ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯
bangla news

অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বিশ্বকাপ মাতাবেন যারা

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-২৫ ৪:৪৫:৫৬ পিএম
পেরেরা, সাকিব ও রাসেল

পেরেরা, সাকিব ও রাসেল

ইংল্যান্ড ও ওয়েলস বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র ৪দিন। দলগুলো ব্যস্ত প্রস্তুতি ম্যাচে। সব দলগুলোই চাইছে এই ম্যাচের মাধ্যমে নিজেদের সঠিক কাঠামো বের করে আনতে। কোথায় দলের দুর্বলতা, কোথায় শক্তি তা এই প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়েই অনেকটা বোঝা যাবে।

প্রতিটি দলেই সেরা ব্যাটসম্যান ও সেরা বোলারের বাইরেও বড় এক ভূমিকা রাখেন দলের অলরাউন্ডাররা। প্রতিপক্ষের দেওয়া বড় স্কোর সংগ্রহে যেমন অলরাউন্ডারের ব্যাট কথা বলে তেমনি প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানের রান আটকাতেও সহায়তা করেন।

জেনে নেওয়া যাক এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর অলরাউন্ডারদের-

# আফগানিস্তান-
এই দলে আছেন মোহাম্মদ নবী, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ও রহমত শাহের মতো অলরাউন্ডার। এদের মধ্যে মোহাম্মদ নবী সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তার উপরে দলের দ্বৈত ভূমিকা খুব সহজেই অর্পণ করা যায়। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের মধ্যে তিনি একজন। এছাড়াও রহমত শাহও ব্যাট হাতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকেন, লেগ স্পিনেও নজর কেড়েছেন।

অবশ্যই তারা প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন কিন্তু বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার অভাবই তাদের পিছিয়ে ফেলতে পারে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও তাদের খেলার অভিজ্ঞতা কম। তাই নিজেদের প্রমাণের সেরা সময় এটিই।

# শ্রীলঙ্কা-
শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকজন অলরাউন্ডার রয়েছে, তবে তাদের মধ্যে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও থিসারা পেরেরার মতো পাফরম্যান্স কেউ দেখাতে পারেননি। দুজনেই দারুণ অলরাউন্ডার এবং মিডল অর্ডারে ভরসার নাম ও পেসারদের প্রধান শক্তি।

এরা ছাড়াও আছেন জীবন মেন্ডিস। তবে তার পাফরম্যান্স এখনো চোখে পড়ার মতো কিছুই নয়। এই তিনজন ছাড়া দলে অলরাউন্ডার বলার মতো কেউ নেই। যদি এরা সময় মতো জ্বলে উঠতে পারেন তবে দলের জন্য ব্যাপারটা বেশ ভালো।

# অস্ট্রেলিয়া-
অস্ট্রেলিয়ার মতো দলে বলার মতো অলরাউন্ডার আছেন কেবল দুজন। অস্ট্রেলিয়া দল অবশ্য তাদের পাফরম্যান্স দিয়েই প্রমাণ করেছে তাদের খুব বেশি অলরাউন্ডারের প্রয়োজন নেই। তবু গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মারকাস স্টোইনিসকেই এগিয়ে রাখা যায়। বোলার-ব্যাটসম্যানে ভরপুর দলটির জন্য এ দু’জন অলরাউন্ডারই যথেষ্ট। ২ জন স্পিনার ও ৫ জন ফাস্ট বোলার আছে দলে। তবুও প্রয়োজনে ম্যাক্সওয়েল উইকেট নিতে পারেন আর স্টোইনিস ডেথ ওভারে ভরসা হতে পারেন।

# দক্ষিণ আফ্রিকা-
খুব বেশি চোখে না পড়লেও দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডাররা দলে বেশ ভালো প্রভাব ফেলেন। আন্দিল ফেহলুকাও শেষের দিকের ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বল হাতেও বেশ দক্ষ ও উইকেট শিকারি। জেপি ডুমিনির মতো অলরাউন্ডার যেকোনো দলই নিজেদের করে চাইতে পারে। তার অভিজ্ঞতা তাকে মিডল অর্ডারে প্রয়োজনীয় করে তুলেছে। 

তবে ক্রিস মরিস ওয়ানডেতে নিজেকে খুব একটা প্রমাণ করতে পারেননি, কিন্তু এই বিশ্বকাপ তার জন্য সেরা অপশন হতে পারে।

# ওয়েস্ট ইন্ডিজ-
উইন্ডিজ দলে বেশ কিছু অলরাউন্ডার আছেন। তবে তারা সবাই টি-টোয়েন্টিতে পরীক্ষিত। ওয়ানডেতে তাদের তেমন পারফরম্যান্স করতে দেখা যায় না। যদিও চলতি বছরে আন্দ্রে রাসেলকে বেশ সফল বলা যায়। যা বিশ্বকাপেও বজায় থাকবে বলেই মনে করা হায়।

অধিনায়ক জেসন হোল্ডার অবশ্য তার দায়িত্বে পুরোপুরি সফল। তবে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট তেমন কিছুই দেখাতে পারেননি। তিন অলরাউন্ডারই এক সঙ্গে জ্বলে উঠলে প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর হতে পারেন।

# বাংলাদেশ-
অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো হয়তো বাংলাদেশ এখনো বড় আসরে চমকে দিতে পারেনি, কিন্তু তাদের এখন আর সহজ ভাবার কিছু নেই। ওয়ানডে ফরম্যাটে এক নম্বর অলরাউন্ডার হয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। তার উপস্থিতি দলে বাড়তি শক্তি আনে।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তেমন একটা সামনে না আসলেও তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্স সব সময়ই দলের বাড়তি শক্তি। বিশেষ করে তার ব্যাটিং। এছড়াও আছেন তরুণ মেহেদি হাসান মিরাজ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাদের অফস্পিন ও মিডিয়াম পেস দলকে বাড়তি সুবিধা দেয়। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের জন্য বিশ্বস্ত হয়ে উঠছেন মোসাদ্দেক হোসেন।

# পাকিস্তান-
এই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন অলরাউন্ডার আছেন। তাদের মধ্যে ইমাদ ওয়াসিম সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন। তিনি একজন হার্ড হিটারের পাশাপাশি কার্যকর বাঁহাতি স্পিনার।
এছাড়া মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিকও তাদের অভিজ্ঞতা দিয়েই জুড়ে আছেন দলের সঙ্গে। হারিস সোহেল ভালো ব্যাট চালালেও বল হাতে তেমন কার্যকর নন। পাকিস্তানের সব অলরাউন্ডাররাই কাছাকাছি পারফরম্যান্স করেন দলের জন্য।

# নিউজিল্যান্ড-
নিউজিল্যান্ডে বেশ শক্তিশালী কয়েকজন অলরাউন্ডার রয়েছেন। মিচেল স্যান্টনারের মতো অলরাউন্ডারকে যে কোনো অধিনায়ক তার দলে চাইবেন। এছাড়া জেমস নিশাম, কলিন ডি গ্রান্ডহোম, কলিন মুনরোর মতো পারফরম্যান্স দেখানো অলরাউন্ডার রয়েছে দলটিতে। যারা যেকোনো সময়ই দলের জন্য জ্বলে উঠতে পারেন ব্যাট অথবা বল হাতে।

# ভারত-
ভারত দলে আছেন তারকা পর্যায়ের কিছু অলরাউন্ডার। যারা তাদের পারফরম্যান্স দিয়েই তারকাখ্যাতি অর্জন করেছেন। বিশেষ করে হার্দিক পান্ডিয়া। বল ও ব্যাট হাতে সমান তালে পারফরম্যান্স করে চলছেন তিনি। উইকেটের প্রয়োজনে বিরাট কোহলি ইনিংসের যেকোনো সময় কেদার যাদবকে ব্যবহার করেন। এছাড়া রবীন্দ্র জাদেজা, বিজয় শংকরের মতো অলরাউন্ডার যেকোনো দলের জন্য আশীর্বাদই বটে।

# ইংল্যান্ড-
শুধুমাত্র স্বাগতিক বলেই না, অলরাউন্ডারের দিক দিয়েও ইংল্যান্ড এবার বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। কারণ এই দলটিতেই আছে সবচেয়ে বেশি অলরাউন্ডার যারা দলের প্রয়োজনে যেকোনো সময় জ্বলে উঠে প্রতিপক্ষকে পুড়িয়ে দিতে পারেন। 
দলটিতে আছেন বেন স্টোকস, মঈন আলী, ক্রিস ওকস, লিয়াম ডসন, টম কুরানের মতো কার্যকর ও তারকা অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৩ ঘন্টা, মে ২৫, ২০১৯
এমকেএম/এমএমএস

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-05-25 16:45:56