banglanews24.com Logo

প্রবন্ধ

ঈদের আনন্দ ঈদের বেদনা

17 Aug 2012   03:08:28 PM   Friday BdST

ড. ফজলুল হক সৈকত
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

‘ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ’- এভাবেই বলতে ও শুনতে বোধকরি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি আমরা। চেতনে, অচেতনে কিংবা অবচেতনে আমাদের চিন্তায় এরকমভাবে জেঁকে বসেছে ভাবনার যাতনার (না-কি আনন্দের!) ভার। একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে নতুন করে ভাবতে বা শিখতে যেন আমারা প্রস্তুত নই। একথা ঠিক যে, ঈদে শুধু আনন্দ নয়, বেদনার ছায়া এবং ছবিও আছে। অবশ্য ‘বক্রীদ’ (বকরি ঈদ- বকরি কোরবানি দেওয়া হয় বলে অনেকে এরকমভাবে বলে থাকেন; কেন গরু-মহিষ কি কোরবানি হয় না?) নিয়ে আমাদের একপ্রকার কষ্ট বা বেদনার কথা স্মরণ করতে হয়। ত্যাগের শিক্ষার কথা তখন আমরা শুনতে পাই বটে। কিন্তু ‘রোজার ঈদ’ বা ‘ফেতরার ঈদ’ দৃশ্যত কেবল আনন্দই বহন করে আনে! এক মাসকাল সিয়াম সাধনার পরে আমাদের জন্য আসে ওই সুখের বার্তা। অদেখা বেহেস্তের বাতাস! কাজী নজরুল ইসলামের লেখা এবং শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে, এলো খুশির ঈদ’ গানটি বাঙালি মুসলমানদের মনে নীরবে একধরনের আনন্দের মায়াজাল বিস্তার করে চলেছে। লাচ্চা-সেমাই, পোলাও-কোর্মা, কোলাকুলি আর ঘোরাঘুরির পর্ব ধরে ধরে আমরা যেন উদযাপন করতে থাকি একেকটি ঈদুল ফিতর বা ‘ফেতরার ঈদ’ (আমরা ফিতরা আদায় বা প্রদানের ঈদ বলতে কি কোনোরূপ আগ্রহ বোধ করেছি কখনো?) ফিতরা আদান-প্রদানের ব্যাপারটা মাথায় থাকলে অবশ্য ঈদের আনন্দের পাশাপাশি বেদনার ছবিটাও সকলের চোখের সামনে থাকতো। কারণ, যাদেরকে ফিতরা দিতে হয়, তাদের জীবনে আর যাই হোক খুব আনন্দ বিরাজ করছে- এমনটা অন্তত হলফ করে বলা যাবে না। তাহলে কি ভাবতে হবে- সিয়াম সাধনার পরে ঈদের আনন্দের বার্তা প্রচারের পেছনে কোনো অহেতুক রাজনীতি বা সমাজনীতি কিংবা ধর্মীয় সম্প্রচারনীতি লুকিয়ে আছে? না-কি ওসব কেবল দুঃখ ভুলে থাকার বাহানা বা কৌশল? কে জানে ওসব কথা! হতেওতো পারে! যেমন ‘আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা; চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা’- (ঈদের চাঁদ দেখবার আনন্দ কিংবা ‘চাঁদরাতে’র প্রত্যাশার বিষয়কে মাথায় রেখে এখানে চাঁদের প্রসঙ্গ টানা হয়নি) কথাটার মাঝে রয়েছে চিরায়ত পারিবারিক রাজনৈতিক-সংস্কৃতির একটি সরল ও চৌকষ ছবি।- যা হয়তো শাদাচোখে ঠিক ধরা পড়ে না। ভেবে দেখুনতো ‘চাঁদ চাচা’ কেন বলা হচ্ছে না? বললে স্বামীর ভাইকে বেশি বড় করে তোলা হয়, তাইতো? কেউ কেউ হয়তো ভাববেন, পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক-মানসিকতার কারণে আমরা এই প্রশ্নটি তুলছি। কিন্তু, ‘বাঘ শিকার যামু/আমি আর মামু’- এই কথায় আছে কোন রাজনীতি? যত রাজনীতি আর কূটনীতিই থাক না কেন- কষ্টকে কি আর ঢেকে রাখা যায়? যায় না। সত্যটা প্রকাশ পায়ই একদিন না একদিন। যেমন যায় না কিছুতেই ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’। আমার মনে হয়, ঈদের আনন্দের আড়ালে বেদনার ব্যাপারটাও ওমনি; কিছুটা দেখা যায় তো বাকিটা থাকে সাধারণের চক্ষু ও চিন্তার একেবারে অন্তরালে।

খেয়াল করলে দেখা যাবে, সামাজিক-ধর্মীয় উৎসবাদি একদিকে যেমন ধারণ করে আছে ঐতিহ্য ও প্রচলিত জীবনধারা, অপরদিকে এর আন্তরপর্বে অবস্থান করে যাপিত প্রহরের নানান প্রসঙ্গ-অনুষঙ্গ। লৌকিক ধর্মের ভিন্নতায় পার্বন-আচারেরও রয়েছে রকমফের। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। দুটি ঈদই আলাদাভাবে বহন করে ব্যাপক তাৎপর্য। বাংলাসাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের অধিকাংশ সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে মুসলিম প্রভাবমুক্ত থাকায় সঙ্গতকারণেই তখনকার সাহিত্যকর্মে মুসলিম ঐতিহ্যের রূপায়ন কম। সামাজিকভাবেও প্রচার-প্রকাশ খুব বেশি ছিল না। অবশ্য মধ্যযুগের দ্বিতীয়ার্ধে মুসলিম ঐতিহ্য ও আনন্দধারা সাহিত্য-শিল্পে স্থান করে নেয়। কিন্তু সে সময় কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনাই মুসলিম ঐতিহ্যের প্রধান ঘটনা হিশেবে পাঠকের সামনে পরিবেশিত হতে থাকে প্রবলভাবে। আধুনিককালে বিশেষত আনন্দ-উৎসব হিশেবে সাহিত্যপরিসরে এবং মানুষের ভাবনায় বিশেষভাবে স্থান দখল করে ঈদ। লৌকিক এবং পারলৌকিক আনন্দপ্রদায়ক অনুষ্ঠান এই ঈদ, আর এর অন্তরালে থাকে অপ্রকাশ বেদনার ভার। যতদূর জানা যায়, সৈয়দ এমদাদ আলীর (১৮৭৫-১৯৫৬) ‘ঈদ’ বাংলাভাষায় রচিত ঈদ-বিষয়ক প্রথম কবিতা। তাঁরই সম্পাদনায় প্রকাশিত মাসিক নবনূর পত্রিকার ঈদসংখ্যায়, ডিসেম্বর ১৯০৩-এ কবিতাটি ছাপা হয়। পরে তাঁর একমাত্র কবিতাগ্রন্থ ডালি(১৯১২)তে কবিতাটি গ্রন্থিত হয়। ঈদ যে কেবল পারলৌকিক মুক্তিলাভের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; পারস্পারিক সম্প্রীতির আবাহনভূমিও, তা কবি সৈয়দ এমদাদ আলী অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। অন্ধকার সরিয়ে সকল বিদ্বেষ-হিংসাকে দূরে ঠেলে সকালবেলাকার তরুণ সূর্য যেন আনন্দদৃশ্য জগতময় প্রসারিত করে চলেছে- এমন অনুভব তাঁর। ধর্মের অটুট বন্ধন আর সত্য-উপলব্ধির ফলশ্রুতি- প্রবল আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে এমদাদ আলীর কবিতাটিতে। তিনি লিখেছেন: ‘জ্ঞান কর্মের পূজারি হইয়া/সম্মুখে চলিলে সবে,/দীর্ঘ জীবনের জড়তার রাশি/হবে, অবসান হবে।’ রমজানের অবসান হলে আসে যে ঈদ, তা খুশির বারতা বহন করলেও প্রকৃতঅর্থে যে কাঙালের-অনাথের ক্লিষ্টতা দূর করতে পারে না- তারই চিত্রাভাস মেলে শাহাদাৎ হোসেন (১৮৯৩-১৯৫৩) -এর ‘বাংলার ঈদ’ কবিতায়। তাঁর ভাষ্য: ‘ফিৎরার খুশী কোথা তার?/কি দান সে দিবে ক্ষুধিতেরে?/নিজেই কাঙাল রিক্ত-/ভিক্ষা মাগি ফিরে দ্বারে দ্বারে।’ কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) দেখেছেন অসংখ্য মরুভূমি, বিপুল বালুচর আর অনাবিল আঁখিজল পেরিয়ে এসেছে ঈদ। যেন বিগত রাতের চাঁদের অজানা কোনো ইশারা প্রকৃতির চোখ থেকে কেড়ে নিয়েছে রাজ্যের ঘুম। চারিদিকে আনন্দ আর প্রেমের আবেগ যেন জানিয়ে দিচ্ছে- এ হলো ভালোবাসার প্রহর। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে সুখ-দুঃখের সমভাগী হয়ে অধিকার ভোগ আর দায়িত্ব পালনের মধ্যে যে প্রকৃত আনন্দ, সে শিক্ষা যেন রয়েছে ঈদের মাহাত্ম্যে। ভোগবিলাস-প্রবণতা পরিহার করে আত্মত্যাগ আর আত্ম-উৎসর্গে নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ‘কৃষকের ঈদ’ কবিতায় তিনি আঁকতে চেয়েছেন সেই কষ্টের প্রতীক, দারিদ্র্য আর অসহায়তা যার জন্মদাতা। ধার্মিকের আপাত অলীক শক্তি আর আলো বিতরণের সামাজিক চাতুর্যের প্রতি কটাক্ষ করে কবি বিরাজমান সত্যিকার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন: ‘জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নি’দ/মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ? /একটি বিন্দু দুধ নাহি পেয়ে যে খোকা মরিল তার/উঠেছে ঈদের চাঁদ হয়ে কি সে শিশু-পুঁজরের হাড়?’ অর্থাৎ অনুধাবন করতে পারা যায়, ঈদ যেমন নিয়ে আসে আনন্দ. তেমনি অন্তরালে বহন করে বেড়ায় বেদনার বহুতর ভার!

আমার পূর্বের কর্মস্থলের এক সহকর্মী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম চুন্নু প্রতিবছর গ্রামের বাড়ি যান ঈদ করতে। তার মতে- ‘শহরের ঈদ কোনো ঈদই না; এখানে কোলাকুলি করার লোক পর্যন্ত পাওয়া যায় না।’ তার ওই কথার তাৎপর্য হয়তো অনেকে বুঝবেন। যারা প্রতি ঈদে ছুটে যান আপনজনদের টানে, তাদের কাছে এই কথার একটা যুৎসই মানে আছে। হয়তো এই আবেগে বা আচরণে খানিকটা যুক্তি রয়েছে। কিন্তু যেখানে খাটে না যৌক্তিকতার মলাট! আবার, অনেক সময় এমন হয় যে, কাকতালীয় কোনো ব্যাপারে পালটে যায় জীবনের নব হিসেব-নিকেশ ও সমাচার। সামনে চলে আসে অজানা যাবতীয় জিজ্ঞাসা। যেমন ধরা যেতে পারে, মানবজীবনে আনন্দ-বেদনার এক নিরন্তর ভাষ্যকার কবি জসীম উদ্দীনের কথা। তাঁর মনে ‘তিরিশ বছর’ নামক এক অবোধ্য শব্দমালা খেলা করছিল। তিনি তাই লিখে বসলেন: ‘এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে/তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে’। তারপর তিনি মারা গেলেন ১৯৭৬ সালে। আর নিজগ্রামে তাম্বুলখানায় তাঁর কবরের পাশে টানা তিরিশ বছর কেঁদেকুটে, চোখের অপার জল ফেলে, অবশেষে ২০০৬ সালে পরপারে পাড়ি জমালেন কবির পত্নী। আবার, অনেকেরই হয়তো জানা আছে যে, হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় সময় ছিল ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’। কী এক দুর্বোধ্য কিংবা অব্যাখ্যেয় কারণে এই ভালোলাগা-প্রার্থিত কালে এই লোকটি পৃথিবীর নিবিড় কোলে চিরতরে ঠাঁই নিলেন। কী সব দারুণ সত্যই না ঘটে চলেছে এই পৃথিবীতে আমাদের অজান্তে! প্রসঙ্গত ব্যক্তিগত একটি অনুষঙ্গের কথা টানছি- গতবছর ১৩ আগস্ট দুপুরে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক পড়াচ্ছি, ঠিক ওই সময়ে মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মুনীর চৌধুরীর ছেলে মিশুক মুনীর এবং তাঁর সহযাত্রী প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ (ক্লাস থেকে বেরিয়ে অনলাইন সংবাদপত্র থেকে খবরটা জেনেছি)। কে জানতো ‘বাবার লেখা কবর’ যখন পড়ানো হচ্ছে একটি ক্লাসে, ঠিক তখনই মিশুকের ‘কবর’ তৈরি হতে চলেছে! এর নাম কি নিয়তি? এইসব কি কাকতালীয় ব্যাপারের উদাহরণ? ঘটনাটা হয়তো আপনাদের কাছে সামান্য। কিন্তু আমার অনুভবে বেশ বেদনার। কেন এমন হলো? এসবের কিছুই আমাদের জানা নেই। কেবল লাচ্চা-সেমাই খেতে লক্ষ লক্ষ মানুষ কেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি অভিমুখে রওয়ানা দেয়, দুদিন বাদেই আবার স্রোতের মতো হু হু করে আগের জায়গায় ফিরে আসে?- এমন জিজ্ঞাসা আমার মনে ছিল। এভাবেই ঈদে বাড়ি-যাওয়ার কোলাহল ও কষ্টকে প্রায় ১৫ বছর ধরে বর্ণনা করে আসছিলাম আমি। আমার এক ছাত্রী আরিফা (পরিবারপ্রদত্ত নাম আরেফা; কিন্তু আরিফা শুনতে না-কি তার খারাপ লাগে না) গত বছর ঈদের ছয়দিন আগে বিনয়ের সাথে জানালো তার বাবা আমার এই চিন্তার সাথে না-কি একমত। কিন্তু বুড়ো দাদা (বাবার বাবা) বগুড়ায় গ্রামে নিজের বাড়িতে থাকেন। তাই আরিফার বাবাকে ঢাকা ছেড়ে প্রতিবছর পিতার জন্য ঈদে গ্রামের বাড়ি যেতে হয়। কী অবাক কাণ্ড, তার পরদিন (২৫ আগস্ট; ২৪ রমজান) দুপুরে আমার বাবা নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন! কাজেই, অ্যাকসিডেন্টের সংবাদ পাবার পরপরই, আমাকে ছুটতে হলো নাটোরে গ্রামের (অবশ্য শহরতলীতে) বাড়ি- ঈদের আনন্দ নিয়ে নয়- প্রিয় পিতাজির মুখটি শেষবারের মতো দেখে নিতে আর নামাজে জানাজা, খাটিয়ার ভার ও কবরের কাছে দাঁড়িয়ে কান্নার কষ্ট কাঁধে নেবার জন্য। তার মৃত্যুর পর এখন আমি তৃতীয় ঈদের আনন্দের (সত্যিই আনন্দের কি?) বারান্দায় দাঁড়িয়ে! মাঝে মধ্যে আমার বাবার কণ্ঠস্বর যেন কানের কাছে ভেসে বেড়ায়: ‘কবে তোমার ইউনিভার্সিটি ছুটি হবে? বৌমা ভালো আছে, সৌভিক-শ্রেয়সী? সবাইকে নিয়ে বাড়ি চলে এসো। মনে করে আগে থেকে টিকিট করে রেখো।’

শৈশবেও দেখেছি, এখনও দেখছি- ঈদের নামাজের পর ময়দানে পরিচিত ও কাছের মানুষের সাথে (কিছু যে অপরিচিত থাকে না, ঠিক সেরকম নয়) প্রয়োজনীয় কোলাকুলি সেরে একদল মানুষ গোরস্থানের দিকে হাঁটতে থাকেন। বেলুন-পটকা-চুড়ি-ফিতার দোকান পেরিয়ে, খুরমা-মুড়কি আর ‘চিনির হাতি’ কতক হাতে নিয়ে কিংবা নরম হাতে পকেটে পুরে নিকটজনদের (যারা এখন সত্যিসত্যি সবচেয়ে দূরে) কবর জিয়ারত করেন। তারপর বাড়ি ফেরেন। এবাড়ি-ওবাড়ি সেমাই-রুটি, পোলাও-কোর্মা খেয়ে আনন্দের অবসান আর বেদনার প্রবল যাতনা বুকে নিয়ে, অবশেষে ছুটি ফুরালে, ফিরে আসেন কর্মস্থলের দিকে- নিজের বসস্থানের দিকে। প্রিয়জনদের মমতা ছেড়ে দূরে যেতে বড় অনিচ্ছা যেন মনের মধ্যে কেঁদে কেঁদে ফেরে। কাজেই ঈদ কেবল আনন্দ নয়, ভেতরে ভেতরে বেদনাকেও ধারণ করে চলেছে অবিরত। এখন কেবলি ভাবি- আমাদের প্রত্যেকের অজান্তে ব্যক্তির বুকের কিনারে কিংবা পরিবারের পরম পাটাতনে চুপটি মেরে লুকিয়ে আছে আনন্দ-বেদনার কত বলা ও না-বলা কথামালা!

লেখক: বেতার সংবাদ পাঠক, কলাম লেখক, শিল্প-সাহিত্য বিশ্লেষক এবং সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৫ ঘণ্টা, ১৭ আগস্ট, ২০১২
সম্পাদনা: এম জে ফেরদৌস, নিউজরুম এডিটর


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪ ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক) corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন       একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান       কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত