banglanews24.com Logo

অর্ধেক পশু অবিক্রিত থাকার আশঙ্কা ব্যাপারিদের

25 Oct 2012   08:25:59 AM   Thursday BdST

মফিজুল সাদিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: এবারের ঈদুল আযহাতে গতবারের তুলনায় বেশি গরু আমদানি হয়েছে। বিপরীতে ক্রেতা কম। তাই এবার হাটে ওঠা অর্ধেক কোরবানির পশু অবিক্রিত থাকার ‍আশঙ্কা করছেন পশু বিক্রেতারা।

রাজধানীর গাবতলী, নয়াবাজার, বনানী, চানখারপুল ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন পশুর হাট ঘুরে এ আশঙ্কা শোনা গেছে।

এসব হাটে দেখা গেছে, আমদানিকৃত পশুর তুলনায় ক্রেতা কম। অনেক ব্যাপারি কেনার চেয়ে কম দামে পশু বিক্রি করছেন।

ব্যাপারিদের দাবি, গাবতলী থেকে মফস্বলে গরুর দাম বেশি। অথচ প্রতিটি গরু মফস্বল থেকে গাবতলীতে নিয়ে আসতে ২ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে।

মফস্বলের ১ লাখ টাকার গরুর দাম গাবতলীতে বলছে মাত্র ৬০ হাজার টাকা।

ব্যাপারিরা বলছেন, গত কোরবানির ঈদে কোরবানির পশুর দাম চড়া থাকায় এবার আমদানি বেশি।

এর উপরে আবার ভারতীয় গরু সরবরাহ বেশি থাকার কারণে সব ধরনের কোরবানির পশুর দাম কম।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া থেকে আসা আবুল ব্যাপারি বাংলানিউজকে বলেন, “গাবতলীর থি (থেকে) দ্যাশে (দেশ) গরুর দাম বেশি, এখানে কোম (কম)।”

তিনি বলেন, “আমি ৪০টা গরু এনেছি,  বিক্রি করেছি মাত্র ৫টি, তাও আবার লোসে (ক্ষতিতে)।”

তিনি আরো বলেন, “খদ্দের যে দাম বলছে সেই দামে বিক্রি করছি।”

অনেক ব্যাপারি গাবতলীতে গরু এনে পড়েছেন বিপাকে। কেউ কেউ বলছেন, এর চেয়ে মফস্বলে গরু বিক্রি করলে বেশি লাভ করতাম।


এবার গাবতলীতে ক্রেতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি কোরবানির পশু এসেছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতা।

পবিত্র ঈদুল আযহার আর মাত্র বাকি দুই দিন। তাই গাবতলীর অধিকাংশ ব্যাপারির আশঙ্কা, যত গরু হাটে আছে সেগুলো ২ দিনে কোনো মতেই বিক্রি সম্ভব নয়। প্রায় অর্ধেক গরু অবিক্রিত থেকে যাবে।

এদিকে গাবতলীতে মহিষের চাহিদা নেই বললেই চলে। মহিষ ব্যাপারিরা বলছেন, কেউ মহিষের দাম জিজ্ঞাসাই করছে না।

তবে ছোট গরু ও ছাগলের চাহিদা বেশি গাবতলী পশুরহাটে। বড় পশুর চাহিদা নেই বললেই চলে।

অনেক ব্যাপারি বলছেন, প্রতি পশুবোঝাই ট্রাকে  ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া থেকে আসা সুজন ব্যাপারি বাংলানিউজকে বলেন, “আমি যে দামে গরু কিনেছি সে অনুযায়ী প্রতি ট্রাকে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “এর চেয়ে গত শুক্রবার ও শনিবার গরুর দাম বেশি ছিল।”

তিনি আরো বলেন, “এমন যদি চলতে থাকে তবে আমাদের অর্ধেক গরুও বিক্রি হবে না।”

এদিকে পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু থাকায় জামাই আদর পাচ্ছেন ক্রেতারা। ইচ্ছা মতো ঘুরেফিরে পছন্দের পশু দেখছেন।

ঈদ যতো কাছে আসবে এসব পশুর দামও ততো কমবে বলে মনে করছেন তারা।

গাবতলী হাটে মিরপুর থেকে আসা ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, “দেখি কোরবানির পশুর দাম আরো একটু কমে কিনা।”

উট ও দুম্বার চাহিদা বেশি
গাবতলী কোরবানির হাটে উট ও দুম্বার চাহিদা বেশি। ২১ অক্টোবর এ হাটে ৫টি দুম্বা উঠেছিল।

কিন্তু এখন আর একটিও  দুম্বা গাবতলীতে নেই। সব বিক্রি হয়ে গেছে। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ কেজি মাংস পাওয়া যাবে এমন দুম্বা ২ লাখ টাকা থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া উটের চাহিদা বেশি লক্ষ করা যায় গাবতলীতে। ১২ মণ মাংস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন উট ৬ লাখ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

হঠাৎ বাড়ল হাসিল খরচা
২০ অক্টোবর থেকে ১ হাজার টাকায় হাসিল খরচ ছিল ৩৫ টাকা। কিন্তু এখন বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা।

এর ফলে অনেক ক্রেতা পড়েছেন বিপাকে। মাত্র একদিনের ব্যাবধানে হাসিল কেন হাজারে ১৫ টাকা বাড়ল তার উত্তর কারো কাছেই পাচ্ছেন না তারা।

গাবতলী হাট পরিচালনা কমিটি অন্যতম সদস্য সোহেল বাংলানিউজকে বলেন, “প্রতিবার ঈদের তিন দিন বাকি থাকতে হাসিল খরচ বাড়ে।”

তিনিও হাটের সব গরু বিক্রি হবে না বলে আশঙ্কা করে বলেন, “এবার হাটে ক্রেতার তুলনায় কোরবানির পশুর আমদানি বেশি।”

বাংলাদেশ সময়: ০৭৫১ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৪, ২০১২
এমআইএস/ জেডএম;  জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com 

 


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪ ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক) corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন       একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান       কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত