|

বদলি আদেশে ক্ষোভ
অবশেষে পদত্যাগ করলেন বিচারক আব্দুর রহমান
29 Sep 2012 08:13:15 PM Saturday BdST
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
চট্টগ্রাম: অবশেষে চূড়ান্তভাবে চাকুরি থেকে পদত্যাগ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম (যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার) আব্দুর রহমান।
সম্প্রতি আব্দুর রহমানকে বরিশালের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে বদলি করা হয়। এ পদে যোগ দিতে অপারগতার কথা জানিয়ে আগের দেয়া পদত্যাগ পত্রকে চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করার অনুরোধ করে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি একটি পত্র দিয়েছেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব বরাবরে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে দেয়া এ পত্রে আব্দুর রহমান আর চাকুরিতে ফিরবেননা বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রশাসনিক শাখা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া মর্তুজা’র মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে মানসিক হতাশা এবং বদলির আদেশ মানতে না পেরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিচারক আব্দুর রহমান। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে পদত্যাগ পত্রটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হলেও সেটি গ্রহণ করার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এরপর গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিচারক আব্দুর রহমান চট্টগ্রাম আদালতে নিজের এজলাস কক্ষে ঢুকতে বাধা পান। এজলাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তার এজলাস কক্ষে তালা লাগানো হয়েছে বলে তাকে জানান।
এ ঘটনায় অপমানবোধ করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বিচারক আব্দুর রহমান জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন থেকে চূড়ান্তভাবে পদত্যাগ এবং আর কখনও বিচার বিভাগের পেশায় না ফেরার সিদ্ধান্ত নেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে চূড়ান্তভাবে পদত্যাগের পর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজের নির্দেশে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাকে এজলাস কক্ষে ঢুকতে দেয়া হয়। এরপর আব্দুর রহমান এজলাস কক্ষ থেকে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র বের করে নিয়ে যান।
এর আগে জমা দেয়া পদত্যাগপত্রে সদ্য বদলি হওয়া চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এবিএম নিজামুল হকের সঙ্গে তার বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।
প্রশাসনিক শাখা সূত্র জানায়, চূড়ান্ত পদত্যাগপত্রেও তিনি সেই বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সাবেক সিএমএম এবিএম নিজামূল হক কর্তৃক আনীত অভিযোগ তদন্ত হলে আমি মানসিকভাবে শান্তি পেতাম।’
বিচারক আব্দুর রহমান চূড়ান্ত পদত্যাগপত্রে বলেন, ‘আমাকে বরিশালের যুগ্ম জেলা জজ পদে বদলি করা হলেও আমি ওই পদে যোগ দিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়। এ অবস্থায় আমি স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে এবং কারও প্ররোচনা ছাড়াই জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।’
একইসঙ্গে বিচারক আব্দুর রহমান গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার জমা দেয়া পদত্যাগপত্র চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করে ওই তারিখ থেকে পদত্যাগ কার্যকর করার আবেদন জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম আদালতের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এবিএম নিজামুল হকের (সদ্য বদলি হওয়া) বদলির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল জেলা আইনজীবী সমিতি।
এ আন্দোলনের মধ্যেই অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের বদলির আদেশ আসায় ুব্দ হন বিচারক আব্দুর রহমান। বিষয়টিকে ওই বিচারক অন্যায়, অযৌক্তিক এবং নিজের জন্য অপমানজনক হিসেবে বিবেচনা করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
ওই পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম, বিজ্ঞ সিএমএম (সদ্য বদলি হওয়া এবিএম নিজামুল হক) আমার বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধান বিচারপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও সচিব বরাবর আমার কার্যক্রম ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর কর্তৃক আনীত অভিযোগের কোন তদন্ত ছাড়াই আমাকে যোগদানের মাত্র চার মাসের মধ্যেই বদলির আদেশে আমি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও বলেন, অপ্রতুল বেতন কাঠামোয় অতি কষ্টে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছি শুধু ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার রক্ষার নিমিত্তে। কিন্তু এখন বিনা তদন্তেই আমি ন্যায়বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হলাম।
এদিকে বিচারক আব্দুর রহমানের পদত্যাগকে চট্টগ্রাম আদালতের অনেক শীর্ষ আইনজীবী বিচার বিভাগের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী বাংলানিউজকে বলেন, ২০০৯ সালে তৎকালীন মহানগর দায়রা জজ ভবানীপ্রসাদ সিংহ (বর্তমানে বিচারপতি) ও তৎকালীন সিএমএম মোহাম্মদ হেলাল চৌধুরী (বর্তমানে উপসচিব-নির্বাচন কমিশন) দক্ষতার সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর বিচার প্রশাসন পরিচালনা করেন। উনারা চলে যাবার পর চট্টগ্রাম মহানগর বিচার প্রশাসন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
সর্বশেষ চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতের দু’জন দক্ষ ও সৎ ম্যাজিস্ট্রেট ওসমান গণি ও মো.মাহাবুবুর রহমান চলে যাবার পর বিশাল শূন্যতা দেখা দেয়। এরপর আব্দুর রহমানের মত একজন দক্ষ ও সৎ বিচারকের হঠাৎ করে বদলি হওয়ায় সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশ সময়: ২০ ০৬ ঘন্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১২ আরডিজি, সম্পাদনা : তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|