|

সকল অধিকার নিশ্চিত করতেই চাই ভোটাধিকার
13 Oct 2012 02:38:51 PM Saturday BdST
রহমান মাসুদ, জাকিয়া আহমেদ, সাইদ আরমান, আদিত্য আরাফাত ও মাজেদুল নয়ন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: ভোটাধিকারকে সকল মৌলিক অধিকারের মধ্যে মুখ্য বলে মত দিয়েছেন ‘ভোটাধিকার: আইন ও রাজনীতি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার বক্তারা। তারা বলেছেন, নাগরিকের এই অধিকার নিশ্চিত করা গেলে অন্য অধিকারগুলো নিশ্চিত করা সহজতর হবে।
শনিবার বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম আয়োজিত এই অনলাইন গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও আইন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের বক্তব্যে দেশের বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, গণতন্ত্রের উত্থান পতন, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, রাজনীতির মাঠে পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়িসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
সমসাময়িক রাজনীতির সকল প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তারা ভোটাধিকার ও আইন ও রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন।
রাজনীতিতে সুপ্রিমকোর্টকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে তার সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, সুপ্রিম কোর্টেরও সময় এসেছে এসবের জবার দেওয়ার।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন কেন করা হচ্ছে না সে প্রশ্ন যেমন উঠেছে, তেমনি বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনগণের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন হচ্ছে না বলেও অভিমত উঠে এসেছে গোলটেবিলে ।
যখন যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা তাদের নিজেদের পছন্দ মতো সংবিধানকে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে ঐক্যমতে না পৌছে দেশকে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানব তৈরি করার অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে বলে আশংকা ও খেদ ব্যক্ত করেছেন কেউ কেউ।
ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতার সময় যতো ঘনিয়ে আসছে, বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংঘাতও ততোই অনিবার্য হয়ে উঠেছে---- বাংলানিউজের গোলটেবিলে শোনা গেছে এই সতর্কবাণীও। আবার ``ত্যাগী নেতা পেলে আবার আমরা দাঁড়িয়ে যেতে পারবো`` বলেও আশাবাদ ধ্বনিত হয়েছে। পরমর্শ এসেছে রাজনৈতিক ট্যালেন্ট হান্টের। গোলটেবিলে অংশ নেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ডাকসু’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মুশতাক হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান সাংসদ ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ গোলাম মাওলা রনি, সংরক্ষিত আসনের সাংসদ নাজমা আকতার, ড. তুহিন মালিক ও ব্যারিস্টার আব্দুল হালিমসহ বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক এরশাদুল আলম প্রিন্স। লাইভ ওয়েবকাস্ট পার্টনার হিসেবে ছিলো কম্পিউটার জগৎ। টানা তিন ঘণ্টা চলার পর দুপুর আড়াইটা নাগাদ গোলেটেবিল আলোচনার যবনিকা নামে।
ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম  আজকের বাংলানিউজের গোলটেবিল বৈঠকের মূল বিষয় ভোটাধিকার। রাইট টু ভোটের বিশেষ কিছু দিক আছে। এগুলো হলো রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, আইন ও সাংবিধানিক দিক। কিন্তু আমার কাছে আইন ও সাংবিধানিক বিষয় দু’টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আমাদের সংবিধানে রাইট টু ভোটকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অথচ সংবিধানে স্থান পাওয়া ১৮টি মৌলিক অধিকারে চেয়ে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এ গুরুত্বের কারণ হলো রাইট টু ভোট লঙ্ঘিত হলে রাষ্ট্রে সব মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত (অ্যাফেক্টেড) হয়।
কোনো সভ্য দেশের সরকার, আদালত, রাইট টু ভোটকে উপেক্ষা করে না। আমাদের দেশের বয়স ৪২ বছর। সংবিধানের এ উপেক্ষাকে পুঁজি করে বেশিরভাগ সময়ই সামরিক শাসন জারি ছিলো। আর এর পেছনে আছে গণমানুষের সংগ্রাম। মানুষ সামরিক শাসককে বিতাড়িত করে রাইট টু ভোট প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এসেছে। এটা আসা এজন্য জরুরি ছিলো যে, কোন সরকারই নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করেনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে সু্প্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছে তা সঠিক হয়নি। আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ই সঠিক ছিলো। এ মেজর রায় ঝামেলা ঘটাতে পারে রাইট টু ভোটের বিষয়ে। এ রায়ে হাইকোর্টের রায়ের কিছু মেজর বিষয়কে ইগনোর করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ। আবার বলা হয়েছে, আরো দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকতে পারে। এটা চরমভাবে সাংঘর্ষিক। এ রায়ের ভিত্তিতেই পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছে।
আইনমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের সবাই বলছে, আমরা সুপ্রিম কোর্টের রায়কেই বাস্তবায়ন করেছি। কিন্তু ওই রায়ে আরো দুই মেয়াদ যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকতে পারবে তা স্বীকার করেনি।
আমরা উন্নত দেশের অনেক কিছুই ফলো করি। কিন্তু কখনোই এক দেশের আইন অন্য দেশে পুরোপুরি মানা সম্ভব নয়। আমাদের দেশে নির্বাচন মানেই ডজন ডজন লাশ পড়ে থাকা। রাস্তায় মানুষকে পিটিয়ে মারা হয়। নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি শক্তিশালী বা স্বাধীন নয়। এ অবস্থায় রাইট টু ভোট কি তা ভাবার বিষয়। এবং আমরা কিভাবে এ অধিকার অর্জন করতে পারি সেটাই আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
ড. তুহিন মালিক ৩ মাসে নির্বাচন কমিশনের ঘাম ছুটে যায় ক্ষমতাসীনদের নকশা ভেস্তে দিয়ে নির্বাচন করতে। ক্ষমতা কেউ এমনি দিতে চায় না। আজ কেয়ারটেকার সরকার বিএনপিকে স্যুট করছে বলে কেয়ারটেকার ভালো। আমার পক্ষে যে অংশ যাবে সেটা ভালো, বাকিটা খারাপ। এই হচ্ছে আমাদের মানসিকতা।
সুপ্রিমকোর্টের কাঁধে বন্দুক রেখে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, কোর্টেরও সময় এসেছে তার জবার দেওয়ার। এখন সুপ্রিমকোর্টও রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজনীতি যদি বিচারব্যবস্থাকে ধবংস করতে চায় তাহলে সুপ্রিম কোর্টের পাল্টা জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন এ আইনজীবী।
যান্ত্রিকভাবে আমরা দেশ, প্রশাসন ও সরকার চালাচ্ছি। যান্ত্রিকতার বাইরে আসতে হবে। এদেশের মানুষ চায় দু’বেলা ২ মুঠো পেট ভরে খেতে। চায় তার ভাতটা যেনো কেউ কেড়ে না নেয়।
এটা কি এটিএম শামসুল হুদা ও ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের কমিশনের মতো? এখানে পার্থক্যটা ১ হাজার আর ১। এরা তো ঘুম থেকেই ওঠে না। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের ২টি নির্দেশনা ছিলো। ১ ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সীমানা নির্ধারণ করা নিয়ে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে নির্বাচন কমিশনের ৩মাস সময় লেগেছে ওকালতনামা দাখিল করতেই।
অপরদিকে সীমানা নির্ধারণ করাতো নির্বাচন কমিশনের কাজ না। এটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় করবে। তারা আজ পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু করেনি। অথচ এটি ৫ মিনিটের কাজ।
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ইলেকশন কমিশন কী ফেরেশতা না কি যে আকাশ থেকে এসেছে! ৫/৬জন লোক দিয়ে তারা কি করবে। ওনাদের কথা কি ডিসি শুনবে, এসপি শুনবে"? ইসি সেনাবাহিনী চেয়ে পায় না। প্রয়োজনীয় লোকবল চেয়ে পায় না। তাহলে তারা কি করবে?
বলা হয়, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, যাদের বয়স ১২ তারাও ফেসবুকে স্বাধীন মতামত প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু তারাও বলবে না যে, ইসি স্বাধীন।
জনগণের অভিপ্রায় শাসকশ্রেণি বুঝবে না। সংবিধানের ১৫টি সংশোধনী হয়েছে। এই যে সংবিধানের বারবার ব্যবচ্ছেদ হয়েছে এর কোনোটি কি জনগণের অভিপ্রায় অনুসারে হয়েছে? রাষ্ট্র ও সরকারের কাজ হলো জনগণের পছন্দের জায়গা তৈরি করা। আমি কাকে ভোট দেবো সেটা আমি ঠিক করবো--এটাই গণতন্ত্র।
নাজমা আকতার আপনারা অনেকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শংকিত। সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে কথা বলেন। তবে কেন আদালতের রায় পুর্নবিবেচনার জন্য আবেদন করছেন না?
ক্রমান্বয়নে মানুষের ভোট প্রদানে অংশ গ্রহণ বাড়ছে। মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, “১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ শতাংশ। ৯৬ সালে ৭৫ শতাংশ, ২০০১ সালে ৭৬ শতাংশ। আর সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৬ শতাংশ। এর থেকে এটি স্পষ্ট মানুষ তার ভোটের ব্যাপারে সচেতন। তবে কেন বলা হয়, ভোটাধিকার এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় অগ্রসর নেই। মানুষ তো তার অধিকার প্রয়োগ করছে।
মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশের মানুষ খুব বেশি শিক্ষিত না হলেও তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তার অধিকার ক্ষুন্ন হলে সে রাস্তায় নামবে। তাদের ঠেকে নামানো যাবে। না। তারা তাদের ভালোটা জানে।
বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে ৫ হাজার ৭০০ নির্বাচন হয়েছে। কোনো নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এমন প্রমাণ দেখাতে কেউ পারবে না। আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার যদি উন্নতি হয় তবে কেন নির্বাচন কমিশনের অধীনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। তাই পদ্ধতির উন্নতি করতে হবে।
বিচারপতিদের চেয়ে অন্য পেশার প্রতিনিধি নিয়ে নির্বাচন কমিশন জনগণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভালো নির্বাচন করতে পারে বলেও জানান তিনি।
ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াৎ হোসেন ``কত পার্সেন্ট ভোট হলে ফেয়ার ইলেকশন হয়? ফেয়ার ইলেকশন বলতে আমরা কি বুঝব?``-- সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে এম সাখাওয়াৎ বলেন, “এখানে কোনো মাপকাঠি নেই। এক কথায় উত্তর দেওয়া যাবে না। দেখা গেল এক জায়গায় ২০ পার্সেন্ট ভোট পড়ল, সেখানে যদি কেউ ১৫ পার্সেন্ট পায়, তাহলে সে জয় পাচ্ছে। এটাকে কি ফেয়ার বলা যাবে? মূল কথা হলো, রাইট টু পার্টিসিপেট রাইট টু ভোট। ফেয়ার বলতে আমি বুঝি ভোটকেন্দ্র ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে।``
বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনগণের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। এখানে কলাগাছ দাঁড়ালেও যা তালগাছ দাঁড়ালেও তা। মানুষ মার্কা দেখে ভোট দেয়।
গোলাম মাওলা রনি আসলে একজন নেতা দরকার, যে সংস্কার করতে পারবে, যে জনগণের জন্য ত্যাগ করতে পারবে। এ ধরনের একজন নেতা হলে আবার আমরা দাঁড়িয়ে যেতে পারবো।
এ পর্যায়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে ভোটারদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম।
তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতেও মোট ভোটারের ২৮ থেকে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে না। উন্নত দেশগুলোতে এবং মানুষ যত শিক্ষিত হয়, ভোটের প্রতি তত বেশি উদাসীন হয়। তারা ভাবে আমার ভোট ছাড়াও যোগ্য প্রার্থী বের হয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, গরীব দেশে ভোটার বিক্রি হয় বেশি। আসলে জনগণের বড় অংশকে শিক্ষিত করা গেলে ভোটার এবং ভোটের কোয়ালিটি বাড়বে।
তিনি বলেন, অশিক্ষিত ভোটাররা হচ্ছেন ভেড়ার পাল। যখন যেখানে সুযোগ পায় সেখানে যায়।
ব্যারিস্টার হালিমের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ড. মুসতাক হোসেন বলেন, জনগণ কখনোই ভেড়ার পাল হতে পারে না।
সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বলেন, আইনের ব্যপারে সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি হচ্ছে আইন কি করে প্রয়োগ হয়? আইনের প্রয়োগ সবখানে এক রকম হয় না। গত নির্বাচনে তার চাক্ষুষ প্রমাণ আমি পেয়েছি।
ভোটারের যোগ্যতা নিয়ে অধ্যাপক হালিমের মতের সঙ্গে কিছুটা সংহতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এক এক জায়গায় প্রার্থী ও ভোটারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যেমন নোয়াখালি বা কুমিল্লায় একজন প্রার্থীর যে খরচ পড়বে, বরিশালে তা পড়বে না। আবার ঢাকায় হবে আরো অনেক বেশি। তাই স্থান বুঝে ভোটারদেরও পার্থক্য রয়েছে। এ পার্থক্য রয়েছে উপজেলা নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনেও।
তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য থাকে নির্বাচনে জেতা। জেতার পরে সিদ্ধান্ত নেয় কি কি করবে। তাই ভোটে জেতার জন্যে সব কৌশলই অবলম্বন করে।
ভোটারদের সর্ম্পকে তিনি বলেন, ৯১ সাল ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। সে সময় টাকা দিয়ে ভোটার কেনা যেতো। কিন্তু, এখন টাকা নিয়েও আবার অন্য প্রার্থীর কাছ থেকে বেশি অর্থ পেলে সেখানে চলে যায়।
ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ যখন যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা নিজেদের পছন্দ মতো সংবিধানকে ব্যবহার করেছেন। আমরা লন্ডনের মানুষ নই। আমরা বাংলাদেশি। আমাদের চিন্তা চেতনা আলাদা। জনগণ ভুল করেছে বলেই নুরনবী চৌধুরী শাওন, শামীম ওসমানরা সাংসদ হয়েছে। গণতান্ত্রিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা গ্রহণযোগ্য। তবে সব সময় সঠিক নয়।
মনে রাখতে হবে, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে শামীম ওসমানকে ৮০ হাজার মানুষ ভোট দিয়েছে। তার মানে ৮০ হাজার মানুষ সন্ত্রাসকে সমর্থন করেছে। কারণ তিনি দেশের ১০ সেরা সন্ত্রাসীর একজন।
প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী যখন ঢাকার বাইরে সফরে যান দেখুন, তাদের জন্য মানুষ কিভাবে কষ্ট করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। বাসের ছাদে পেছনে ঝুলে কিভাবে যায়। কারণ মানুষ তাদের ভালোবাসে। তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভালোবাসে।
বাংলাদেশে ১২৫ জন মেয়রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে উল্লেখ করে স্পষ্টভাষী এ সাংসদ বলেন, আমাকে ভোলার একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, যাকে আজ স্যালুট করি তাকে ১১ বছর আগে গ্রেফতার করেছিলাম।
তবে এর মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। আমি নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন ও ভোটাধিকার নিয়ে চিন্তিত নই। আমি চিন্তিত কিভাবে পরিবর্তন আসবে। সেটি নিয়ে।
দেখুন আজকের প্রজন্ম আমাদের রাজনীতিবিদকে আদর্শ মনে করে না। একসময় তরুণরা ভাবত, আমি বঙ্গবন্ধু হবো। ফজলুল হক হবো। এমনকি বলত আমি জিয়াউর রহমান হবো। আজকের প্রজন্ম কাকে পছন্দ করবে।
আমাদের গণতন্ত্রে থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে আনতে হবে। যেভাবেই হোক। তাদের রাজনীতিতে আসতে হবে। ডাকসু নেই। অন্যভাবে তাদের আনতে হবে। তবে শুধু নতুনদের রাজনীতিতে আনলেই হবে না। ভালোদের রাজনীতিতে আনতে হবে। যারা দক্ষ ও চিন্তায় সৎ এবং দেশকে নিয়ে ভাবেন, দেশপ্রেমিক তাদের রাজনীতিতে আনতে হবে।
ভালো বাংলাদেশ গড়তে এই মেধা সংগ্রহ করতে হবে। এজন্য রাজনীতিকদের এগিয়ে আসতে হবে। গণমাধ্যমের এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন করতে হবে। সবাই মিলে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।
নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ আমরা আলোচনায় অংশ নিয়েছিলাম এমন মানসিকতায় যে, শেষ পর্যন্ত একটি পর্যায়ে পৌছানো যাবে। এ ক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রনেতা মান্না ভাইয়ের একটি বক্তব্য আমার মনে আছে। তিনি তার বক্তৃতায় বলতেন, পরিমাণে বাড়তে বাড়তে গুণগত মানও বাড়তে থাকে।
আমরা একদল বলছি- বর্তমান সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে বাকশালী শাসন কায়েম করতে চায়। তারা জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধানের বিপক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছি, তারা আদালতের রায় এবং সংবিধানের কথা বলছি। অন্যদিকে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও ইনফরমালি বৈঠকের মাধ্যমে আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের আওতায় আনতে চায়।
এখন এ অবস্থায় আমরা কোনো ঐক্যমতে না পৌছে দেশকে কি ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্য তৈরি করার অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছি না?
ড. মোস্তাক হোসেন ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা যদি হয়, তাহলে সংঘাত অনিবার্য। কে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হবেন, কেয়ারটেকার সরকার আসবে কিনা সে প্রশ্নও রয়েছে। রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে, কেয়ারটেকার আসবে কিনা তা নির্ভর করছে এ রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর।
৯০ এর পর থেকে ডাকসুর নির্বাচন হয়নি। ছাত্রদের নির্বাচন নিয়েও কথা বলতে হবে। ছাত্রদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। যেভাবে দেশ চলছে, তা যদি তারা বদলাতে চাইতো যদি সত্যিকারের চেতনা আসতো, তাহলে ছাত্রদের মধ্যে পরিবর্তন আসতে বাধ্য। দেশ যেভাবে চলছে, এভাবে চললে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করতে পারি না।
লেনিন একটা কথা বলেছিলেন, আইন হচ্ছে একটা শ্রেণীর ইচ্ছা অনিচ্ছার প্রতিফলন, যাদের হাতে ক্ষমতা আছে। জনগণের মধ্যে পছন্দ করার স্বাধীনতা কত জনের আছে তা এখন ভাবতে হবে।
মাহমুদুর রহমান মান্না কয়েকদিন ধরে বন্ধুরা বলছেন, সাবধান! মধ্যরাতের মুক্ত বাঘ তোমরা। এটাও সত্যি, যারা টক শোতে যান, প্রধানমন্ত্রী তাদের হুমকি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পরোক্ষভাবে যে হুমকি দিয়েছেন তা সবাই বুঝলেও মুখে কিছু বলছে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, মধ্যরাতে টেলিভিশনের টক শোতে আমাদের গলা কাটতে, আমাদের ধ্বংস করতে ব্যস্ত থাকে সবাই। ঘুম কামাই দিয়ে রাত জেগে টক শো করে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।
আমাদের ভোটের অধিকার রয়েছে, কিন্তু দেখার ব্যাপার হচ্ছে, অধিকারের প্রয়োগ করতে পারছি কি না? ধরেন কাপাসিয়া নির্বাচন কি ন্যায্য ছিল? নীতিগতভাবে বৈধ হয়েছে ?
সাংসদ গোলাম মাওলা রনির প্রতি প্রশ্ন রেখে মান্না বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে হয়তো ভোটারের সংখ্যা ডাবল হতো, কিন্তু আপনি কি এ কথা বলতে পারবেন?
এরশাদ ছিলেন স্বৈরাচার। এরপরও তিনি ২ বার ডাকসু নির্বাচন দিয়েছেন। অথচ হাসিনা-খালেদা একবারও দেননি।
আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ``উনি বলে দিয়েছেন, আমি এ মন্ত্রিসভায় স্বস্তি বোধ করবো না। উনি প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন। তার মতো নেতা ডাকসুই তৈরি করেছে।``
আমরা গণতন্ত্রের কথা বলছি, অথচ এখানে এখনো ভোটের আগের রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়, যেন ভোট কেন্দ্রে যেতে না পারে। আসলে আমরা ভিন্নমত পছন্দ করি না, গুরুত্ব দিতে চাই না।
আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মান্না বলেন, শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার যে পরিমাণ জনপ্রিয়তা রয়েছে, মানুষ একই পরিমাণে তাদের ঘৃণাও করে।”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি। হঠাৎ করেই হয়ে যায় না। কিন্তু হঠাৎ করে কিভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদ পড়লো? নির্বাচন নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমস্যার সমাধান যতদিন না হবে, ততদিন অন্য সমাধান নিয়ে ভাবা যাচ্ছে না।”
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রজনীতির তুলনা করে মাহমুদুর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনীতির কাছে বিএনপি শিশু। তা না হলে কাপাসিয়া নির্বাচনের সুযোগ কি হাতছাড়া করে।”
জনগণের ব্যাপারে তিনি বলেন, “মেসি আর রোনালদোর খেলা বিনা টিকিটে দেখাতে চাইলে দেখবেন হাজার হাজার লোক আসবে। কিন্তু তাদের বলবেন, একটি আদর্শিক কথা প্রচার করতে করতে বাড়ি ফিরতে, সেটি তারা করবে না।”
``মানুষ শামীম ওসমানের মতো সন্ত্রাসীকে ৮০ হাজার ভোট দিয়েছে``--, আন্দালিব রহমান পার্থের এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ``সেখানে শামীম ওসমানের বদলে অন্য কেউ দাঁড়ালেও একই ভোট পেত। তাই দল অবশ্যই বড় ইস্যু।``
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন না দেওয়ার পেছনে সরকার দলীয় প্রার্থীদের হেরে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলেন তিনি।
সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দেশে সবাই সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতি করেছে। নিজেদের জন্যে সবকিছুকে ব্যবহার করছে।
সত্য তুলে ধরতে বাংলানিউজকে অনুরোধ করেন তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৫ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৩, ২০১২ সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, আহমেদ জুয়েল, জাকারিয়া মন্ডল ও মাহমুদ মেনন খান; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|