ্রেমীরা।

ঢাকা: প্রবেশপথে নেই কোনও সারি, দীর্ঘ সারি। ভেতরে ছিমছাম ফাঁকা ফাঁকা পরিবেশ, যেন অনেক প্রশস্তই রাখা হয়েছে চলাচলের পথগুলো। এমনটিই তো চাই- স্বস্তিতে হেঁটে হেঁটে, বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে পছন্দের বইগুলো বেছে বেছে কেনার সুযোগ। মঙ্গলবার যেন এ সুযোগটিই হাতের নাগালে পেয়ে গেলেন প্রকৃত বইপ্রেমীরা।

আগের দিন ছিল একুশে ফেব্রুয়ারি। ছিল শহীদ মিনারে ছুটে যাওয়া মানুষের স্রোত। আর এ স্রোতটিই গতিপথ ঘুরিয়ে ঢুকেছিল বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলায়। এমন পান্থজনের জোয়ারে ভেসে গিয়েছিলেন বইমেলায় আসা প্রকৃত ক্রেতারা।

সোমবারের এ পরিস্থিতির ঠিক উল্টো দৃশ্যই দেখা গেল মঙ্গলবার। শিশু থেকে প্রবীণ- সব বয়েসী পাঠকের হাতেই ছিল নতুন বইয়ের পসরা। ঝক্কির ধাক্কায় আগের দিন বই ছাড়া ফিরে যাওয়ারাই যেন এসেছেন এদিন। এসেছেন শুধু বই কিনতে। আর বইমেলার অতীত অভিজ্ঞতাও বলে- এখন শুধু ক্রেতার দিন। একুশে ফেব্রুয়ারির পর অর্থাৎ ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শেষ সাতদিন বইমেলায় শুধু প্রকৃত ক্রেতাদেরই আনাগোনা থাকে।

বিভিন্ন প্রকাশনী সংস্থার প্রকাশক ও বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, মঙ্গলবার মেলায় জনসমাগম অনেক কম থাকলেও অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বিক্রি বেশি হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবদুল হানিফ এসেছেন তার শিশুকন্যাকে নিয়ে। বাবা-মেয়ে দুজনে মিলে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বইভর্তি একটি ব্যাগ। তিনি বাংলানিউজকে বললেন, ‘অনেক দিন ধরেই আসবো আসবো করছিলাম। আজ শুনলাম ভিড় কম। তাই মেয়েকে নিয়ে চলে এলাম। ওর জন্য বেশ কিছু বইও কিনে নিলাম।’

সরকারি অফিসের কর্মকর্তা শহীদুল হকও এসেছে তার দুই কন্যাকে নিয়ে। বললেন, ‘মেয়েরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে তাদের বই পছন্দ করছে। কিছু বই কিনেছে, আরও বাকি আছে।’

বুধবার তৃতীয় শিশুপ্রহরের দিন থাকলেও মঙ্গলবার প্রচুর সংখ্যক শিশু-কিশোরের সমাগম ছিল বইমেলায়। শুধু তা-ই নয়, প্রায় সবাইকেই তার পছন্দের বইগুলো বয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

বইমেলায় আল মাহমুদ
অমর একুশে বইমেলার ২২তম দিনে প্রথমবারের মতো এসেছিলেন দেশের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। দীর্ঘ পথচলায় কান্ত প্রবীণ এ কবি নজরুল মঞ্চে দাঁড়িয়ে উন্মোচন করেছিলেন তরুণ কবিদের বইয়ের মোড়ক। চোখে তেমন ভালো না দেখলেও জানালেন বইয়ের ভেতর তার আনন্দ খোঁজের বেড়ানোর কথা।

বললেন, ‘এ উৎসবে আসতে পেরে আমি উৎফুল্ল, আনন্দিত। অনেক বয়স হয়ে গেছে। মেলায় আর আসতে পারবো কি-না জানি না।  তবে আমি এখনও লেখার চেষ্টা করছি। যা বলিনি, তা বলার চেষ্টা করছি, লেখার চেষ্টা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি বইয়ের ভেতর দিয়ে একজন কবি ও লেখককে চেনা যায়। তারা তাদের হৃদয়ের সব রক্ত দিয়ে বই রচনা করেন। তাই বই প্রকাশে যে সব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর করতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রীও
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ নিয়ে তৃতীয়দিনের মতো এলেন অমর একুশে বইমেলায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মেলায় আসেন এবং বিভিন্ন স্টলে ঘুরে ঘুরে তার পছন্দের কিছু বই কেনেন। আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকেও দেখা যায় মেলা প্রাঙ্গণে।

বুধবার শিশুপ্রহর
বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা সকাল ১১টা থেকে উন্মুক্ত হবে। তবে এ উদ্যোগ সবার জন্য নয়, শুধু শিশু-কিশোরদের জন্য। তারা তাদের অভিভাবকদের নিয়ে আসতে পারবে। বিকাল তিনটা পর্যন্ত মেলা থাকবে শুধুই তাদের। এটি হবে এবারের মেলায় তৃতীয় ও শেষ শিশুপ্রহর। এর আগে গত ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি শিশুপ্রহর ছিল। ওইদিনগুলোর প্রথমদিন তেমন না জমলেও দ্বিতীয় দিন প্রচুর সংখ্যক শিশু-কিশোরের সমাগম ঘটেছিল।

অন্যান্য...
একুশে বইমেলায় মঙ্গলবার মোট ৭১টি নতুন বই এসেছে। আর নজরুল মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন হয়েছে ৪৩টির। মূলমঞ্চে বিকাল ‘রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানচিন্তা’ শীর্ষক আলোচনা ও সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2011-02-22 10:46:49