|

একটি ব্রিজের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা
11 Oct 2012 04:58:57 AM Thursday BdST
টি. এম. মামুন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বগুড়া : বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের ঘোলঘরিয়ায় বছরের পর বছর একটি ব্রিজের অপেক্ষায় আছে ১৮ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের উদ্দ্যোগে ভাদাই নদীর উপর নির্মিত প্রায় দেড়শ’ হাত লম্বা বাঁশের সাঁকো দিয়েই পারাপার চলছে এখন।
প্রতি বছরই বাঁশের এই দুর্বল সেতুটি মেরামত করে নতুন পাকা ব্রিজের স্বপ্ন দেখে এলাকাবাসী।
এদিকে, ব্রিজটি না থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করতে বিড়ম্বনাসহ যাতায়াতে অধিক ভাড়া গুণতে হচ্ছে সাধারণ ব্যাবসায়ীদের। কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই প্রতিদিন ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এসব এলাকার সাধারণ কৃষকসহ ব্যবসায়ীদের।
অন্যদিকে, পাঁচ বছর পর পর জনপ্রতিনিধি বদলায়, ভাঙ্গা বাঁশের সাঁকোটি তেমনই পড়ে থাকে। শুধু জনপ্রতিনিধিদের মুখরোচক প্রতিশ্রুতির ধরন বদলায় মাত্র। সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আসে যায়, কিন্তু অবস্থা সেই আগের মতোই থেকে যায়।
সাঁকো দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অভিযোগ করে বাংলানিউজকে জানান, জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলা ও নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা সংলগ্ন এই স্থানটি বরাবরই জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবহেলিত হয়ে রয়েছে। এখানে একটি স্থায়ী পাকা ব্রিজের দাবি অনেক পুরোনো হলেও ভোটের আগে প্রার্থীরা এটাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে নির্বাচন করে। আর নির্বাচনে জয়লাভ করার পর তারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়।
এলাকাবাসী জানায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কেই তাদের কথা রাখেন না। অথচ ভোটের আগে এই সেতুকে পুঁজি করে ফায়দা লোটার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। আভিযোগ রয়েছে, ভোটের আগে তারা অতিথি পাখির মতো আসেন, আবার ভোট শেষ হয়ে গেলে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই এলাকাবাসী আর কোন ধৈর্য্যরে পরীক্ষা দিতে চান না। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরবর্তীতে যে কোন ভোট দেওয়া থেকে তারা বিরত থাকবেন।
এলাকার ফুলচাঁদ, আব্দুর রহিম, তবিবর রহমান ও মোতালেব আলীসহ অন্যরা জানান, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার ব্যাবসায়ী থেকে শুরু করে চাকুরীজীবী, রিকশা-ভ্যান, মোটরসাইকেল চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ এই সাঁকোর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু সাঁকোটি বর্ষা মৌসুমে প্রায় ২ মাস সময় চলাচলের অনুপোযোগী হলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয় তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিতে।
তারা জানান, সেতুর পূর্বে নাটোর জেলার সিংড়া থানার বনকুড়াইল বাজার ও স্কুল। পশ্চিমে ঘোলঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজার ও জামাইল হাট এবং জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার মুকন্দপুর বাজার। শেরপুরের জামাইল বাজার কাছাকাছি হওয়ায় শেরপুরের সীমলা, কচুয়াপাড়া, শাহানগর, শুকানগাড়ী, সাতকানিয়া, শকুনিয়া ও সিংড়ার জয়কুড়ি, বাগনী, নিচঙ্গপুর, বনকুড়াইল, নন্দীগ্রামের মুকুন্দপুরসহ ১৮ টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সহজ পথ এই বাঁশের সাঁকো। তা না হলে প্রায় ৮/১০ কিলোমিটার ঘুরে বাজার-হাট করতে হয়।
বিশালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাজাহান আলী ভাদাই নদীর উপর উল্লেখিত স্থানে সাঁকোর স্থলে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন উল্লেখ করে বাংলানিউজকে জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় ব্রিজটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট প্রায় সবারই অনীহা দেখা গেছে। তবে সবার আগে প্রয়োজন চলাচলের উপযোগী উভয় পাশের সংযোগ সড়ক।
তিনি দাবি করেন, সংযোগ সড়ক নেই বলে জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজটি নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেন না। তবে তার ক্ষমতার মধ্যে থাকলে অবশ্যই তিনি ব্রিজসহ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতেন বলেও দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, যেহেতু ঘোলঘড়িয়া সাঁকোর স্থলে স্থায়ী পাকা ব্রিজ নির্মাণের কোন বিকল্প নেই, সেহেতু একমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান বা স্থানীয় সংসদ সদস্যই পারেন এলাকাবাসীকে এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতে। এর আগে তৎকালীন সংশ্লিষ্ট বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হাবিবর রহমান ওয়াদা করেছেন ব্রিজটি করার।
শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী ওবায়দুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ঘোলঘড়িয়া ব্রিজটি নির্মাণ করা খুবই জরুরি। আর এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে খুব শীঘ্রই জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হাবিবর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ঘোলঘড়িয়া বাঁশের সাঁকোর ওই স্থানে ব্রিজের পাশাপাশি উভয় দিকে সংযোগ সড়ক করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এ লক্ষ্যে এরইমধ্যেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ১০, ২০১২ জেডএম
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|