ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৮, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯

যেদিন ওয়ানডে ম্যাচ ড্র করতে খেলেছিলেন গাভাস্কার!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৪৩ ঘণ্টা, মে ১১, ২০১৯
যেদিন ওয়ানডে ম্যাচ ড্র করতে খেলেছিলেন গাভাস্কার! সুনীল গাভাস্কার-ছবি: সংগৃহীত

১৯৭৫ সাল, ২২ গজের ক্রিকেটে এক প্রকার বিপ্লব ঘটিয়ে আবির্ভাব হলো ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ক্রিকেট বিশ্বের হইচই পড়ে গেল এই নিয়ে। ক্রিকেটে যুক্ত হলো রোমাঞ্চ, অর্থ আর তুমুল উত্তেজনা। নানান কারণেই বিশ্বকাপ ক্রিকেটের অভিষেক আসর ছিল আলোচনার তুঙ্গে। কিন্তু ভারতীয় কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার হয়তো ওই আসরটি ভুলেই থাকতে চাইবেন।

ভারতীয় ক্রিকেট দল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিল শ্রিনিভাস ভেঙ্কাটারাঘবানের নেতৃত্বে। দলটি ৬০ ওভারের ওয়ানডে ক্রিকেটে তখন একেবারেই নবীন।

তাদের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারে ছিল মাত্র ২টি ম্যাচ।

জুনের ৭ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ভারতের জন্য ম্যাচটা লজ্জার এক ইতিহাস হয়েই থাকবে। কেননা ওই ম্যাচে সেসময়ের তারকা ওপেনার সুনীল গাভাস্কার ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম ‘স্লো’ ইনিংসটি খেলেন।

টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক মাইক ডেনেস। ওপেনার ডেনিস অ্যামিসের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৬০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ইংলিশরা সংগ্রহ করে ৩৩৪ রান। এখনকার হিসেবে এটা বড় কোনো সংগ্রহ নয়। ভারতকে প্রতি ওভারে ৬-এর চেয়েও কম করে নিতে হতো।

বিরতির পর, ভারত যখন ব্যাটিংয়ে নামে, তাদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল তারা ড্র করতে চাইছে! বিশেষ করে গাভাস্কারের ব্যাটিং দেখে দর্শকরা রীতিমত তাজ্জব বনে যান। পুরো ইনিংসের প্রায় অর্ধেকটা (১৭৪ বল) সময় ব্যাটিং করেও অপরাজিত থেকে ‘লিটল মাস্টার’ রান করেন মাত্র ৩৬! 

পুরো ইনিংসে মাত্র ১টি বাউন্ডারি মারতে সক্ষম হয়েছিলেন গাভাস্কার। স্ট্রাইক রেট ২০.৬৮। ৬০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩২ রানে শেষ হয় ভারতের ইনিংস। গাভাস্কারের ওই ইনিংসকে বলা ওয়ানডে ক্রিকেটের সবচেয়ে বিখ্যাত টেস্ট ব্যাটিং পারফরম্যান্স। গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ ৫৯ বলে করেন ৩৭ রান। ভারত হেরে যায় ২০২ রানে, হাতে ৭ উইকেট রেখেও! ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত এটাই ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যবধানে পরাজয় ছিল।

এমন ‘স্লো’ ইনিংস খেলায় স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় গাভাস্কারকে। কিন্তু নিজের ইনিংসের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, উইকেট ব্যাটিং করার উপযোগী ছিল না। কিন্তু সমালোচকরা তা মানবেন কেন?

একই পিচে ব্যাটিং করে ৩০০-এর বেশি রান করেছিল ইংল্যান্ড। ইংলিশ ব্যাটসম্যান অ্যামিস ১৪৭ বলে ৯৩.১৯ গড়ে করেছিলেন ১৩৭ রান। আবার ক্রিস ওল্ড তো ছিলেন রীতিমত বিধ্বংসী। ৫১ রানের ইনিংস খেলার পথে তিনি বল খেলেন মাত্র ৩০টি, স্ট্রাইক রেট ১৭০!

বোলিংয়ে ভারতীয় বোলার আবিদ আলী ১২ ওভারে ৫৮ রান খরচে নেন ২ উইকেট। পুরো টুর্নামেন্টে ভারত মাত্র একটি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পায়, তাও পূর্ব আফ্রিকার বিপক্ষে। সেবার পঞ্চম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে ভারত।

প্রথম বিশ্বকাপের সেই ভারত আর বর্তমান সময়ের ভারতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। এখন বিশ্বের যেকোনো দলের চেয়ে বিধ্বংসী ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। কোহলি-রোহিতদের সামনে কোনো স্কোরই নিরাপদ নয়। তাই গাভাস্কারের ওই ইনিংসের কথা ভাবতে গেলে রূপকথার গল্প বলেই মনে হয়। কিন্তু ঘটনা সত্য।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪২ ঘণ্টা, মে ১১, ২০১৯
এমএইচএম/এমএমএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯ এর সর্বশেষ

Alexa