[x]
[x]
ঢাকা, রবিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৫, ২১ অক্টোবর ২০১৮
bangla news

৩ লাখ মানুষের অভ্যর্থনায় সিক্ত মদ্রিচরা

ওয়ার্ল্ড কাপ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৭-১৭ ৮:৪০:০০ এএম
অভ্যর্থনার জবাবে হাত নাড়ছেন রাকিতিচ-মদ্রিচরা, ছবি: সংগৃহীত

অভ্যর্থনার জবাবে হাত নাড়ছেন রাকিতিচ-মদ্রিচরা, ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের কাছে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন থেমে গেছে তীর-দূরত্বে। তাতে কি! বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো সম্মান অর্জন করায় ক্রোয়েটদের কাছে জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছেন লুকা মদ্রিচরা। তাইতো বীরদের বরণ করে নিতে লাল গালিচাসম সংবর্ধনা দিয়েছে দেশটির ফুটবলপ্রেমী প্রায় তিন লাখ মানুষ।

জাতীয় দলের লাল-সাদা জার্সি গায়ে হাজারে-হাজারে ক্রোয়েট জাতীয় পতাকা হাতে রাজধানী জাগরেবের রাস্তায় সারিবদ্ধ হয়ে দুই ধারে দাঁড়িয়ে রাশিয়ায় ফাইনাল খেলা দলকে অভ্যর্থনা জানান। সংখ্যায় তারা প্রায় তিন লাখ, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ অভ্যর্থনা জানানোর ঘটনা।

যে রাস্তা দিয়ে বিশ্বকাপ ফেরত ক্রোয়েট ফুটবলাররা পার হয়েছেন সে সব রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে গান গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায় তাদের। ছাদখোলা বাসে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনার জবাবে হাত নাড়তে থাকেন মদ্রিচ-রাকিটিচ-পেরিসিচরা। এর মাঝে আবার সমর্থকদের অটোগ্রাফের আবদারও মেটান তারা।
 
ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের অভ্যর্থনা জানাতে রাজধানী জাগরেবের কেন্দ্রস্থলে হাজির হয়েছিলেন প্রায় তিন লাখ মানুষ। ভিড় ঠেলে এগোতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে খেলোয়াড়দের বহনকারী বাসটির। প্রায়ই সমর্থকদের ভিড়ে তাদের থেমে পড়তে হয়েছে।

সমর্থকদের সাথে জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন মদ্রিচরা- ছবি: সংগৃহীত

সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় চত্বরে পৌঁছানোর পর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ‘গোল্ডেন বল’ পাওয়া ক্রোয়েট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ বলেন, ‘ধন্যবাদ ক্রোয়েশিয়া, ধন্যবাদ জাগরেব!’
 
মিডফিল্ডার ইভান রাকিটিচ বলেন, আমাদের কেমন লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।
 
এরপর ওই চত্বরে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে বিশাল জনসমুদ্রের সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীতে সুর মেলান মদ্রিচরাও। দেশটির ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী গায়ক মার্কো পেরকোভিচ থম্পসন বেশ কয়েকটি গান গেয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গ দেন।
 
বিমানবন্দর থেকে বাসে ওঠার পর থেকেই ভক্তরা গাড়ির হর্ন বাজিয়ে, হাত নেড়ে এবং ‘শাবাশ! শাবাশ!’ বলে অভ্যর্থনা জানান তাদের জন্য জাতীয় গর্বের মতো ঘটনার জন্ম দেওয়া ফুটবলারদের। তারা বীর ফুটবলারদের ‘দেশের গর্ব’ বলেও অভিহিত করেন। সাইকেলে চেপে কিংবা হেঁটে খেলোয়াড়দের বহনকারী বাসের পিছু নেন অনেকে। উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উল্লাস প্রকাশের পাশাপাশি ফুটবলারদের বিশাল বিশাল ছবিও বহন করতে দেখা যায় অনেককে।
 
জাগরেবে উল্লাসের মাত্রা আরও বেড়ে যায় যখন ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দলটির খেলোয়াড়েরা ম্যাচ শেষে পাওয়া ‘সিলভার মেডেল’ প্রদর্শন করেন তখন। এর আগে তারা যখন বিমানবন্দর থেকে বের হন সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত সমর্থকরা ‘চ্যাম্পিয়নস! চ্যাম্পিয়নস!’ বলে গর্জে ওঠেন। বিমানবন্দরে খেলোয়াড়দের লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
 
৪০ লাখ মানুষের দেশটি ফাইনালে ৪-২ গোলে ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরে স্বপ্নের অল্প দূরত্বে গিয়ে থামে। তাতে অবশ্য আনন্দের মাত্রা মোটেই কমেনি ক্রোয়েটদের।
 
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠাকে ক্রোয়েটদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রীড়া সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এটাকে ১৯৯০ সালে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়ার পর আবারও জাতীয় গর্ব আর ঐক্য গড়ার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণ্য করছে দেশটির মানুষ। ক্রোয়েশিয়া এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলেও তাদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল। অনেকে ভালো ভবিষ্যতের আশায় দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন।

মদ্রিচদের বর অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন ক্রোয়েট প্রেসিডেন্ট কলিন্দা গ্র্যাবার-কিতারোভিচ- ছবি: সংগৃহীত
 
এমন এক অবস্থায় বিশ্বকাপের সফলতা দেশটিতে অনেক পরিবর্তন এনেছে। বার্তা সংস্থা এপি’কে মস্কোতে উপস্থিত ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলপ্রেমী প্রেসিডেন্ট কলিন্দা গ্র্যাবার-কিতারোভিচ যেমন বললেন, ‘আমি এমনকি ব্যাখ্যা শুরু করতেও পারবো না যে এটা ক্রোয়েশিয়ার একতার জন্য কতোটা মানে রাখে। আমি আশা করি যে... এটা আমাদের আর্থিক ক্ষেত্রে গতির সঞ্চার করবে এবং নতুন চাকরি তৈরি ও তরুণদের তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
 
দেশটির রেলওয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে রাজধানী জাগরেবের আয়োজনে উপস্থিত হতে ইচ্ছুকদের জন্য টিকেটের মূল্য কমিয়ে দেয়। আর রাজধানীর কর্তৃপক্ষ সোমবার (১৬ জুলাই) সকল গণপরিবহনে ভ্রমণ ফ্রি ঘোষণা করে।
 
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জনগণকে বাইরে বেরিয়ে আসতে ও খেলোয়াড়দের ফিরে আসার ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’কে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে। অন্য গণমাধ্যমেও মদ্রিচদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময় ১৭৫১ ঘণ্টা, জুলাই ১৭, ২০১৮
এমএইচএম/এএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache