banglanews24.com Logo

রোজাদারের বুকে ঈদের খুশি

20 Aug 2012   06:54:04 AM   Monday BdST

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর রোজাদারের জন্য ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে, খুশির জোয়ার নিয়ে। আসে পরম সুখ, অনাবিল শান্তি ও সম্প্রীতির পয়গাম নিয়ে। এ দিনে মহান আল্লাহ প্রিয় বান্দাকে পুরষ্কার দেন। এক মাস কষ্ট করে সংযম সাধনার পর তাকে উপযুক্ত উপহার দেন, যথাযথ পারিশ্রমিক দেন।

করুণাময় আল্লাহ আদরের বান্দাকে কাছে টেনে নেন, তাকে ক্ষমা উপহার দেন, সব গুনাহ মাফ করে দেন। গুনাহগুলোকে নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দেন। মহান পালনকর্তা ফেরেশতাদের কাছে এই বান্দাকে নিয়ে অহঙ্কার করেন।

ঈদ ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ছোট-বড় সবার মাঝে আনন্দের বৃষ্টি বর্ষণ করে। তবে ঈদের খুশি প্রকৃতপক্ষে তাদের জন্য যারা পুরো রমজান মাস রোজা রেখেছে, কষ্ট করে তারাবিহর নামাজ পড়েছে, কোরআন তেলাওয়াত করেছে, একমাত্র আল্লাহর ভয়ে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোজা ভাঙেনি।

আর যারা রোজা রাখেনি, ইবাদত-বন্দেগীতে গাফেল ছিল, তাদের  জন্য ঈদের খুশি যথাযথ নয়। কারণ, তাদের মহান আল্লাহ ক্ষমা করেন না। গুনাহ মাফ করেন না। গুনাহগুলো নেকি দ্বারা পরিবর্তন করা হয় না। তাই খুশির ঈদে তাদের মানায় না।

রোজাদারের জন্য ঈদের আনন্দের বিষয়টি হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। প্রিয় নবীজি (সা.) এর প্রিয় সাহাবী  হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) বলেন, “শবে কদরে জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের একটি জামাতসহ অবতরণ করেন। যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে, বসে আল্লাহর জিকির করতে থাকে বা ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকে তার জন্য রহমতের দোয়া করেন। অতপর যখন ঈদুল ফিতরের দিন আসে তখন আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের সামনে বান্দাদের এবাদত বন্দেগী নিয়ে গর্ব করেন। কারণ, ফেরেশতারা মানুষকে দোষারোপ করেছিল (অর্থাr

পৃথিবীতে মানুষ প্রেরণকালে আপত্তি জানিয়েছিল) অতপর আল্লাহ তায়ালা জিজ্ঞাসা করেন, হে ফেরেশতারা! যে মজদুর নিজ দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করে তার বদলা কি হতে পারে? ফেরেশতারা আরজ করেন, হে আমাদের রব! তার বদলা এই যে, তার পারিশ্রমিক তাকে পরিপূর্ণ দিয়ে দেওয়া হোক। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, হে ফেরেশতারা! আমার বান্দা বান্দিরা আমার ফরজ হুকুম (রমযান মাসের রোজা) পালন করেছে। এরপর তারা ঈদগাহের দিকে যাচ্ছে। আমার ইজ্জতের কসম, আমার প্রতাপের কসম, আমার দানশীলতার কসম, আমার বড়ত্বের কসম, আমার সুউচ্চ মর্যাদার কসম! আমি তাদের দোয়া অবশ্যই কবুল করবো। তারপর আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের প্রতি লক্ষ করে বলেন, যাও! আমি তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দিলাম এবং তোমাদের গুনাহগুলোকে নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দিলাম। অতপর তারা ঈদগাহ হতে নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে”| বায়হাকী।

এই হাদিস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রোজাদারের জন্যই কেবল ঈদের খুশি মানানসই। কারণ, তার খুশির জন্যই পবিত্র ঈদ এসেছে। তাই আমাদের মধ্যে যারা রোজা রেখেছে, তারাবিহর নামাজ পড়েছে, কোরআন তেলাওয়াত করেছে, তাদের উচিত ঈদের খুশি উদযাপন করা, আনন্দ উপভোগ করা। আর অন্যদেরও ঈদের আনন্দে শরীক করা। মহান আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন। আমীন।  

লেখক- খতীব, মোল্লাপাড়া জামে মসজিদ, দক্ষিণখান, ঢাকা


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪ ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক) corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন       একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান       কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত