|

হজ: কখন কোথায় কিভাবে কি করবেন
27 Sep 2012 05:36:01 PM Thursday BdST
মোহাম্মদ আল-আমীন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
অনেকে আছেন যাদের হজের সময় কখন, কোথায়, কিভাবে, কি করতে হবে সে ব্যাপারে যথেষ্ট জ্ঞান নেই। ফলে তাদের হজ সঠিকভাবে পালিত না হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাদের উদ্দেশে এই লেখা।
তাওয়াফ করা ফরজ: মসজিদুল হারামে প্রবেশের সুন্নাতের প্রতি লক্ষ রেখে তাওয়াফের স্থানে প্রবেশ করবেন। এরপর তাওয়াফের স্থানে পৌঁছেই তালবিয়াহ বন্ধ করে দিবেন। হাজরে আসওয়াদের (কালো পাথর) দাগের বাঁয়ে দাঁড়িয়ে প্রথমে উমরার তাওয়াফের নিয়ত করবেন। তারপর দাগের উপর এসে হাজরে আসওয়াদকে সামনে করে তাকবীরে তাহরীমার মত হাত তুলতে হবে এবং তাকবীর বলতে হবে। অতঃপর হাত ছেড়ে দিতে হবে। এরপর ইশারার মাধ্যমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করবেন। অতঃপর পূর্ণ তাওয়াফে ইযতিবা ও প্রথম ৩ চক্করে রমল সহকারে উমরার ৭ চক্কর সম্পন্ন করবেন। প্রত্যেক চক্কর শেষে শুরুর দাগে এসে হাজরে আসওয়াদকে ইশারার মাধ্যমে চুম্বন করবেন। তাওয়াফ শেষে সম্ভব হলে কাউকে কষ্ট না দিয়ে মুলতাযামে হাযিরী দিয়ে দু’আ করবেন, তারপর মাতাফের কিনারায় গিয়ে মাকামে ইবরাহীমকে সামনে রেখে বা যেখানে সহজ হয় ওয়াজিবুত তাওয়াফ দু’রাকাত নামাজ আদায় করবেন। এরপর জমজম কূপের পানি পান করবেন।
সায়ী করা ওয়াজিব: এরপর সাফা-মারওয়া এর সায়ী করার উদ্দেশে হাজরে আসওয়াদকে ইশারার মাধ্যমে চুম্বন করে বাবুস সাফা দিয়ে বের হয়ে সাফা পাহাড়ে কিছুটা উপরে চড়বেন এবং বাইতুল্লাহ মুখী হয়ে দু’আ করে মারওয়া পাহাড়ের দিকে চলবেন। মারওয়াতে পৌঁছালে একবার সওত হয়ে গেল। এভাবে সাত সওত অর্থাত, ৭ বার সায়ী সম্পন্ন করবেন।
মারওয়ায় কিছুটা উপরে চড়ে বাইতুল্লাহ মুখী হয়ে দু’আ করে সাফার দিকে চলবেন। প্রত্যেক বার সাফা মারওয়াতে বাইতুল্লাহ মুখী হয়ে দু’আ করবেন এবং প্রতিবার পুরুষরা বাতিদ্বয়ের মাঝে দ্রুত চলবেন। সায়ীর পর ২ রাকাআত নফল নামাজ পড়বেন। এবার সায়ী সম্পূর্ণ হল।
হালাল হওয়া ওয়াজিব: এরপর মাথা মুণ্ডন করে বা চুল ছোট করে হালাল হতে হবে। এখন আপনার উমরার কাজ সম্পূর্ণ হলো।
হজে ইফরাদ পালনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
ইহরাম বাঁধা ফরজ: হজে ইফরাদ পালনকারী হজের মাস সমূহে মীকাতে পৌঁছে বা তার আগেই) বাংলাদেশি হাজীদের জন্য বাড়ি বা ঢাকা থেকে (হাজামাত (ক্ষৌরকার্য ইত্যাদি সমাপ্ত করে গোসল করে বা কমপক্ষে ওজু করে ইহরামের কাপড় পড়িধান করে টুপি পরে দুরাকাআত ইহরামের নামায আদায় করতে হবে। নামায শেষে টুপি খুলে হজের নিয়ত করতে হবে। নিয়ত শেষে অন্তত তিন বার আওয়াজ করে তালবিয়াহ পাঠ করবেন। ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজসমূহ থেকে বেঁচে থাকবেন।
৮ই জিলহজে করণীয়:
৮ই জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনা অভিমূখে রওনা হওয়া সুন্নত। ওই দিন মিনায় গিয়ে জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা এবং রাত্রি যাপন করে পর দিন ফজরের নামাজ সেখানে আদায় করা সুন্নাত। মুআল্লিমগণ সাধারণত ৭ই জিলহজ রাতেই হাজীদের মিনার তাবুতে পৌঁছে দেয়। নতুন লোকদের জন্য আগে যাওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। ৮ তারিখ জোহরের পূর্বেই মিনায় পৌঁছাতে হবে এবং অতি সংক্ষিপ্ত জরুরি জিনিসপত্র এবং পরিধেয় কাপড় নিতে হবে। এছাড়া কয়েক দিনের খাবারের জন্য মুয়াল্লিমের কাছে টাকা জমা দেওয়াটাই সহজ উপায়। আর মিনাতেও কিনে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
৯ই জিলহজে করণীয়: উকূফে আরাফা ফরজ: ওইদিন ফজরের নামাজ যথা সময়ে আদায় করে পুরুষরা আওয়াজ করে এবংনারীরা নীরবে ১ বার) তাকবীরে তাশরীফ পড়ে নেবেন। নাস্তা ইত্যাদি শেষে সূর্য ওঠার পর তালবিয়া পড়তে পড়তে আরাফা অভিমুখে রওনা হতে হবে। আরাফায় পৌঁছে মুয়াল্লিমের তাবুতে উকুফ করতে হবে, তাবুতে না থাকলে আরাফায় নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে অবস্থান করবেন।
সংক্ষেপে উকুফের পদ্ধতি: এই ময়দানে পৌঁছে সেখানে আউয়াল ওয়াক্তে (প্রথম সময়) জোহরের নামায পড়ে দাঁড়িয়ে, আর কষ্ট হলে বসে দু’আ-কালাম-তাসবীহ-তাহলীল পড়তে থাকবেন। তারপর হানাফী মাযহাব মতে আসরের সময় হলে আসর নামায পড়ে সূর্য সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়া পযন্ত পূর্বের নিয়মে দু’আ ও যিকিরে মশগুল থাকবেন। অন্য আযান শুনে কোনো অবস্থায় আসরের ওয়াক্তের পূর্বে আসর পড়বেন না। আরাফার ময়দানে এই অবস্থানকে ‘উকুফে আরাফা’ বলা হয়। সূর্য সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়ার পর এখানে বা রাস্তায় মাগরিব না পড়ে তালবিয়াহ পড়তে পড়তে মুআল্লিমের গাড়িতে করে মুযদালিফায় রওনা হবে যাবেন।
মুযদালিফায় রাতে অবস্থান করা ওয়াজিব: মুযদালিফা ময়দানে পৌঁছে এশার ওয়াক্ত হওয়ার পর এক আযান ও এক ইকামতে প্রথমে মাগরিব ও পরে এশার ফরজ নামাজ আদায় করতে হবে। তারপর সুন্নত, নফল ও বিতর পড়বেন। অতঃপর মুযদালিফার খোলা ময়দানে রাতে অবস্থান করতে হবে। আউয়াল ওয়াক্তে(প্রথম সময়) ফজরের নামাজ পড়ে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করে তাসবিহ-তাহলীল যিকির ও দুআয় মশগুল থাকবেন। এ সময় অবস্থান করাকে “উকুফে মুযদালিফা” বলে। এখান থেকে ৪ টি পাথর কণা সঙ্গে নিবেন। মুয়াল্লিমদের বলে রাখলে তারাই পাথর সংগ্রহ করে দেবেন। সূর্য ওঠার কিছুক্ষণ পূর্বেই তালবিয়া পড়তে পড়তে মিনার উদ্দেশে পায়ে হেঁটে রওনা হয়ে যাবেন।
১০ই জিলহজ করণীয়: রমী করা জামরায়ে উকবা তথা বড় শয়তানকে কংকর মারা ওয়াজিব: মিনায় পৌঁছে জরুরি কাজ সেরে এই দিন শুধুমাত্র জামরায়ে উকবায় তথা বড় শয়তানের স্থানে রমী করার জন্য ভীড় আজকাল সাধারণত আসরের নামাজের পূর্বে ভীড় কমে না। এজন্য আউয়াল ওয়াক্তে আসর পড়ে বা প্রয়োজনে আরো পরে বড় শয়তানের বেষ্টনির মধ্যে ৭টি কংকর নিক্ষেপ করবেন। এইটাকেই রমী করা বলা হয়। উল্লেখ্য, ১০ই জিলহজ বড় শয়তানের কাছে পৌঁছে প্রথম কংকর নিক্ষেপের পূর্বক্ষণেই তালবিয়া পড়া বন্ধ করে দিবেন। কোরবানী করা মুস্তহাব: রমী শেষে সময় থাকলে এদিন অন্যথায় পরের দিন পশু বাজারে গিয়ে বা আমানতদার কাউকে পাঠিয়ে কোরবানী করবেন। এখানে আল রাজীসহ অনেক ব্যাংক রয়েছে যারা কোরবানীর টাকা সংগ্রহ করে এবং তারা ওই হাজীর পক্ষে কোরবানী সম্পূর্ণ করে। হজে ইফরাদ পালনকারীর জন্য কোরবানী করা ওয়াজিব নয় বরং মুস্তাহাব। সুতরাং সামর্থ্য থাকলে কোরবানী করতে চেষ্টা করবেন। হালাল হওয়া ওয়াজিব: বড় শয়তানকে কংকর মারার পর এবং কোরবানী করলে কোরবানী শেষে মাথা মুণ্ডাতে বা চুল ছাঁটতে হবে এবং এর মাধ্যমেই মুহরিম হজের ইহরাম থেকে হালাল হয়ে গেল। হালাল হওয়ার সময় চেহারার নূর দাঁড়ী কোনোভাবেই মুণ্ডাবেন না। যাদের এখনো দাঁড়ি রাখার সৌভাগ্য হয়নি তারা আগেই এ ব্যাপারে পাক্কা নিয়ত করে নেবেন। যাতে দাঁড়ি নিয়ে রওজা শরীফ যিয়ারত করতে পারেন। তাওয়াফে যিয়ারত ফরজ ও সায়ী করা ওয়াজিব। হালাল হওয়া তথা ইহরাম মুক্ত হওয়ার পর স্বাভাবিক পোশাকে বাইতুল্লাহ গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত করা ও সাফা-মারওয়াতে সায়ী করতে হবে।
১০ থেকে ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার পূর্বে তাওয়াফে যিয়ারত সম্পূর্ণ করতে হবে। তাওয়াফে কুদূমের পরে হজের সায়ী না করে থাকলে এই তাওয়াফের পরে সাফা-মারওয়াতে সায়ী করতে হবে। সায়ী করার তরীকা উমরা এর বর্ণনায় দেখে নিন। সায়ীর পরে দুরাকাআত নামাজ পড়বেন। এরপর মিনা ফিরে আসবেন।
১১, ১২ ও ১৩ই জিলহজে করণীয়:
তিন জামরায় কংকর মারা ওয়াজিব:
১১ ও ১২ জিলহজ ভীড় থেকে বাঁচার জন্য বাদ আসর প্রথমে ছোট, পরে মাঝারী সবশেষে বড় জামরার বেষ্টনির মধ্যে ৭টি করে কংকর মারবেন। এ কয়েকদিন মিনায় রাত যাপন করা সুন্নত।
উল্লেখ্য, ১২ই জিলহজ ৩ জামরায় কংকর মেরে কেউ মক্কা চলে গেলে কোনো অসুবিধা নেই। তবে বিশেষ দরকার না থাকলে ১৩ই জিলহজ বিকেল ৩টার দিকে পর্যায়ক্রমে তিন মাজরায় কংকর মেরে মক্কায় যাওয়া উত্তম। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৩ জিলহজ কংকর মেরে মক্কা গিয়েছিলেন। ১৩ জিলহজ আসর পযন্ত তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে।
তাওয়াফে বিদা ওয়াজিব: যখন মক্কা শরীফ থেকে চলে আসার সময় হয় তখন শান্তভাবে কয়েক ঘণ্টা পূর্বে স্বাভাবিক পোশাকে বাইতুল্লাহ শরীফে এসে ৭ চক্কর তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। তারপর ওয়াজিবুত তাওয়াফ দু’রাকাত নামাজ পড়ে জমজমের পানি পান করে আবারও বাইতুল্লাহ যিয়ারতের তাওফীক লাভের জন্য মনে প্রাণে দু’আ করা অবস্থায় চলে আসবেন। একে “তাওয়াফে বিদয়া” বলা হয়। এ তাওয়াফের মধ্যে ইযতিবা ও রমল নেই এবং পরে কোনো সায়ী নেই,
উল্লেখ্য, প্রতিবার মসজিদে হারামে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সুন্নাতের প্রতি খেয়াল রাখবেন।
নারীদের হজের পার্থক্য: নারীরা স্বাভাবিক পোশাকেই ইহরাম বাঁধবেন এবং মাথা ঢেকে নেবেন।
চেহারা খোলা রাখবেননা বরং চেহারার পর্দা করবেন এবং এমনভাবে নেকাব লাগাবেন যেন চেহারার সঙ্গে কাপড় লেগে না থাকে। তালবিয়াহ নিম্ন আওয়াজে পড়বেন। তাওয়াফের মধ্যে ইযতিবা ও রমল করবেননা। সায়ীতে সবুজ বাতিদ্বয়ের মাঝে স্বাভাবিক চলবেন। চুলের আগা থেকে এক ইঞ্চি পরিমাণ কেটে হালাল হবেন। পুরুষদের থেকে পৃথক হয়ে মাতাফের কিনারা দিয়ে বা ছাদে গিয়ে তাওয়াফ করবেন। হায়েয অবস্থায় তাওয়াফ করবেন না, মক্কা শরীফে শুধু তাওয়াফের জন্য এবং মদীনা শরীফে নিদিষ্ট সময়ে শুধু রওজা যিয়ারতের জন্য মসজিদে যাবেন।
লেখক- সৌদি আরব করেসপন্ডেন্ট বাংলাদেশ সময়: ১৭১৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১২ সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা মেইল: bn24.islam@gmail.com
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|