banglanews24.com Logo

সাঈদীর নাম-বয়স পাল্টানো

সংসদীয় কমিটির প্রশ্নের জবাব দেবেন অভিযুক্তরা

13 Oct 2012   06:53:31 PM   Saturday BdST

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম ও বয়স পাল্টানোর ঘটনার সঙ্গে জড়িত মাদ্রাসা বোর্ডের কর্মকর্তারা রোববার সংসদীয় তদন্ত কমিটির প্রশ্নের জবাব দেবেন।

গত ৩ অক্টোবর সংসদীয় কমিটি বিধি লঙ্ঘন করে সাঈদীর নাম ও বয়স পাল্টানোর বিষয়ে জানতে চান। ওই বৈঠকে মাদ্রাসা বোর্ডের জড়িত কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে জানেন না। পরবর্তী সময়ে লিখিত আকারে এর জবাব দিতে পারবেন তারা।

সংসদীয় কমিটি আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য বলেন।

রোববার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উপ-কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ আগস্ট সাঈদীর নাম ও বয়স পাল্টানোর বিষয় খতিয়ে দেখতে এ উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক হুইপ আব্দুল ওহাব সভাপত্বি করেন। কমিটির সদস্য মো. শাহ আলম এবং বীরেন শিকদার। নাম ও বয়স পাল্টানোর ঘটনায় কারা জড়িত এবং কেন এটি করা হয়েছে-এ দুটি বিষয় কমিটি তদন্ত করবে। তদন্ত কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দিচ্ছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ফাহিমা খাতুন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম ফারুক।

১৪ অক্টোবর কমিটির বৈঠকে নাম ও বয়স সংশোধন সংক্রান্ত তৎকালীন কমিটির সদস্য সাবেক মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউসূফ (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), মাদ্রাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হাফিজুর রহমান (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবদুর নূর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের অধ্যাপক রুহুল আমিন (বর্তমানে এই পদে আসীন),  যশোর বাঘারপাড়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. হায়দার আলী (বর্তমানে এই পদে আসীন), সিভিল সার্জন ঢাকার প্রতিনিধি ডা. সাইফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কলসদর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম (বর্তমানে এই পদে আসীন), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের সাবেক সহকারী পরিচালক একেএম রেজাউল করিম (বর্তমানে প্রাইমারি স্কুল ফিডিং পোগ্রামের সহকারী প্রকল্প পরিচালক) ও মাদ্রসা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবু ছালেহ আহমেদ (বর্তমানে এই পদে আসীন) উপস্থিত ছিলেন।

সংসদীয় কমিটি নাম ও বয়স সংশোধন সংক্রান্ত তৎকালীন কমিটির সদস্যদের কাছে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চান।

প্রসঙ্গত সংসদীয় কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা ও কারিগরি) মোহাম্মদ আতোয়ার রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান ফাহিমা খাতুন ও আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মো. সিরাজুল ইসলাম গত ২৬ সেপ্টেম্বর মাদ্রসা শিক্ষা বোর্ড পরিদর্শন করেন। ওই পরিদর্শনের পর কমিটির কাছে তারা একটি প্রতিবেদন জমা দেন।

ওই প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে ডুপ্লিকেট সনদ দেওয়া হলেও এর জন্য জন্য কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। দাখিল পরীক্ষায় তার নাম ছিলো মোস্তফা দেলোয়ার হোসেন, আলিমে ছিলো আবু নাঈম মো. দেলাওয়ার হোসাইন। পরে তা পরিবর্তন করে হয় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।

নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন পত্রে আবেদনকারীর (সাঈদী) স্বাক্ষরে ভিন্নতা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিটির কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাখিল পরীক্ষার ৫১ বছর পর এবং আলিম পরীক্ষার ৪৮ বছর পর নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন নীতিমালা পরিপন্থী। আবেদন গ্রহণও একটি নজিরবিহীন ঘটনা। দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় দুটি ভিন্ন নাম সত্ত্বেও কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়নি। আবেদনে অভিভাবকের মাধ্যমে এফিডেফিট করার বিধান থাকলেও তা করা হয়নি।

দেখা গেছে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ২০০৮ সালের ৯ নভেম্বর আবেদন করেন। মাদ্রাসা বোর্ড পরের দিন তার নাম ও বয়স সংশোধন করে। অথচ বয়স ও নাম সংশোধন কমিটির ৫ অক্টোবর, ৬ নভেম্বর ও ৯ নভেম্বর তারিখের বৈঠকের আলোচন্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত ছিলো।

তাছাড়া দাখিল পরীক্ষা অনুযায়ী সাঈদীর জন্ম তারিখ ছিলো ১/০৩/১৯৪৭। যা সংশোধন করা হয়নি। কিন্তু পরে পাসপোর্টে দেওয়া জন্ম তারিখের ভিত্তিতে বয়স সংশোধন করা হয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যানের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন আমলা ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদারেছিনের কয়েকজন নেতা সাঈদীর পক্ষে কাজ করেছেন বলে কমিটির কাছে অভিযোগ রয়েছে।
 
সাঈদীর দশ বছর বয়সে দাখিল পাস ও পাস করার ৫১ বছর পর নাম ও বয়স পাল্টানোর খবরটি বাংলানিউজসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। পরে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষাসচিব মাদরাসা বোর্ডের কাছে প্রকাশিত খবরটির বিষয়ে যাবতীয় কাগজপত্র তলব করে।
 
প্রসঙ্গত, পাবলিক পরীক্ষার আইন অনুযায়ী পাস করার দুই বছরের মধ্যে একজন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর বয়স সংশোধন করা যায়। কিন্তু দেলাওয়ার হোসাঈন সাঈদী নাম ও বয়স পাল্টেছিলেন পাস করার ৫১ বছর পর।

১০ বছর বয়সে দাখিল পাস করা অসম্ভব জেনে ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বর মাত্র ৪ ঘণ্টায় সাঈদী দাখিল ও আলিম পাসের সার্টিফিকেটে নাম ও বয়স পাল্টান।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৮ ঘণ্টা, সেপ্টম্বর ১৩, ২০১২
এসএইচ/এজে; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com 

 


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪ ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক) corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন       একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান       কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত