banglanews24.com Logo

ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেম

ডিজিটালে আরো এক ধাপ এগুলো পুলিশ

25 Sep 2012   04:45:39 PM   Tuesday BdST

ইমরান আলী, স্টাফ কারেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: নথিপত্রে সমস্যা বা ফিটনেস না থাকার কারণে গাড়ির জরিমানার টাকা দেওয়ার জন্য এখন থেকে আর ট্রাফিক অফিসে যেতে হবে না। মোবাইল অপারেটর রবি’র ইজিলোড এবং প্রাইম ব্যাংকের মাধ্যমে এ টাকা পরিশোধ করা যাবে। আর জরিমানা পরিশোধের পর গাড়ির কাগজপত্র কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে মালিকের ঠিকানায়।

ট্রাফিক পুলিশের এ নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেম।

সোমবার বিকেলে এ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- এডিশনাল আইজি কেএম শহিদুল হক, ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহমেদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মিলি বিশ্বাস, জয়েন্ট কমিশনার ট্রাফিক মাহাবুর রহমানসহ পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিসি (সদর) হাবিবুর রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিজিটাল পদ্ধতির এ সিস্টেমে জরিমানা হওয়া মালিকদের সুবিধার পাশাপাশি সার্জেন্টদের দেওয়া হয়েছে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস। এর মাধ্যমে খুব সহজেই তারা গাড়ির সমস্যা চিহ্নিত করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, ই-ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় চারটি বেসরকারি সহযোগী প্রতিষ্ঠান- মোবাইল ফোন অপারেটর রবি, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, সফটওয়্যার কোম্পানি EBS এবং সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসকে যুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যবস্থাপনার অংশীদার বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। এ ব্যবস্থা প্রবতর্নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, গাড়ির স্বত্বাধিকারী ও ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের কাছ থেকে স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক জরিমানা আদায় পদ্ধতির প্রবর্তন ও নথিপত্র সরবরাহ।

ই-ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রধান চারটি বিষয় হলো- এসএমএস এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ,  মামলা রুজু ও যথার্থতা নিরূপণ,  জরিমানা আদায় এবং কাগজপত্র বিলি।

এসএমএস এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ: যে কোনো নাগরিক ঘরে বসেই রবি’র মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসএমএস করে ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, গাড়ির চেসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বরের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ট্যাক্স টোকেন, রুট-পারমিট, ট্রাফিক মামলা সংক্রান্ত তথ্যাদি জানতে পারবেন।

মামলা রুজু ও যথার্থতা নিরূপন:  এ পদ্ধতিতে একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ঘটনাস্থল থেকেই POS ডিভাইসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করবেন। এসময় তা‍ৎক্ষণিকভাবে এ ডিভাইসের মাধ্যমে মামলার রেফারেন্স সংক্রান্ত দুই কপি কেস স্লিপ প্রিন্ট করে এক কপি গাড়ির চালককে দেওয়া হবে এবং অন্য কপি ডিসি ট্রাফিক অফিসের প্রসিকিউশন শাখায় জমা হবে।
POS ডিভাইসগুলো রবি’র মাধ্যমে ডিএমপি হেডকোয়ার্টারে রক্ষিত সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় তথ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেখানে সংরক্ষিত হবে। এ তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার স্থান, কারণ বা ধরন জানা যাবে। এছাড়াও এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নসহ ট্রাফিক সার্জেন্ট বা ইন্সপেক্টরদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা যাবে।

জরিমানা আদায় পদ্ধতি: এ ব্যবস্থায় ডিসি (ট্রাফিক) অফিসে না এসেই কোনো গাড়ির চালক বা মালিক নিকটবর্তী ৫০টি রবি সেবা পয়েন্টে ইজিলোডের মাধ্যমে বা প্রাইম ব্যাংক লি. এর ৪৬টি শাখায় নগদ টাকা জমা দিয়ে জরিমানা পরিশোধ করতে পারবেন।

তবে, এ ব্যবস্থার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিসি (ট্রাফিক) অফিসের জরিমানা আদায়ের কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

কাগজপত্র বিলি:  জরিমানার টাকা জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্যটি সেন্ট্রাল ড্যাটাবেইসে (তথ্যভাণ্ডারে) চলে যাবে। সেখান থেকে তথ্য পাওয়ার পর নামমাত্র চার্জের বিনিময়ে স্বল্পতম সময়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস ওই গাড়ির স্বত্বাধিকারীর ঠিকানায় জব্দ করা কাগজপত্র পৌঁছে দেবে। সেই সঙ্গে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গাড়ির কাগজপত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিটি নথির বিপরীতে বীমা করা থাকবে ফলে কোনো কাগজপত্র হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন।

আধুনিক এ ব্যবস্থা সম্পর্কে অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মিলি বিশ্বাস বাংলানিউজকে বলেন, “ই-ট্রাফিক ব্যবস্থায় নগরবাসীর অর্থ, শ্রম ও কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, “এতে করে যানজটও কমবে। তথ্য বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে এবং  ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে।”

উল্লেখ্য, ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোটরযান আইন-১৯৮৮ অনুযায়ী, সার্জেন্ট এবং ইন্সপেক্টররা ঢাকা মহানগরে চলাচলকারী প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজারসহ প্রতিদিন বাইরে থেকে আসা হাজার হাজার যানবাহনের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ২০১১ সালে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মামলা দায়ের করে এবং ২৬ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করে সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১৬ ঘণ্টা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২
আইএ/সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর; আহ্‌সান কবীর, আউটপুট এডিটর


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪ ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক) corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন       একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান       কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত