[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ৯ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ এপ্রিল ২০১৮

bangla news

মিশরের শিক্ষার দিগন্তে বাংলাদেশের উজ্জ্বল এক ঝাঁক নক্ষত্র

জাহিদুর রহমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০১-২৬ ৩:৪৩:৩১ এএম
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

কায়রো (মিশর) থেকে: পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য পিরামিডের দেশ মিশর। এর শিক্ষার দিগন্তে জ্বলজ্বলে নক্ষত্র হয়ে আলো ছড়াচ্ছে বাংলাদেশের অসংখ্য তারা। আর সেই দিগন্তের নাম ‘আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়’। যেখানে মেধাবী আর উজ্জ্বল তারা হয়ে জ্বলছে বাংলাদেশের এক ঝাঁক তরুণ।

ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার উদ্দেশ্য নিয়ে ৯৭২ সালে ফাতেমীয় সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত হাজার বছরের প্রাচীন এ বিশ্ববিদ্যালয়টি  ‘কাবাতুল এলেম’ নামেও বিশ্বের কাছে পরিচিত। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন প্রায় দুইশ’র মতো মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

দু'ভাবেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত শিক্ষার্থী হওয়া সম্ভব। একটি রাজকীয় শিক্ষা বৃত্তি । অন্যটি নিজ খরচে।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি সারাবিশ্বের ‘ইলমি মারকাজ’। অর্থাৎ জ্ঞানের সাম্রাজ্য।

এখানে বিশ্বের বড় বড় খ্যতিমান আলেমরা যেমন অধ্যাপনা করেছেন, তেমনি ফরায়েযী আন্দোলনের উদগাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ'র মতো বাংলাদেশের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনে জড়িয়ে আছে ইসলাম চর্চার প্রাণকেন্দ্র ‘আল-আজহার’।

বাংলাদেশের কওমী শিক্ষাবোর্ডে তাকমিল জামাতে দেশ প্রথম স্থান অধিকারী কামরুল হাসান (২৩) এখানকার শিক্ষার্থী। ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার আমি শহুরে। ঠিকানা হলো- ধোপাখলা, উমেদ আলী রোডের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমানের ছেলে কামরুল হাসান শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে মাত্র ৫ মাস আগে ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিষয়ে পড়তে আসেন আল-আজহার ফরেন ইনস্টিটিউটে।

রাজশাহী থেকে আলিম পাস করে নওঁগার নিয়ামতপুরের চৌরাপাড়া গ্রামের মেহেরুল ইসলামের ছেলে কাউসার আলী (১৯) স্কলারশিপ নিয়ে এখানে অনার্স করছেন ইসলামিক স্ট্যাডিজে।

বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন মিসরের সভাপতি ঈসা আহমাদ ইসহাকতার ধ্যানজ্ঞান ভবিষ্যতে অক্সফোর্ডে মাস্টার্স করা। এভাবে দিনদিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ২০০৫ সালে এখানে শিক্ষার্থীরা মিলে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ  ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন মিসর’।

সংগঠনটির সভাপতি ঈসা আহমাদ ইসহাক (৩০)। নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা থানার দরুনসাহতা গ্রামের মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ঈসা আহমাদ ইসহাক এখানে পড়তে আসেন ২০১০ সালে।

এক ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে সবার বড় ঈসা অনার্স শেষ করে করছেন এডুকেশন ফ্যাকাল্টিতে ডিপ্লোমা। স্বপ্ন ভবিষ্যতে নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষা শিক্ষক হওয়া।

ঈসা আহমাদ ইসহাক বাংলানিউজকে জানান, ইসলাম ও আধুনিকতার সমন্বয়ে অনন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন এবং ইসলামী আইন শিক্ষার পাশাপাশি যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা হয়ে থাকে। মিশরের প্রাচীনতম ডিগ্রি গ্রান্টিং বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শুরুতে কেবল ইসলামী বিষয়গুলো পড়ানো হলেও ১৯৬১ সালে বিজ্ঞান ভিত্তিক বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

ইসলাম ধর্ম ও ইসলামী সংস্কৃতির বিস্তার ঘটানোই মূলত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য।

‘বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন মিসর’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ (২৬)। গোপালগঞ্জের সন্তান। ছার্ছিনা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ডা. সায়েদ শরাফত আলীর সন্তান মাসুম এখানে পড়ছেন ইসলামি স্ট্যাডিজ অ্যান্ড অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজে।

বাংলানিউজকে তিনি জানান, বিশ্বের ১১০ টি দেশের ৪৫ হাজার বিদেশিসহ সাত লাখ রয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। যার মধ্যে ১৯০ জন পড়ছেন এখানে। এ ছাড়াও কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়, ফাইয়ুম বিশ্ববিদ্যালয়, আইন শামস, জাকাজিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন বেশকিছু বাংলাদেশি।

প্রতি বছর বাংলাদেশের ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য স্কলারশিপ আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। তবে, নিজ খরচে পড়াশুনার সুযোগ রয়েছে এখানে। যার শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা।

তবে, ঢাকা ও কায়রোর দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন। সেই সঙ্গে দু'দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তিকে আরও যুগোপযোগী করা হলে দেশের আরও অনেক শিক্ষার্থীর স্কলারশিপ নিয়ে অধ্যায়ন করার সুযোগ রয়েছে এখানে।

তার আগে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত আর আধুনিক করতে হবে। সিলেবাসের মান এখানকারের মানে উন্নীত করা গেলে সহজেই এখানে অধ্যায়ন সম্ভব। কারণ এখানকার প্রশাসন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকে।

এখানকার কতৃর্পক্ষই শিক্ষার্থীদের ভিসা দিয়ে থাকে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সেবামূল্যের ওপর সর্বোচ্চ ছাড় পেয়ে থাকে এখানকার শিক্ষার্থীরা।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  কামরুল হাসান ও কাউসার অালীবাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন মিসরের মূল মন্ত্রই হচ্ছে, ‘আদর্শ, শিক্ষা, শৃঙ্খলা, ঐক্য, ত্যাগ আর সেবা। 

যে সংগঠন মিসরে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে উত্তরোত্তর তা বৃদ্ধি করে চলেছে। পাশাপাশি সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও লালন করা, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকরি ভূমিকা পালন, সুস্থ চিন্তাধারা লালন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করা এবং মধ্যপন্থা অবলম্বনে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশটিতে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে।

বিশেষ করে নতুন শিক্ষার্থী এলে তাদের ভর্তি, আবাসন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নবীন বরণ ও বিদায়ী ছাত্রদের সম্মাননাসহ নানা আয়োজনে বছরজুড়েই সক্রিয় থাকে সংগঠনটির কর্মকাণ্ড। যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিক সনদের সঙ্গে আল আযহার এর উচ্চ মাধ্যমিক সনদকে সমমান উন্নীত করেছে এ সংগঠনটি।

সব মিলিয়ে এই সংগঠনটিই যেন প্রবাসে একটি অনন্য বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সময়: ০৩৩০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৬, ২০১৭
পিসি/

**সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন​
**মিশরে মানবতার ফেরিওয়ালা ডা.আরিফুল হক
**
গার্মেন্টস শ্রমিক সুলতান আজ অনারারি কনসাল জেনারেল
** মিশরের ধূসর মরুভূমিতে প্রবাসীদের চিকিৎসায় শাফায়েত উল্লাহরা
** ঢাকা-কায়রো সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায়
** কায়রোয় ৫ মাস ধরে রাষ্ট্রদূতের চেয়ার শূন্য
** আমির হোসেনের নির্বাসনের জীবনই যেন ফুরোয় না!

** ‘ইজ্জত’ রক্ষায় ঢাকায় মাহমুদ ইজ্জাত

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

প্রবাসে বাংলাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa