bangla news

১০০ বছর পর মার্ক টোয়েনের আত্মজীবনী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১১-১৫ ৯:৫২:৩১ এএম

দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব হাকলবেরি ফিন, দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব টম সয়ার বা দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য পপারসহ অসংখ্য জনপ্রিয় বইয়ের জন্য যিনি বিশ্বসাহিত্যে আজও বিখ্যাত হয়ে আছেন তিনি মার্ক টোয়েন। জন্মগ্রহণ করেন ১৮৩৫ সালে হ্যালির ধূমকেতুর বছর।

দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব হাকলবেরি ফিন, দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব টম সয়ার বা দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য পপারসহ অসংখ্য জনপ্রিয় বইয়ের জন্য যিনি বিশ্বসাহিত্যে আজও বিখ্যাত হয়ে আছেন তিনি মার্ক টোয়েন। জন্মগ্রহণ করেন ১৮৩৫ সালে হ্যালির ধূমকেতুর বছর। নিজের সম্পর্কে প্রায়ই বলতেন তিনি হ্যালির ধূমকেতুর সাথে এসেছেন এবং হ্যালির ধূমকেতুর সাথেই যাবেন। অদ্ভুত ব্যাপার হলো তার এ কথাটা ফলেও গিয়েছিল।

১৯১০ সালের ২১ এপ্রিল মার্ক টোয়েন মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি হাতে লেখা আত্মজীবনীর প্রায় পাঁচ হাজার পৃষ্ঠার একটি অসম্পাদিত পান্ডুলিপি রেখে যান। সঙ্গে একটি চিরকুটও ছিল। এতে তার আত্মজীবনীটি মৃত্যুর অন্তত ১০০ বছর পর প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্ক টোয়েনের নির্দেশ অনুযায়ী তার মৃত্যুর শতবর্ষ পর ১৫ নভেম্বর প্রকাশিত হলো যুক্তরাষ্ট্রের তিন খন্ডের ওই আত্মজীবনীর প্রথম খন্ড। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলিতে অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বইটি প্রকাশ করেছে। আত্মজীবনীটির পান্ডুলিপিটি এতদিন গচ্ছিত ছিল একটি সিন্দুকে। সিন্দুকটি রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মার্ক টোয়েন তার জীবদ্দশায় একটি পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে আত্মজীবনী লিখেছিলেন। প্রকাশিত ওই লেখাগুলো নিয়ে ৩০৭ পৃষ্ঠার একটি ভলিউম প্রকাশিতও হয়েছিল। তবে শেষ দিকে এসে তিনি আর কোনো পত্রিকা বা প্রকাশনা সংস্থার কাছে আত্মজীবনীর বাকি অংশের পান্ডুলিপি দেননি। নতুন এই ভলিউমে আরও নতুন ৪২৯ পৃষ্ঠা যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৬।

আত্মজীবনীতে টোয়েনের জীবনের অনেক অপ্রকাশিত চমকপ্রদ ঘটনা উঠে এসেছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ব্যক্তিগত সচিব ইসাবেল ভ্যান কিক লিওনের সঙ্গে তার সম্পর্ক। অনেকের মতে, এটাই তুলতে পারে বিতর্কের ঝড়। ১৯০৪ সালে স্ত্রী অলিভিয়া মারা যাওয়ার পর লিওনকে নিজের সচিব নিয়োগ করেন তিনি। তার  সঙ্গে টোয়েনের ঘনিষ্ঠতা এতই বেশি ছিল যে, একবার লিওন তাকে একটি একান্ত ব্যক্তিগত জিনিস উপহার দেন। এমন জিনিস অতি ঘনিষ্ঠ না হলে কেউ দিতে পারে না। ১৯০৯ সালে লিওনকে বরখাস্ত করেন টোয়েন। এ ব্যাপারে টোয়েনের অভিযোগ, তার সম্পত্তির ব্যাপারে আইনগত মতা আদায়ে তাকে প্রভাবিত করেন লিওন।

যারা টোয়েনের এই বইটি প্রকাশের দায়িত্বে রয়েছেন, এর প্রধান রবার্ট হার্স্ট বলেন, ‘লোকজন আমাকে জিজ্ঞেস করে, মার্ক টোয়েন সত্যিই কি ১০০ বছর পর তার আত্মজীবনী প্রকাশ করার কথা বলেছিলেন? আমি তখন বলি, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি জানতেন, কীভাবে লোকজনকে দিয়ে বই কেনাতে হয়।’

ডেইলি টেলিগ্রাফের সাংবাদিক ও সংবাদ-বিশ্লেষক ফিলিপ শেরওয়েল বলেছেন, মার্ক টোয়েন ইসাবেলের বিরুদ্ধে  যেভাবে বিষোদগার করেছেন, তা ১০০ বছরের পুরোনো তকে আবার জাগিয়ে দিয়েছে। এটা টোয়েনের ব্যক্তিগত চরিত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পাঠকদের কেন ১০০ বছর অপেক্ষায় রাখলেন মার্ক টোয়েন? বহু বিচার-বিশ্লেষণ করে এ নিয়ে বেশ কয়েকটি ‘তত্ত্ব’  তৈরি করেছেন সাহিত্যবোদ্ধারা। এর মধ্যে একটি দলের মত, ধর্ম ও রাজনীতির মতো অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়েও  খোলাখুলিভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন মার্ক টোয়েন। এ কারণে মৃত্যুর পরপরই সেটি ছাপা  হোক তা চাননি তিনি। হয়তো তার ভয় ছিল, নিজেকে নিয়ে নিজের লেখা প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হবে।

বিশ্লেষকদের আরেকটি দলের মত, আত্মজীবনীতে মার্ক টোয়েন অনেকের বিরুদ্ধেই কড়া সমালোচনা করেছেন। কিন্তু সেই লেখার কারণে বন্ধুরা মনে কষ্ট পাক, তা তিনি চাননি। এ কারণেই তার এমন অনুরোধ।

টোয়েনের শেষ জীবনের প্রত্যদর্শী মাইকেল শেলডন জানিয়েছিলেন, ঈশ্বর আছেন কী নেই, তা নিয়ে মার্ক টোয়েনের সন্দেহ কখনোই ঘোচেনি। কিউবা, পুয়ের্তোরিকো ও ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনও মেনে নিতে পারেননি তিনি। এসবসহ ধর্ম ও  জীবনকে তিনি কীভাবে দেখেছিলেন আত্মজীবনীতে তার একটি স্পষ্ট রূপ পাওয়া যাবে। যেমন,  ঈশ্বর ও ধর্ম বিষয়ে তার কিছু বাণী হচ্ছে এরকম :

১. মেধার জন্য কোনও পুরস্কারের কথা কোনও ঈশ্বর বলেনি। এমনকি একজন ঈশ্বরও নেই, যে মেধার প্রতি সামান্যতম আগ্রহ দেখিয়েছে।

২. বেতনভোগী একজন সহকারীও নেই শয়তানের, অথচ প্রতিপরে কর্মচারীর সংখ্যা মিলিয়ন!

৩. আমাদের যুক্তিশূন্য ঈশ্বর নামেই শুধু সর্বমতাবান, বাস্তবে নির্বীর্য।

৪. মৃত্যুকে আমার ভয় নেই। জন্মের আগে বিলিয়ন-বিলিয়ন বছর ধরে আমি মৃত ছিলাম এবং বিন্দুমাত্র পীড়াবোধ করিনি তাতে।

৫. বাইবেলের যে অংশগুলো আমি বুঝি না, সেগুলো নিয়ে আমার কোনও সমস্যা নেই। সমস্যা সেসব অংশ নিয়ে,  যেগুলো বুঝতে পারি।

সমালোচকরা তার নানা কাজের মধ্যে ‘নিজেকে বিতর্কিত করে তোলার’ চেষ্টা খুঁজে পেতেন সেই সময়েই। তবে তাই বলে ভক্তদের তোষামোদের কমতি হয়নি কখনো। আর সেটা ভালোই উপভোগ করতেন এই মার্কিন লেখক। স্ত্রী অলিভিয়ার মৃত্যুর পর ব্যক্তিগত সহকারী ইসাবেল ভেন কিক লিওনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার গল্প সে সময় মুখে মুখে ফিরত।

সাহিত্যজগতের অনেকেই মনে করেন, জীবদ্দশায় মার্ক টোয়েন নিজের ‘সেলিব্রিটি’ ভাবমূর্তি সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। এ কারণেই তিনি চেয়েছিলেন একবিংশ শতাব্দীতেও তাকে নিয়ে আলোচনা হোক। আসলে মৃত্যুর ১০০ বছর পরও ‘সমসাময়িক’ থাকার ইচ্ছে থেকেই আত্মজীবনী প্রকাশের ব্যাপারে ওই ‘নিষেধাজ্ঞা’ দিয়ে যান তিনি।

তথ্যসূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট, হিন্দুস্তান টাইমস, ধর্মকারী

বাংলাদেশ স্থানীয় সময় ২০৪০, নভেম্বর ১৫, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2010-11-15 09:52:31