|

সঞ্জীব পুরোহিত-এর কবিতা
একটি মাকড়শা দেয় তারে পাহারা...
09 Oct 2012 05:59:47 PM Tuesday BdST
সঞ্জীব পুরোহিত বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
চোখ
বনলতার চোখে পাখির বিষ্ঠার মতো পিঁচুটি এডগার অ্যালেন পো’র প্রিয় হেলেন তাকে দিলো মার্কারি-গ্লাস। মনে হয় আজ তার চোখে চোখ-ওঠা রোগ, বিদেশি বীজাণু সংক্রমণ আসুন, চোখে চোখ রেখে দেখি তবে আপনার চোখ যেনো মুখোমুখি রাখা দু’টি দর্পণে দু’টিরি প্রতিচ্ছবি; প্রতিচ্ছবিতে প্রতিচ্ছবি তার ভেতরে আরেকটি, তারো ভেতরে দৃশ্যমান দ্বন্দ্ব
আমি গুনে গুনে আপনার চোখের গুণে বিস্মিত হই, ফটোকপি করার ফাঁকে ফাঁকে প্রথম দিন দেখেই কপি করেছি মগজে, জেনেছি ও চোখে পৃথিবী দেখলে অতল থেকে অতলান্তের তন্দ্রা-বিলাস স্বপ্ন-জাগরণ একসাথে টের পাওয়া যায়, এ চোখ সহজাত সহজিয়ায় ঢেকে দেয় আজীবনের সকল কল্মিলতা, ঘাসলতা কিংবা বনলতার চোখদের;—
আপনার চোখ কবিতাজীবাণুতে ভরা এ চোখে চোখ রেখে মিথ্যে বলতে পারলে নরহত্যা করা যায়।
শিশুপাঠ সোহেল অমিতাভ, কবিবরেষু
এরপর একদিন সত্যি সত্যি বাঘ এলো। পাড়ার লোকরা লেজ উঁচিয়ে বাঘকে দেখলো মাঠে যেতে। অথচ রাখাল বালকের চিৎকার পেলো না শুনতে। বরং ভেসে আসছে বাঁশির সুর। লাঠি-সোঁটা নিয়ে হাজির হয়ে দেখে আজব কাণ্ড! বাঘ সত্যি সত্যিই ওর মামা ব’নে গেছে!
২. একদিন স্কুল পালানো এক কিশোর গেছে পশুদের অলিম্পিক দেখতে। তখন সাঁঝ হয় হয়। জুরিরাও পড়েছে বিপাকে। ঘন ঘন দেখছে ঘড়ি। ব্যাপার কী দেখতে ছেলেটি একটু এগোলো...
দ্যাখে, ঝোপের নিচে খরগোশ ঘুমিয়ে আছে। আর কচ্ছপ ঘাসফুলের ডাঁটে সুড়সুড়ি দিয়ে জাগানোর চেষ্টা করছে। শেষমেষ দু’জন কাঁধে কাঁধ রেখে ‘আমরা সবাই রাজা’ গাইতে গাইতে এগিয়ে গেলো, প্রতিযোগিতার নোংরা যুদ্ধকে ফেলে পেছনে...
খুনি
ঝাউগাছের সঘন পাতার ফাঁক গলে দড়ি হয়ে ঢুকছিলো প্রথম রোদ্দুর। হাঁটার জন্য বেরুতাম। হাঁটা আর হতো না। এ গাছের নিচে কংক্রিটের বেঞ্চিতে শুধু কথার মেদ বাড়ছিলো। দড়ি বেয়ে বেয়ে নেমে এলো সোনার মাকড়শা, আকাশ থেকে তোমার সকাশে ওর তামাশা দেখছিলাম। তোমার ঠোঁটের, নাকের চারপাশ ঘিরে সে বুনে চলছিলো সোনালি জাল। ধীরে ধীরে জড়িয়ে যাচ্ছিলে। নার্সারি স্কুলে বর্ণচোরার খেলা দেখিয়েছিলো এক জাদুকর। তার চোখ বরাবর ওড়ানো পালকের— বারবার রঙ পাল্টানো ফিক ফিক হাসি শুনেছি। সে হাসির গুঁড়ো মেখে নিয়েছিলো এক ফ্রক পরা কিশোরীর মুখ। সে মুখ আবার হয়েছে জাগরুক—
ঘুম যদি ভাঙে দেরিতে তাই ট্র্যাকস্যুট পরে সারারাত করেছি পায়চারি। সারারাত দেয়ালে ঝুলে থাকা জীবনানন্দ ডান দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে দেখছিলেন। সুনিশ্চিত হতে ঘরের কোণায় কোণায় দাঁড়িয়েছি। রাতভর ওঁর মণির নড়াচড়া পেয়েছি টের। হলুদ তোয়ালে ফ্রেমে জড়াতেই ঘুম নেমেছিলো চোখে।
আজ যেদিকে তাকাই সেদিকেই সরে সরে যাচ্ছিলো মাকড়শাটি। এক সোনালি মাকড়শা। ভয়ে ভয়ে তোমার বুকে তাকাতেই গলা বেয়ে ওটি নেমে এলো তড়িঘড়ি। দু’টি মাংসপিণ্ড হয়ে উঠলো সোনার। সোনার আপেল ঘরে আনার ভরসা পেলাম না।
ঘরে বাস করে এক খুনি। তাকে দেখে ঘুমাতে পারেন না জীবনানন্দ দাশ। একদিন এ ঘরে সোনার ডিম দেয়া রাজহাঁস কাটা হয়েছিলো। একসাথে সব ডিমের আশায়। মাঝে মাঝে রেগুলেটরের বাড়াবাড়িতে শাদা হাওয়ায় হাজির হয় ইতস্তত লুকানো তার সোনালি পালক। বৈদ্যুতিক পাখার সাথে ঘুরে ঘুরে নাচে। নিউটনের পতনমুখি আপেল, সোনার আপেল হয়ে পড়ে থাকে ঘাসে। একটি মাকড়শা দেয় তারে পাহারা...
বাংলাদেশ : ১৭১০ ঘণ্টা, ০৯ অক্টোবর, ২০১২
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|