[x]
[x]
ঢাকা, শনিবার, ৫ ফাল্গুন ১৪২৪, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

bangla news

ঢাকা-কায়রো সম্পর্ক আরও প্রসারিত করতে চান রাষ্ট্রদূত আলী সরকার

জাহিদুর রহমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০২-০১ ৫:২৩:২৪ এএম
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আলী সরকার, ছবি: বাংলানিউজ

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আলী সরকার, ছবি: বাংলানিউজ

কায়রো (মিশর) থেকে: এখন তিনি আফ্রিকায়। এ মহাদেশে এটাই তার প্রথম মিশন। পেশাদার কূটনৈতিক হিসেবে এর আগে উজ্জ্বল আলো ছড়িয়েছেন দেশে ও বিদেশে। নিজের পেশাগত দক্ষতার নজির রেখেছেন আমেরিকা থেকে ইউরোপের নানা দেশে।

সে হিসেবে পেশাগত জীবনের প্রায় শেষ দিকে এসে উত্তর আফ্রিকার অপেক্ষাকৃত ছোট ও
কম গুরুত্বপূর্ণ মিশনে তার বদলি অনেকের কাছেই বিস্ময়ের। যেখানে কাগজে কলমে প্রবাসীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের মতো। শিক্ষার্থী শ’ দুয়েক। স্বল্প হলেও বাণিজ্যিক ভারসাম্যও প্রায় সমতার।

সর্বোপরি থ্রি ম্যান মিশন নামেই যার পরিচয়। কারণ রাষ্ট্রদূত, কাউন্সিলর আর ফার্স্ট সেক্রেটারি; এই তিনজনকে নিয়েই মিশন।

এমন মিশনে যোগদান করে হতাশা দূরের কথা বরং উল্টো মনোভাবটাই জ্বলজ্বলে ছিল চেহারা-চোখে।

মুখে নতুন কিছু একটা করার প্রত্যয়। আর এখানে বদলি হয়ে আসাটাই যেন তার কাছে খুব
স্বাভাবিক। অনেকটা রুটিন ওয়ার্ক। তার নাম মোহাম্মদ আলী সরকার। পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য পিরামিডের দেশ মিশরে বাংলাদেশের নব-নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তিনি।
বাংলাদেশ দূতাবাস ভবন, ছবি: বাংলানিউজমিশরে দূতালয়ের ইতিহাসের পাতায় লিখে যেতে চান নিজের নাম। এই দৃঢ়তা নিয়ে পথচলার সূচনাতেই জানালেন, সবে তো এলাম। সবকিছু জানা ও বোঝার চেষ্টা করছি। আশা করছি এখানেও সম্ভাবনার আলো ছড়াতে পারবো।

বিসিএস (পররাষ্ট্র সার্ভিস) ১৯৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সরকার। পেশাদার
কূটনীতিক হিসেবে যোগ দেন ১৯৮৯ সালে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও ব্রাসেলসে বাংলাদেশ দূতাবাসে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক অনুবিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন শেষে মোহাম্মদ আলী সরকারকে প্রথমে নেদারল্যান্ড পরে জার্মানিতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে পাঠানো হয়। বার্লিন থেকে জানুয়ারির শেষ দিকে এই কূটনীতিক যোগ দেন মিশরের কায়রোতে নতুন কর্মস্থলে।

তার আগে পাঁচমাস এই মিশনে রাষ্ট্রদূতের চেয়ারটি ছিল শুন্য।

ময়মনসিংহ মেডিকেল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী মোহাম্মদ আলী যুক্তরাষ্ট্রের টুয়াট
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ’ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়াও কূটনীতির বহুপাক্ষিক ক্ষেত্র বিশেষ করে জাতিসংঘ ব্যবস্থায় একজন বিশেষজ্ঞ বলেও তার রয়েছে পৃথক পরিচয়।

গত বছরের এপ্রিলে বার্লিনে স্থানান্তর হওয়া নতুন দূতাবাসে মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলানিউজের। সে হিসেবে একরকম কাকতালীয় হলেও এবারো নতুন কর্মস্থলে মুখোমুখি
বাংলানিউজের।

আগের রাতে বার্লিন থেকে উড়ে এসেছেন। পরদিন সকালেই যোগ দিলেন কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে। ফোনে পরিচয় দিতেই হাসি নিয়ে বললেন, ওহ, বাংলানিউজ! ভুলিনি বার্লিনের সাক্ষাৎ। আজ তো আমি ভীষণ রকমের ব্যস্ত তার পরেও এখানে সাক্ষাতের ইতিহাসটা গড়া যেতেই পারে। চলে আসুন। কিছু সময় কাটানো যাবে।

উবার ট্যাক্সি নিয়ে বাংলানিউজ হাজির ১৮, হায়েত, ইএল তাদ্রেস স্ট্রিট, দক্কি, গির্জা, কায়রোর এই ঠিকানায়। পতপত করে ওড়া লাল সবুজের ভবন।

সেখানে দোতলায় রাষ্ট্রদূতের দফতর। নিজেই এগিয়ে এসে স্বভাব সুলভ হাসি দিয়ে
স্বাগত জানালেন বাংলানিউজকে। স্মৃতি হাতড়ে তুলে আনলেন বাংলানিউজের সঙ্গে বার্লিনের নানা আলাপচারিতা।

একটি সাক্ষাতকার নিতে চাই। সবিনয় অনুরোধ জানাতেই কিছুটা সংকোচ প্রকাশ করে
বললেন, কী বলবো বলুন, এখানে তো সবে এলাম। এই মহাদেশে এটাই আমার প্রথম মিশন। কিছু বলতে গেলে তো দেশটি সম্পর্কে, এখানকার প্রবাসীদের সম্পর্কে কিছুটা জানা বোঝা প্রয়োজন।

বোঝা গেলো, প্রচারের আলোর বাইরে থাকাই যে তার পছন্দের। নানা কথায় সেটিও
বুঝিয়ে দিলেন এই কূটনীতিক। তারপরও চ্যালেঞ্জ বলে কিছু একটা তো থাকে।

প্রশ্নের উত্তরটা-ও যেন প্রস্তুতই ছিল। বললেন, তা তো অবশ্যই। আমার লক্ষ্যই থাকবে ঢাকা-কায়রো সম্পর্ক নিবিড়, প্রসারিত আর বিস্তৃত করা। তবে হ্যাঁ একটি কথা বলতে পারি। আমি যখন তরুণ কূটনীতিক; যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করি তখন আমার সঙ্গে সেখানে কর্মরত মিশরের বন্ধুরা আজ এখানে উচ্চ পদে আসীন। সেটা আমার জন্য বেশ আনন্দের। এখন রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত, উভয় প্রয়াসেই ভালো ভালো এপ্রোচ নিয়ে এগোনো যাবে।

মিশরের প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান আবদুল ফাতাহ আল সিসির সঙ্গে দেখা হচ্ছে কবে? মানে পরিচয়পত্র পেশের তারিখ কি পেয়েছেন?

উত্তরে বললেন, না এখনও পাইনি। আসলে এখানকার রীতি ভিন্ন। একজন দু’জন করে নয়। বরং একাধারে সদ্য নিযুক্ত ১০/১২ জন কূটনীতিক একটি নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে একই দিনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে যান। আমি জানতে পেরেছি, আমিসহ মাত্র দু’জন নতুন এসেছেন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন কিছুটা দেরি হবে।

এখন লক্ষ্য একটাই দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে আরও অগ্রসর করে দু’দেশের জনগণের সঙ্গে
জনগণের সেতুবন্ধনকে আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী করা।

‘চ্যালেঞ্জ মূলত- দু দেশের শীর্ষ নেতাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা। মানে উভয় নেতাদের দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক ও দেখা করার ব্যবস্থা হলে পুরনো সম্পর্কে আরও গতি আসবে। দুই দেশের মানুষের কল্যাণে যা ভূমিকা রাখবে’, যোগ করেন এই কূটনীতিক।

আরও পড়ুন
** ফরমাল ব্যাংকিং ব্যয়বহুল, হুন্ডিতেই ঝুঁকছেন প্রবাসীরা
** ট্রাম্পের দেশের মুদ্রার লাফিয়ে চলা স্থবির করে দিয়েছে প্রবাসীদের

** ভিন্ন আবহে বেড়ে উঠছে প্রবাসীদের সন্তানরা
** জাল ভিসার জালে আটকে মিশরের কারাগারে বাংলাদেশিরা​
** মিশরের শিক্ষার দিগন্তে বাংলাদেশের উজ্জ্বল এক ঝাঁক নক্ষত্র
**জাল ভিসা চক্রে বিপন্ন দেশের ইমেজ

**সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন​
**মিশরে মানবতার ফেরিওয়ালা ডা.আরিফুল হক
**
গার্মেন্টস শ্রমিক সুলতান আজ অনারারি কনসাল জেনারেল
** মিশরের ধূসর মরুভূমিতে প্রবাসীদের চিকিৎসায় শাফায়েত উল্লাহরা
** ঢাকা-কায়রো সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায়
** কায়রোয় ৫ মাস ধরে রাষ্ট্রদূতের চেয়ার শূন্য
** আমির হোসেনের নির্বাসনের জীবনই যেন ফুরোয় না!

** ‘ইজ্জত’ রক্ষায় ঢাকায় মাহমুদ ইজ্জাত

বাংলাদেশ সময়: ০৪৫৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৭
আইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

প্রবাসে বাংলাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa