banglanews24.com Logo

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজ!

13 Oct 2012   09:34:24 PM   Saturday BdST

ফিরোজ আমিন সরকার, জেলা প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঠাকুরগাঁও: মাত্র ১৬ জন শিক্ষক নিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজ।

প্রতিষ্ঠাকাল: স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তির উদ্যোগে ১৯৭৬ সালের ২০ অক্টোবর এ কলেজটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তৎকালীন মহকুমা প্রশাসন আফতাব উদ্দীন মণ্ডলকে সভাপতি এবং মির্জা রুহুল আমিনকে সম্পাদক করে কলেজটির ১১ সদস্যের পরিচালনা পরিষদ গঠিত হয়।

১৯৭৬ সালের ৪ ডিসেম্বর মাত্র ৩৪ জন ছাত্রী নিয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি রুমে কলেজটির প্রথম শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। সেদিন এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিলেন দিনাজপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক এ টি বারী।

প্রতিষ্ঠাকালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন হেলাল উদ্দীন আহম্মদ। এসময় কলেজের কোনো নিজস্ব ভবন ছিলনা। ১৯৭৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর কলেজের নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার শফিউল আলম।

জাতীয়করণ: ১৯৮৫ সালের ১ জুলাই কলেজটিকে জাতীয়করণ করা হয়। কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক ও বিজ্ঞান এবং ডিগ্রি পর্যায়ে বিএসএস ও বিএ কোর্স চালু রয়েছে।
 
যেসব বিষয়ে পাঠদান করা হয়: কলেজটিতে অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, কম্পিউটার শিক্ষা, ইসলামের ইতিহাস, সমাজ কল্যাণ, রসায়ন, পদার্থ, প্রাণিবিজ্ঞান ও গণিত বিষয় চালু রয়েছে।

শিক্ষার্থী সংখ্যা: কলেজটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেড় হাজার।

শিক্ষক সংকট: দেড় হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৬৪ জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও রয়েছে মাত্র ১৬ জন। কলেজে শিক্ষকের ৩০টি পদ থাকলেও বর্তমানে ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। অর্থনীতি বিভাগ চলছে একজন সহকারী অধ্যাপক দিয়ে। এছাড়াও ইসলামের ইতিহাস, সমাজকল্যাণ বিভাগ, রসায়ন বিভাগ, প্রাণিবিজ্ঞান ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ চলছে একজন করে শিক্ষক দিয়ে। আর উদ্ভিদ বিজ্ঞান ও শরীরচর্চা বিভাগে শিক্ষক পদ থাকলেও তাতে কোনো শিক্ষক নেই। সব মিলিয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে।

এছাড়াও এ কলেজে কর্মচারীর সংকট রয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ৯টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে চারটি। রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহম্মেদ ও অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামিউল ইসলাম বলেন, কলেজে শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। এর পরেও শিক্ষার্থীদের তা বুঝতে দেওয়া হয়না। অতিরিক্ত তিন/চারটি ক্লাস ভাগ করে নিয়ে কলেজ চালানো হচ্ছে।

অবকাঠামো: কলেজে পাঠদানের জন্য অনেকগুলো কক্ষও থাকলেও একাডেমিক ভবন, অডিটোরিয়াম ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্রেঞ্চ নেই। এছাড়াও কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জন্য থাকার তেমন সুব্যবস্থা নেই। পরিত্যক্ত অবস্থায় চারটি টিনসেড ঘর পড়ে আছে। এর মধ্যে দু’টি ঘর ব্যবহার করছেন দু’জন শিক্ষক।

কমনরুম: দেড় হাজার ছাত্রীর জন্য মাত্র একটি কমন রুম রয়েছে এ কলেজে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

পাঠাগার: একজন সহকারী লাইব্রেয়ান দিয়ে চলছে কলেজের পাঠাগার। প্রায় ১২ হাজার বই রয়েছে এই পাঠাগারটিতে। প্রতিবছরই চাহিদা অনুযায়ী কেনা হয় বিভিন্ন ধরনের বই। একটি ক্লাসরুম পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ৫০ জন শিক্ষার্থী এক সঙ্গে এখানে পড়াশুনা করতে পারেন।

অনার্স কোর্স: এখনো পর্যন্ত এ কলেজে চালু হয়নি অনার্স কোর্স (স্নাতক সম্মান শ্রেণী)। তবে বাংলা, অর্থনীতি, ইসলামের ইতিহাস ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ আবেদন করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রণালয় আবেদনটি অনুমোদন করেছে বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর চৌধুরী লায়লা আরজুমান্দ বানু। এখন শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে বিষয়টি।

এই বিষয়গুলোতে অনার্স কোর্স চালু হলে ১২শ’ ছাত্রী শিক্ষা সুবিধা পাবে বলে জানায় কলেজ কর্তৃপক্ষ।

পরিবহন ব্যবস্থা: কলেজটিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা নেই। ফলে দূরদূরান্ত থেকে নিজস্ব উদ্যোগেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়।

খেলার মাঠ, বিনোদন ব্যবস্থা ও খাবার পানি: খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে উপকরণ ও বড় মাঠ রয়েছে। প্রতিবছরই কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। পাশাপাশি বিনোদনের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও নাটক মঞ্চস্থ হয় কলেজটিতে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার পানির সুব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

ছাত্রী হোস্টেল: ৪০ কক্ষ বিশিষ্ট ছাত্রী হোস্টেলের একেকটি কক্ষে চারজন করে মোট ১৬০ জন ছাত্রী থাকেন। এছাড়াও একটি হল রুমে থাকেন আরও সাতজন। ছাত্রীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানান অধ্যক্ষ ও শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য: একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ইমি আক্তার ও দ্বাদশ শ্রেণীর মানবিক বিভাগের ফারজানা আনিস জানান, শিক্ষক সংকট কাটলে কলেজটিতে শিক্ষার মান বৃদ্ধি হবে।

তারা আরও জানান, কলেজ ক্যাম্পাসে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর চৌধুরী লায়লা আরজুমান্দ বানু বলেন, শিক্ষক সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ছাত্র সংসদ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, কলেজটিতে রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই। কলেজের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ পর্যন্ত ছাত্র সংসদ হয়নি।

বাংলাদেশ সময়: ২১২৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৩, ২০১২
সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা, নিউজরুম এডিটর


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪ ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক) corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন       একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান       কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত