|

মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
শামসুর রাহমানের কবিতা
17 Aug 2012 12:00:46 AM Friday BdST
শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
জীবনানন্দ পরবর্তী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম কবি শামসুর রাহমানের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী ১৭ আগস্ট। পুরনো ঢাকার মাহুতটুলিতে কবি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৯ সালের ২৪ অক্টোবর।
সাপ্তাহিক ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায় ১৯৪৮ সালে ‘ঊনিশশো ঊনপঞ্চাশ’ নামক কবিতাটির মাধ্যমে শামসুর রাহমান যাত্রা শুরু করেন। রাজনীতি সচেতন কবি শামসুর রাহমান জীবদ্দশায় বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক সংকটে তার প্রতিবাদী কবিতার শক্তি নিয়ে জনগণের লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। রাজেনৈতিক চেতনা, ধর্মান্ধতা ও স্বৈরাচার বিরোধী চেতনা, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ, মানবিক অনুভূতি প্রভৃতি শামসুর রাহমানের কবিতার প্রধান বিষয়।
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- রৌদ্র করোটি, বিধ্বস্ত নীলিমা, নিরালোকে দিব্যরথ, নিজ বাসভূমে, ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়, ইকারুসের আকাশ, উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ, অন্ধকার থেকে আলোয় প্রভৃতি। এছাড়াও শামসুর রাহমান উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশুতোষ ছড়াও লিখেছেন।
বাংলাদেশের প্রধানতম এই কবি মৃত্যুবরণ করেন ১৭ আগস্ট, ২০০৬। ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে কবি শামসুর রাহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র পাঠকদের জন্য তার কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা তুলে দেওয়া হলো।
আসাদের শার্ট
গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায়।
বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো হৃদয়ের সোনালী তন্তুর সূক্ষতায় বর্ষীয়সী জননী সে-শার্ট উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে।
ডালীম গাছের মৃদু ছায়া আর রোদ্দুর- শোভিত মায়ের উঠোন ছেড়ে এখন সে-শার্ট শহরের প্রধান সড়কে কারখানার চিমনি-চূড়োয় গমগমে এভেন্যুর আনাচে কানাচে উড়ছে, উড়ছে অবিরাম আমাদের হৃদয়ের রৌদ্র-ঝলসিত প্রতিধ্বনিময় মাঠে, চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায়।
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
নক্ষত্রপুঞ্জের মতো জলজ্বলে পতাকা উড়িয়ে আছো আমার সত্তায়। মমতা নামের প্রুত প্রদেশের শ্যামলিমা তোমাকে নিবিড় ঘিরে রয় সর্বদাই। কালো রাত পোহানোর পরের প্রহরে শিউলিশৈশবে `পাখী সব করে রব` ব`লে মদনমোহন তর্কালঙ্কার কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক। তুমি আর আমি, অবিচ্ছিন্ন পরস্পর মমতায় লীন, ঘুরেছি কাননে তাঁ নেচে নেচে, যেখানে কুসুম-কলি সবই ফোটে, জোটে অলি ঋতুর সংকেতে।
আজন্ম আমার সাথী তুমি, আমাকে স্বপ্নের সেতু দিয়েছিলে গ`ড়ে পলে পলে, তাইতো ত্রিলোক আজ সুনন্দ জাহাজ হয়ে ভেড়ে আমারই বন্দরে।
একটি কবিতার জন্য
বৃক্ষের নিকটে গিয়ে বলি; দয়াবান বৃক্ষ তুমি একটি কবিতা দিতে পারো? বৃক্ষ বলে আমার বাকল ফুঁড়ে আমার মজ্জায় যদি মিশে যেতে পারো, তবে হয়তো বা পেয়ে যাবে একটি কবিতা!
জীর্ণ দেয়ালের কানে বলি; দেয়াল আমাকে তুমি একটি কবিতা দিতে পারো? পুরোনো দেয়াল বলে শ্যাওলা-ঢাকা স্বরে, এই ইট সুরকির ভেতর যদি নিজেকে গুঁড়িয়ে দাও, তবে হয়তো বা পেয়ে যাবে একটি কবিতা!
একজন বৃদ্ধের নিকট গিয়ে বলি, নতজানু, হে প্রাচীন দয়া ক`রে দেবেন কি একটি কবিতা? স্তব্ধতার পর্দা ছিঁড়ে বেজে ওঠে প্রাজ্ঞ কণ্ঠে - যদি আমার মুখের রেখাবলী তুলে নিতে পারো নিজের মুখাবয়বে, তবে হয়তো বা পেয়ে যাবে একটি কবিতা।
কেবল কয়েক ছত্র কবিতার জন্যে এই বৃক্ষ, জরাজীর্ণ দেয়াল এবং বৃদ্ধের সম্মুখে নতজানু আমি থাকবো কতোকাল? বলো কতোকাল?
বাইবেলের কালো অক্ষরগুলো
জো, তুমি আমাকে চিনবে না। আমি তোমারই মতো একজন কালো মানুষ গলার সবচেয়ে উঁচু পর্দায় গাইছি সেতুবন্ধের গান, যে গানে তোমার দিলখোলা সুরও লাগছে।
জো, যখন ওরা তোমার চামড়ায় জ্বালা-ধরানো সপাং সপাং চাবুক মারে আর হো হো করে হেসে ওঠে, যখন ওরা বুটজুতোমোড়া পায়ে মারে তোমাকে, তখন ধূলায় মুখ থুবড়ে পড়ে মানবতা। জো, যখন ওরা তোমাকে হাত পা বেঁধে নির্জন রাস্তায় গার্বেজ ক্যানের পাশে ফেলে রাখে, তখন ক্ষ্যাপাটে অন্ধকারে ভবিষ্যৎ কাতরাতে থাকে গা` ঝাড়া দিয়ে ওঠার জন্যে। যদিও আমি তোমাকে কখনো দেখিনি জো, তবু বাইবেলের কালো অক্ষরের মতো তোমার দুফোঁটা চোখ তোমার বেদনার্ত মুখ বারংবার ভেসে ওঠে আমার হৃদয়ে, তোমার বেদনা এশিয়া, আফ্রিকা আর লাতিন আমেরিকায় ব্যাপ্ত, জো।
রাজকাহিনী
ধন্য রাজা ধন্য, দেশজোড়া তার সৈন্য!
পথে-ঘাটে-ভেড়ার পাল। চাষীর গরু, মাঝির হাল, ঘটি-বাটি, গামছা, হাঁড়ি, সাত-মহলা আছে বাড়ি, আছে হাতি, আছে ঘোড়া। কেবল পোড়া মুখে পোরার
দুমুঠো নেই অন্ন, ধন্য রাজা ধন্য।
ঢ্যাম কুড় কুড় বাজনা বাজে, পথে-ঘাটে সান্ত্রী সাজে। শোনো সবাই হুকুমনামা, ধরতে হবে রাজার ধামা। বাঁ দিকে ভাই চলতে মানা, সাজতে হবে বোবা-কানা। মস্ত রাজা হেলে দুলে যখন-তথন চড়ান শূলে
মুখটি খোলার জন্য। ধন্য রাজা ধন্য।
বাংলাদেশ সময়: ০০০৫ ঘণ্টা, ১৭ আগস্ট, ২০১২ সম্পাদনা: এম জে ফেরদৌস, নিউজরুম এডিটর
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|