banglanews24.com Logo

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ১

05 Oct 2012   12:08:51 PM   Friday BdST

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: টানা বৃষ্টিতে বন্দরনগরীর চট্টগ্রামের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। চকবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মানিক দেবনাথ (৩৫) নামের এক দর্জি মারা গেছেন।

সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অফিস-আদালত বন্ধ থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন কাজে বের হওয়া লোকজন। 

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বর্ষণের ফলে মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বাকলিয়া, চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, কাপাসগোলা, শুলকবহর, নাসিরাবাদ, ষোলশহর ২ নম্বর গেইট এলাকা,  আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, মোগলটুলী এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়। এ ছাড়া কোথাও কোথাও কোমর-পানি জমে যাওয়াতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল ইউসুফ বাংলানিউজকে বলেন, চকবাজারের ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় একটি বৈদ্যুতিক তার (ক্যাবল) ছিঁড়ে দর্জি মানিক দেবনাথের ওপর পড়ে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে আনা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মানিক দেবনাথের প্রতিবেশী মোহাম্মদ নাসিম বাংলানিউজকে জানান, মানিক দেবনাথ চকবাজার কাঁচাবাজার এলাকায় নিজের গুদামে যাওয়ার পথে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়লে গুরুতর আহত হন। এরপর তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান।

এ ঘটনায় মানিকের এক সহকারী আহত হন বলে জানান নাসিম।

চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাষ কর্মকর্তা শরিফুল নেওয়াজ কবির বাংলানিউজকে বলেন, ‘উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বুলেটিনে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

শরিফুল জানান, পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্দর নগরীতে বৃষ্টি শুরু হয়। মাঝখানে কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকলেও রাতের বেশিরভাগ সময় ধরে বৃষ্টি হয়েছে। ফলে শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়।

এতে নগরীর মুবাদপুর, বহদ্দারহাট, দুই নম্বর গেট এলাকায় গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। মুরাদপুরে কোমর-পানি হওয়াতে রিকশা চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে বহদ্দারহাট থেকে দুই নম্বর গেট এলাকার মূল সড়কে পানি থাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার সকালে বিভিন্ন কাজে বের হওয়া নগরবাসী পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

মুরাদপুরে কোমরপানি হওয়াতে উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লোকজনও দুর্ভোগে পড়েছেন। মূলত এসব এলাকায় যাওয়ার জন্য মুরাদপুর থেকেই বিভিন্ন ধরনের গাড়িতে উঠতে হয়।

স্টেশনে অপেক্ষমাণ ফটিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা আবু সাইদ বলেন, বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। কিন্তু এখানে কোনো গাড়ি নেই। রাস্তায় যে পরিমাণ পানি হয়েছে তাতে বাসায় যেতে পারব কি না বুঝতে পারছি না।  

যানচলাচল বন্ধ থাকায় রিকশা করে যাতায়াত করছেন অনেকে। এ সুযোগে নির্দিষ্ট ভাড়ার চেয়ে তিন গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন রিকশাচালকেরা।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, মুরাদপুর থেকে কাজীর দেউড়ি এলাকার ভাড়া ৩০ টাকা হলেও ৮০ টাকা হাঁকছেন রিকশাচালকেরা।

নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নুরুল আবরার বাংলানিউজকে বলেন, সারারাত বৃষ্টির কারণে সকাল থেকেই রাস্তায় পানি জমে গেছে। পানির জন্য বের হতে পারছি না।

নগরীর বাকলিয়া রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তীচ্ছু আনিকা ইখতিয়ার বাংলানিউজকে বলেন, বৃষ্টির কারণে এলাকার সব রাস্তায় পানি উঠে গেছে। বাসা থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না।

শুক্রবার সকালে কোচিং এ মডেল টেস্ট পরীক্ষা থাকলেও অংশ নিতে পারেননি বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এসময় পথচারীসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. মানিক বাংলানিউজকে জানান, পানি নিষ্কাশনের পথগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার জন্য তিনি সিটি করপোরেশনকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন স্থানী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াতে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন হচ্ছে না।’

আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শরিফুল জানিয়েছেন, ‘শুক্রবার চট্টগ্রামসহ এর আশেপাশের এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।’


বাংলাদেশ সময়: ১২০৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৫, ২০১২

এমইউ, সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪ ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক) corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন       একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান       কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত