banglanews24.com Logo

পদ্মাসেতু না হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী দায়ী: খালেদা

30 Jun 2012   08:08:00 PM   Saturday BdST

রমেন দাশগুপ্ত ও মো. মহিউদ্দিন
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: পদ্মাসেতু না হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে দায়ী করেছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, “সরকার জনগণের কাছে ওয়াদা করেছিল, পদ্মাসেতু করবে। কিন্তু পদ্মাসেতুর কাজ শুরু হওয়ার আগেই ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, ব্যাপক কমিশন খাওয়া হয়েছে। এসব দুর্নীতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা জড়িত। সুতরাং পদ্মাসেতু না হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবার এবং সরকার দায়ী।”

শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় স্বাধীনতা পার্কের ভেতর সাম্প্রতিক পাহাড় ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, “কানাডা থেকে মানুষ এসেছে পদ্মাসেতুতে দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করতে। কানাডা বলছে, দুর্নীতি হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বলেছে, দুর্নীতি হয়েছে। অথচ সরকার বলছে দুর্নীতি হয়নি।”

তিনি বলেন, “ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সরকারকে বলেছে, যেসব মন্ত্রী দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের সরান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করেছেন। এখন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বলছে তারা আর টাকা দেবে না।”

খালেদা জিয়া বলেন, “সরকার যতই বলুক, এ সরকারের আমলে আর পদ্মা সেতু হবে না।”

আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দু’টি পদ্মা সেতু বানানোর ঘোষণা দিয়ে খালেদা বলেন, “মাওয়া এবং দৌলতদিয়া দিয়ে দু’টি পদ্মাসেতু আমরা করব। আমাদের টাকা পেতে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ বিদেশি সংস্থাগুলো জানে, আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ করি। আমাদের আমলে আমরা বিদেশিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অনেক সেতু করেছি।”

দুদককে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, “দুদক সরকারের কথায় চলে। এজন্য পদ্মা সেতুতে কানাডা, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক দুর্নীতি হয়েছে বললেও দুদক বলেছে, দুর্নীতি হয়নি।”

দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না উল্লেখ করে জিয়া বলেন, “বিএনপির আমলে আন্দোলন করে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করেছিল। এখন ভরাডুবি নিশ্চিত জেনে তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাইছে না। কিন্তু নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোন নির্বাচনে বিএনপি যাবে না, কোন নির্বাচন হতেও দেবে না।”

তিনি বলেন, “সরকার বলছে সংবিধানে প্রভিশান নেই বলে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানছে না। কিন্তু ৯৫-৯৬ সালেও তো সংবিধানে প্রভিশন ছিল না। তখন কেন তারা জ্বালাও, পোড়াও, লগি, বৈঠার আন্দোলন করেছিল?”

তিনি বলেন, “সরকার ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দু’ভাগ করে প্রশাসক বসিয়েছে। সেখানে যদি প্রশাসকের অধীনে নির্বাচন হতে পারে, তাহলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কেন নির্বাচন হতে পারবে না? আসলে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। কারণ তারা জানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে তাদের ভরাডুবি হবে।”

তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যতই জেলজুলুম, নির্যাতনের ভয় দেখান না কেন, জনগণ নতি স্বীকার করবে না। সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনের মুখে আপনাদের বিদায় নিতে হবে।”

সর্বস্তরের জনগণকে আন্দোলনে শরীক হবার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “রোজার পর, ঈদের পর আন্দোলন করব। সেই আন্দোলনে মা-বোন, ভাই সবাই আপনারা শরিক হবেন। না হলে দেশ বাঁচবে না। মা-বোনেরা চোখের পানি মুছে সামনের দিকে এগিয়ে যান।”

গুম, খুনের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রতিনিয়ত যুবকদের গুম ও হত্যা করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর একই কায়দায় ৪০ হাজার যুবককে গুম করে খুন করা হয়েছিল। তাই যদি বাঁচতে চান, মায়েরা যদি তাদের সন্তানদের বাঁচাতে চান, তাহলে আন্দোলনের বিকল্প নেই।”

খালেদা জিয়া বলেন, “এ সরকার সারাদেশের বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। দুর্গত মানুষের জন্য সরকারের যে দায়িত্ব ছিল, সে দায়িত্ব পালনে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এ সরকার শুধু ব্যস্ত আছে লুটপাটে আর দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে।”

তিনি বলেন, “সরকার মানুষকে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি কিছুই দিতে পারছে না। জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক। মানুষের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। মানুষকে দেওয়া কোন ওয়াদা এ সরকার পূরণ করছে না।”

চট্টগ্রাম থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সুদিনে, দুর্দিনে সবসময় বিএনপি চট্টগ্রামবাসীর পাশে থাকবে। চট্টগ্রামের যত উন্নয়ন তা বিএনপি করেছে। চট্টগ্রামের উন্নয়নের বন্ধু বিএনপি।”

তিনি চট্টগ্রামের জনসাধারণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামের অসমাপ্ত সব উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করবে। আপনারা যেভাবে বিএনপি থেকে মেয়র নির্বাচিত করেছেন সেভাবে আগামী নির্বাচনে বিএনপির পাশে থাকবেন।”

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে মঞ্চে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এম কে আনোয়ার, সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, বেগম সেলিমা রহমান, এম মোর্শেদ খান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু, সাংসদ জাফরুল ইসলাম চৌধুরীসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

খালেদা জিয়া স্বাধীনতা পার্কে তিন হাজার দুঃস্থ মানুষের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি বিতরণ করেন। এর আগে তিনি নগরীর লালখানবাজার এলাকায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের পক্ষ থেকে পাঁচশ মানুষের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি ও চাল বিতরণ করেন।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে খালেদা জিয়ার রাতযাপনের কথা রয়েছে। রোববার সকালে তিনি ফেনীর উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯২০ ঘণ্টা, জুন ৩০, ২০১২
আরডিজি/এম ইউ/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪ ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক) corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন       একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান       কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত