|

পরিবেশের পক্ষে আদালতের জোরালো অবস্থান
13 Jun 2012 02:02:08 PM Wednesday BdST
জাকিয়া আহমেদ ও ইলিয়াস সরকার বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনে নির্মিত হবে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। আর এটি নির্মিত হলে ধংস হবে প্রাণীকূল। নষ্ট হবে পরিবেশের ভারসাম্য। থাকবে না আর সেই ঐতিহ্য।
ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি এলাকা হচ্ছে মহাস্থানগড়। পরিবেশ আইন অনুযায়ী এ স্থানগুলো সংরক্ষণ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে সেখানে প্রভাবশালীরা স্থাপনা নির্মাণ করছে।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। আর নদীর ধর্ম হচ্ছে আপন গতিতে ছুটে চলা। কিন্তু একটি মহল নদীকে ভরাট করে, নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে তৈরি করছে বিভিন্ন স্থাপনা। নষ্ট করা হচ্ছে নদীর গতিপথ।
পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত হচ্ছে আমাদের কক্সবাজার। আছে কুয়াকাটাও। এই দুই সৈকতে প্রভাবশালীরা দখল করে বিভিন্ন দোকান তৈরি করে ভাড়া দিচ্ছে। নির্মাণ করছে বিশাল ভবন।
কোনো প্রকার বিধিমালা ছাড়াই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুরানো জাহাজগুলো ভাঙা হচ্ছে (শিপ ব্রেকিং)। পরিবেশের লঙ্ঘন, অনিরাপদ কাজ যার কারণে শ্রমিক মৃত্যু হচ্ছে। এ ব্যবসার জন্য ওই এলাকায় অনেক গাছ কাটা হয়ছে। দখল করা হয়েছে বিশাল সৈকত এলাকা।
সারাদেশেই এভাবে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ধংস করা হচ্ছে। দূষিত করছে পরিবেশ। আর এতে বিশাল ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে দেশ ও জাতি।
আর পরিবেশ রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসছে না। প্রতিনিয়ত ধংস হচ্ছে পরিবেশ।
কিন্তু এ পরিবেশ রক্ষায় কেউ এগিয়ে না এলেও আপোসহীনভাবে পরিবেশ বাঁচাতে পরিবেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়ে যাচ্ছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
গত কয়েক বছরই ওই বেঞ্চ প্রতিনিয়ত পরিবেশকে রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আদেশ, নির্দেশনা ও রায় দিয়ে যাচ্ছেন।
বগুড়ার মহাস্থানগড়: আইন লঙ্ঘন করে বগুড়ার মহাস্থান গড়ে প্রাচীন পুরাকীর্তি এলাকায় মাজার উন্নয়নের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ধ্বংস করে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে মানবধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে একটি রিট করেন। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেন। র্দীর্ঘ রুল শুনানি শেষে গত ১৯ জানুয়ারি মহাস্থানগড়ের প্রাচীন পুরাকীর্তি এলাকায় সব ধরণের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব আইন-১৯৬৮ এর ১২(সি) ধারা অনুযায়ী মহাস্থানগড়ের পুরাকীর্তি এলাকা রক্ষণাবেক্ষণেরও নির্দেশ দেন আদালত।
এছাড়া হাইকোর্টের আদেশে মহাস্থানগড় নিয়ে করা কমিটির ১৪ দফা সুপারিশ তিনভাগে বাস্তবায়ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
জাহাজ ভাঙা শিল্প: জাহাজ ভাঙা শিল্প দূষণমুক্ত করা এবং এ শিল্পের শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য বিধিমালা তৈরি করতে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভিন্ন সময়ে নির্দেশনা দেন। পরিবেশ আইন ও শ্রম আইনসহ ছয়টি আইন বিবেচনায় রেখে বিধিমালা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনার সময় হাইকোর্টে বলেছেন, জাহাজ ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি আনতে হবে। শ্রমিকদের আড়াই মাসের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি কাজের নিরাপত্তা বাবদ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। প্রশিক্ষণের মধ্যে ১৫ দিন তত্ত্বীয় এবং বাকি দুই মাস ব্যবহারিক। শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনকে ওই প্রশিক্ষণের ব্যয় বহন করতে বলা হয়। এছাড়াও ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না বলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। নিরাপদে বর্জ্য ধ্বংসের জন্য আদালত শিপ ব্রেকার্সদের ল্যান্ড ফিল্ড সাইট করতে বলেছেন। আদেশে আরো বলা হয়, জাহাজ ভাঙার কাজ তদারকে প্রতিটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একজন করে মেরিন প্রকৌশলী নিয়োগ করতে হবে। এ খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের তালিকা প্রস্তুত করে এর কপি শ্রম মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের লেবার ইনসপেকটরকে প্রদান করতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক স্বতঃপ্রণোদিত আদেশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাহাজ ভাঙার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ১৮ জানুয়ারি ম্যাক করপোরেশন নামে একটি শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় চার শ্রমিক নিহত হয়। এ ঘটনা নিয়ে ১৯ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হলে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর অপর এক আদেশে উচ্চ আদালত বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। এছাড়া আদালত গত ১৮ জানুয়ারি নিহত চার শ্রমিকের পবিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতি পরিবার থেকে একজনকে স্থায়ী চাকরি দিতে মালিক প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজ বিস্ফোরণে আহত এক শ্রমিককে ছয় মাসের বেতন এবং চিকিৎসা খরচ দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া জাহাজ বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলাও অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পার্ক রক্ষা: সিলেটের জালালাবাদ ও ওসমানি পার্কের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে পার্ক দুইটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন যথাযথোভাবে অনুসরণেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, পার্ক দুইটির জায়গা দখল করে বাণিজ্যিক ভবনসহ অন্যন্য স্থাপণা নির্মাণের জন্য লিজ দেয়ার পরিকল্পনা করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এই পরিকল্পনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি’ (বেলা) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর রুল জারি করেন আদালত। এই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেন আদালত।
রাজধানীর নিকুঞ্জ লেক: রাজধানীর নিকুঞ্জ লেকে মাটি ভরাট এবং স্থায়ী-অস্থায়ী সকল স্থাপনা নির্মাণের ওপর তিন মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ‘নিকুঞ্জ লেক রক্ষা এবং লেক ভরাট করে নির্মিত সকল স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না’ তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। এই আদেশের ফলে ওই লেকের বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
লেক রক্ষা ও দখল বন্ধের দাবিতে জনস্বার্থে ‘নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতি’র পক্ষে গোলাম হায়দার বাদী হয়ে হাই কোর্টে রিটটি দাখিল করেন। রিটের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, রাজউকের পরিকল্পনায় অনুযায়ী নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার জন্য প্রস্তাবিত কর্মপন্থায় সুনির্দিষ্টভাবে নিকুঞ্জ লেকের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কতিপয় অসাধু ব্যক্তি নিকুঞ্জ লেকে অবৈধভাবে মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ করছে। আবাসিক এলাকার পরিবেশের জন্য লেক ভরাট ক্ষতিকর। তাছাড়া নিকুঞ্জ এলাকাটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কাছে অবস্থিত। এই এলাকা ‘জিরো উচ্চতা এলাকায়’ হিসেবে বিবেচনা করার আইন রয়েছে। কিন্তু এই এলাকায় নতুন নতুন ভবন তৈরি করা হলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। রিট আবেদনে নিকুঞ্জ লেকে মাটি ভরাট ও স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশণা চান তিনি।
সুন্দরবন: সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সকল কার্যক্রমের ওপর দুই সপ্তাহের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সুন্দরবনের সন্নিকটে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপণ করাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
জানা যায়, সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবস্থিত রামপালের সাতমারী-কাটাখালী এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য গত বছর বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী ওই এলাকার প্রায় দুই হাজার একর জমি অধিগ্রহণের নোটিস দেয়া হয়।
জনস্বার্থে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস মুভমেন্ট’র সম্পাদক মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম একটি রিট হাইকোর্টে দাখিল করেন।
রিটের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সুন্দরবন শুধু আমাদের নয়, বিশ্বের ঐতিহ্য। এই বন সংলগ্ন স্থানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পরবে। নষ্ট হয়ে যাবে সুন্দরবানের সৌন্দর্য্য ও জীব বৈচিত্র।
বিজিএমইএ ভবন: রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দেশের তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর আলোচিত ভবন ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই ভবন নির্মাণের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই রায় দেন।
রায়ে এই ভবন ভাঙার যাবতীয় খরচ সংগঠনটিকেই বহন করতে হবে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই ভবনের জায়গাসহ রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বেগুনবাড়ি-হাতিরঝিল প্রকল্প মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ে আদালত বলেন, বিজিএমইএ ভবনের ভূমি সরকারের অধিগ্রহণ করা। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই জমির মালিক ছিলো বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরপর ভূমিটি রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোকে দেয়া হয়। কিন্তু নথিপত্রে দেখানো হয়, ২০০১ সালে বিজিএমইএ ওই জমি ব্যুরোর কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। ফলে এর সঙ্গে ভূমি দখল, জালিয়াতিসহ ফৌজদারি অপরাধের মতো বিষয় জড়িত রয়েছে। এটি কিভাবে সম্ভব হলো, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকার জেলা প্রশাসককে বিষয়টি তদন্ত করে ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ওই স্থানে ভবন নির্মাণের বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।
রায়ে আরো বলা হয়, কোন অধিগ্রহণ করা ভূমি জনস্বার্থ ব্যতীত অন্য কোন কাজে কোন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্ধ দেয়া যায় না। বিজিএমইএ একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। তারা দেশে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে আনছে। কিন্তু তারা এই মুদ্রা অর্জন করছে নিজেদের স্বার্থে। তারা ওই ভূমি জনস্বার্থে ব্যবহার করছে না। ব্যুরোর মাধ্যমে এই জমি তাদের বরাদ্ধ দেয়া হলেও তা আইনের লঙ্ঘন। আদালত বলেন, কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। ফলে এতো অর্থ উপার্জন করলেও তারা আইনের উর্ধ্বে নয়।
পরিবেশের বিষয়ে রায়ে বলা হয়, ২০০০ সালের প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বৈধ মালিকানা থাকলেও কোন প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করা যায় না। এটা সকলের কাছেই স্বীকৃত, তারা বেগুনবাড়ি-হাতিরঝিল লেকের অংশ ভরাট করে বেআইনীভাবে এই ভবন নির্মাণ করেছে। ফলে জমির মালিক হলেও প্রাকৃতিক জলাধারে ভবন নির্মাণ করা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ফৌজদারী অপরাধ। এই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ইমারত নির্মাণ আইনেরও লঙ্ঘন করা হয়েছে। ফলে এই ভবন অপসারণের পর বেগুনবাড়ি-হাতিরঝিল প্রকল্প মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।
রায়ে রাজউকের অনুমোদনের বিষয়ে বলা হয়, রাজউকের দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনুমোদনহীনভাবেই এ ভবন নির্মাণ করা হয়। জরিমানা দিয়েও সংগঠনটি ভবন নির্মাণের বৈধতা পায়নি। আর রাজউকের অনাপত্তিপত্র দেয়ার বিষয়টি ভিন্ন। মূল কথা হলো, জমির বৈধ মালিকানা না থাকায় এ ধরণের ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়ার এখতিয়ার রাজউকের নেই। আর আইন লঙ্ঘন করে ক্ষমা পাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষমা করার সংস্কৃতি আইনের শাসনকে ধ্বংশ করে দেয়। এটা আমাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ক্ষমা করা হলে ‘ধনীদের জন্য আইন নয়, গরীবদের জন্য’ এমন ধারনা সকলের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা (আদালত) জনগণ ও ট্যাক্স প্রদানকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বসেছি বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রায়ে আদালত ভবনটির জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। রায়ের কপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ওই ভবন খালি করে যতোদ্রুত সম্ভব ভবনটি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে বলেন আদালত। ভবন ভাঙার সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ২ অক্টোবর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল সংলগ্ন হাতির ঝিলে স্থাপিত এই ভবন নিয়ে একটি ইংরেজি দৈনিকে “নো প্ল্যান টু ডেমোলিস আনঅথোরাইজড বিজিএমইএ বিল্ডিং সুন” শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর পর দিন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বি এইচ এম মনির উদ্দিন খবরটি হাইকোর্টের দৃষ্টিতে আনেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্বপ্রনোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) ‘ভবনটি ভাঙার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না’ তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেন আদালত।
পরে অবশ্য বিজিএমইএ ভবন ভাঙার হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ ৬ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন চেম্বার জজ আদালত।
কপোতাক্ষ নদ: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদে সকল মাটি ভরাট, দখল, বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ নির্দেশনা সাতক্ষীরার ডিসি, এসপি, তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, তালা থানার ওসি, কারিতাসের (এনজিও) রূপসা স্টান্ড অফিসের পরিচালককে (ডিজাস্টার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত: কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ এবং একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই এলাকায় ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণ, ভরাট নিষিদ্ধ এবং ব্যক্তিগত স্থাপনা উচ্ছেদেরও নির্দেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ ও বিবাদীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম.আমীর-উল ইসলাম।
রায়ের পরে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিটের প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা পালন করে ১৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্টরা আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে কুয়াকাটা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থেকে সমুদ্রের পানি পর্যন্ত এলাকাকে সৈকতের সীমানা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।’
তিনি আরো বলেন, রায় প্রদানের পর হাইকোর্ট মামলাটিকে কন্টিনিউয়াস মেন্ডামাস (চলমান) হিসাবে রেখে দিয়েছেন।
এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীতে সকল সুয়ারেজ সংযোগ বন্ধ, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ, লালাবাগ কেল্লার পাশে বড় স্থাপনা নিষিদ্ধ করা, শহীদ মিনারের পিছনের স্থাপনা অপসারণের আদেশ, ফলে রাসায়নিক পদার্থ মিশানো প্রতিরোধে বাজার তদারকি এবং আমদানির সময় পরীক্ষার আদেশ, অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ও রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ।
পরিবেশের পক্ষের এই বেঞ্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
পরিবেশ মামলার এক শুনানিতে তিনি বলেছেন, পরিবেশের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। ভবিষ্যত প্রজন্ম ও পৃথিবীকে রক্ষা করতে পরিবেশেক দুষণমুক্ত রাখতেই হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৬ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০১২ জেএ/এমইএস/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|