[x]
[x]
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ জুন ২০১৮

bangla news

ফরমাল ব্যাংকিং ব্যয়বহুল, হুন্ডিতেই ঝুঁকছেন প্রবাসীরা

জাহিদুর রহমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০১-৩১ ৭:৩৪:৫১ এএম
ইউএস ডলার (ওপরে) ও মিশরীয় পাউন্ড (নিচে)

ইউএস ডলার (ওপরে) ও মিশরীয় পাউন্ড (নিচে)

কায়রো (মিশর) থেকে: মিশর প্রচলিত শ্রম বাজারের গন্তব্য নয়। তা সত্ত্বেও বহু শ্রমিক নানা পরিচয়ে দেশটিতে ঢুকছেন। সবারই লক্ষ্য ভাগ্যবদল। কিন্তু সেখানে গিয়ে অনেকেই মুখোমুখি হচ্ছেন বিপর্যয়ের।

প্রথমত অপেক্ষাকৃত কম শ্রম-মজুরি। দ্বিতীয়ত ভাষা। তার বাইরেও আরেকটি সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। সেটা দেশে টাকা পাঠানোর মাধ্যম নিয়ে।

বৈধ চ্যানেলে প্রবাস থেকে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে প্রিয় পরিজনদের কাছে পাঠাতে ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয় এ দেশে। বাধ্য হয়েই এখানকার প্রবাসী, বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণীর অভিবাসীরা দেশে টাকা পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন অপ্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম বা ‘হুন্ডি’।

এখানকার প্রবাসীরা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে এ দেশ থেকে টাকা পাঠানো যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি বেশ-ঝক্কি ঝামেলারও।

এখানে অদক্ষ শ্রমিকদের অনেকেই বেতন পান দেড় থেকে দু’শো ডলার। কেউ বা দুই থেকে আড়াইশ’ ডলার।

বৈধ চ্যানেলে দেশে এক হাজার ডলার পাঠাতে খরচ ৫৮ ডলার। তবে অর্থের পরিমাণ কম হলে খরচ আরও বেশি। সেটা দাঁড়ায় ১০০ ডলারে ৮ ডলার। অর্থাৎ ৮ হাজার টাকা পাঠাতে গুনতে হবে ৬শ’ ৪০ টাকা।

এভাবে ২০০ ডলার (প্রায় ১৬ হাজার টাকা) পাঠালে কেটে রাখা হয় ১২শ’ ৮০ টাকা। তার ওপর বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠাতে প্রয়োজন হয় বৈধ পরিচয়পত্র ও স্থানীয় নাগরিক কর্তৃক পরিচিতি।

অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য সে হিসাবে মোটেই সুবিধার নয় মিশর। দেশে রাজমিস্ত্রির যোগালী দেওয়া, কৃষি বা মাটি কাটা শ্রমিকের যে মজুরি, তার সমান আয় করাও এখানে কঠিন।

সেই আয়ের একটি বড় অংশ যদি টাকা পাঠাতেই খরচ হয়- তা মেনে নেওয়াটাও খুব কষ্টকর বলে জানিয়েছেন তারা।

প্রবাসী শ্রমিকরা বলছেন, তারা বেশির ভাগই এসেছেন পর্যটক ভিসায়। তাই তাদের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় এ পথ সচর‍াচর তারা মাড়ান না।

বিকল্প পথটিই এখন তাদের প্রধান পছন্দ। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সে পথে যেমন খরচ কম আবার টাকাটাও পৌঁছে যায় স্বজনদের হাতে।

আর এ কাজে যুক্ত রয়েছেন প্রবাসীদেরই অনেকে। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা প্রেরণ করছেন। তারপর এখানে ডলার নিচ্ছেন। আবার এ প্রান্তে শ্রমিকের কাছ থেকে ডলার বা মিশরীয় পাউন্ড নিয়ে নিমিষেই অন্য প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছেন টাকা। এভাবে আগে-ভাগে সার্ভিস দিয়ে নিজেরা এই ব্যবসার নেটওয়ার্ককেও করছেন মজবুত আর শক্তিশালী।

প্রবাসীরা বলছেন, এখান থেকে হুন্ডির মাধ্যমে মুদ্রা পাঠালে টাকার অংকে তাদের লাভ হয় বেশি। ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ৮০ টাকা হলে তারা পাচ্ছেন নিট ৭৭ টাকা। যা বৈধ চ্যানেলে বা ফরমাল ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে বেশি।

বাইরে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হলেও উপায় না পেয়ে এ মাধ্যমকেই ‘নিরাপদ’ বলে মনে করছেন প্রবাসীরা ।

এ ব্যাপারে কায়রোর বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) শফিকুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, মিশর যেমন বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রমের বাজার নয়। তাই এখানে সেভাবে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি।

তার মতে, এখানে আন্ত‍ঃব্যাংক লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে প্রবাসীরা খুব সহজে কম খরচে দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন। সেটা নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।মিশর সফর করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমইসলামিক ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বোর্ডের (আইএফএসবি) ২৯তম সভা ও ইসলামিক ফিন্যান্সিয়াল ফোরামের ১৪তম সভায় অংশ নিতে নিতে গত ডিসেম্বরে মিশর সফর করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

২০০৩ সালে কার্যক্রম শুরু করা কুয়ালালামপুরভিত্তিক আইএফএসবি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বর্তমানে ১৬৯টি আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জোট। এই জোটের সভায় অর্থ লেনদেন নিয়ে আলোচনা সত্ত্বেও প্রবাসীরা মিশর থেকে টাকা পাঠাতে কেন বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সেটা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না।

মিশরে প্রবাসী কর্মজীবী ছাড়াও দু’শোর অধিক শিক্ষার্থী উচ্চতর ডিগ্রি নিতে বর্তমানে অবস্থান করছেন দেশটিতে। দেশ থেকে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রেরণ করাটাও বেশ জটিল বলে অভিযোগ তাদের।

“আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের গোচরে সমস্যাটি এনেছি। আশা করছি তিনি প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসবেন।” এভাবে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান দেশটির হাজার বছরের প্রাচীন আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী।

দেশে হুন্ডির মাধ্যমে তো টাকা পাঠানো অপরাধ। তা সত্ত্বেও কেন পাঠাচ্ছেন? বেশ কয়েকজন প্রবাসীকে এ প্রশ্ন করলে তারা উত্তর দেন, “যারা দেশটাকে ফুটো করে দিয়ে দেশের টাকা বাইরে পাচার করছেন, তাদের কেউ দেখে না। আর আমরা যারা প্রবাসে শ্রমজীবী মানুষরা, উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে স্বজনদের কাছে টাকা পাঠাচ্ছি, সেখানে এই প্রশ্নটাই কতটা যৌক্তিক!”

বাংলাদেশ সময়: ০৭২৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩১, ২০১৭
এইচএ/

আরও পড়ুন
** ট্রাম্পের দেশের মুদ্রার লাফিয়ে চলা স্থবির করে দিয়েছে প্রবাসীদের

** ভিন্ন আবহে বেড়ে উঠছে প্রবাসীদের সন্তানরা
** জাল ভিসার জালে আটকে মিশরের কারাগারে বাংলাদেশিরা​
** মিশরের শিক্ষার দিগন্তে বাংলাদেশের উজ্জ্বল এক ঝাঁক নক্ষত্র
**জাল ভিসা চক্রে বিপন্ন দেশের ইমেজ

**সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন​
**মিশরে মানবতার ফেরিওয়ালা ডা.আরিফুল হক
**
গার্মেন্টস শ্রমিক সুলতান আজ অনারারি কনসাল জেনারেল
** মিশরের ধূসর মরুভূমিতে প্রবাসীদের চিকিৎসায় শাফায়েত উল্লাহরা
** ঢাকা-কায়রো সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায়
** কায়রোয় ৫ মাস ধরে রাষ্ট্রদূতের চেয়ার শূন্য
** আমির হোসেনের নির্বাসনের জীবনই যেন ফুরোয় না!

** ‘ইজ্জত’ রক্ষায় ঢাকায় মাহমুদ ইজ্জাত

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

প্রবাসে বাংলাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa