ঢাকা, শনিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০ সফর ১৪৪২

কৃষি

কুড়িগ্রামে কৃষকের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভাসমান বীজতলা

ফজলে ইলাহী স্বপন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৪৪ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০২০
কুড়িগ্রামে কৃষকের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভাসমান বীজতলা ভাসমান বীজতলা, ছবি: বাংলানিউজ

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে তিন দফা বন্যায় আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন উদ্যোমে মাঠে নেমেছে বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা। পানি নামার পর জমি চাষ, বীজ সংগ্রহ ও বপনে বাড়তি অর্থ যোগানে কৃষক যখন দিশেহারা, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।

 

সরকারি উদ্যোগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বন্যাপ্লাবিত এলাকাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।  

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কুড়িগ্রামে ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষক। সরকারিভাবে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২৫ হাজার ৮১০ জন কৃষকের আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৪০৯ হেক্টর জমির।  

আমন বীজতলার ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারিভাবে ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ২১ হাজার কৃষক বিনামূল্যে ২০ হাজার ৯২২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করার সুযোগ পাচ্ছে।  

এদিকে জেলায় এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ৯৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর। আমন বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৩ হেক্টর হলেও বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আমন বীজতলা তৈরি করায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে।  

..

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লালদীঘির পাড়ের কৃষক মতিয়ার রহমান বাংলানিউজকে জানান, বাড়ির পাশের বীজতলা বন্যার পানিতে ডুবে যায়। সেসময় কৃষি বিভাগের পরামর্শে তাদের কাছ থেকে ৬ কেজি বিআর-২২ নাভিজাত বীজ ও ৫২টি ট্রে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন চারদিকে থৈ থৈ পানি, বীজ বপনের কোনো জায়গা নেই। বাড়ির ভিতরের উঠোনে ট্রে-তে বীজতলা স্থাপন করেন। ১৫ দিন বয়সী চারা দুই বিঘা জমিতে বপন করেন। কৃষি বিভাগ থেকে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিন দিয়ে শতকে ১০ টাকা হারে ২ বিঘা জমিতে মাত্র ৩৩০ টাকা খরচেই রোপণ শেষ।

শুধু মতিয়ারই নন, বন্যাকবলিত এলাকার অনেক কৃষকই এখন কমিউনিটি বীজতলা, ভাসমান বীজতলা ও বাড়ির ভিতর প্লেট পদ্ধতিতে বিকল্প আমন বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে রাইচ ট্রান্সপ্ল্যান্টার মেশিনের মাধ্যমে রোপণ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বাংলানিউজকে বলেন, আমন আবাদ যাতে বিঘ্নিত না হয় এজন্য বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর জেলায় আমন চারার ঘাটতি মোকাবিলায় ১০৫টি কমিউনিটি বীজতলা, ১১২টি ট্রে বীজতলা এবং শতাধিক ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যা বিনামূল্যে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে বীজতলার ঘাটতি পূরণ করতে পারবে কৃষক।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৪০ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৭, ২০২০
এফইএস/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa